মন পবনের নাও : রেনেলের বিবরণ

সিলেটের কলেক্টার ছিলেন লিগুসে নামক একজন ইংরেজ। তিনি সিলেট থেকে কুড়িটি জাহাজ বোঝাই করে চাল পাঠান মাদ্রাজে। এই নৌবহরের একেকটি জাহাজে চাল ছিল চারশ টন। মানে, বারো হাজার মণ।

১৭৮৮ সালের কথা। কালো দিনের ফরমান

১৭৮৯ সাল। তারিখ ১৪ ই জানুয়ারি। আমাদের নাওয়ের ইতিহাসের কালো দিবস। এই তারিখে ইংরেজ সরকার একটি ফরমান জারী করলো। তারা আইন করে দিল, বড় নৌকা তৈরি করা চলবে না।

দশটির বেশি দাঁড় আছে যে নৌকায়। চাঁদপুরের সেই ‘পঞ্চ ওয়েস’ নৌকা তৈরি নিষিদ্ধ হলো।

চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হাত লম্বা। আড়াই থেকে চার হাত চওড়া। নাম তার ‘লুখা’ নৌকা। সে নৌকা তৈরিও বন্ধ হলো।

তিরিশ থেকে সত্তুর হাত লম্বা। তিন থেকে পাঁচ হাত চওড়া জেলিয়া নৌকা। তার বিরুদ্ধেও একই হুকুম।

আইন করা হলোঃ এসব নৌকা কোথাও দেখা গেলে ইংরেজ সরকার সেগুলো দখল করে নেবে।

আরো বলা হলোঃ কোন জমিদার তার এলাকায় ইংরেজ সরকারের লিখিত আদেশ ছাড়া নৌযান তৈরি করতে পারবে না। মেরামত করতে পারবে না। হুকুম অমান্য করলে নৌকা ইংরেজ সরকার দখল করে নিতে পারবে।
তখনো বাংলাদেশের নৌশিল্পে নিয়োজিত ছিল তিরিশ হাজার কারিগর। লিখেছেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর ভূমি জরিপ কর্মকর্তা জেমস রেনেল।