মন পবনের নাও : আলকরন ও সুলুক বহরের কথা

আমাদের নৌকার দেহে নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। একেকটির একেক নাম। আগের দিনে হাইলকে বলা হতো দাঁড় বা পাটওয়ালা। মাস্তুলকে বলা হতো মালুম কাষ্ঠ। ছইকে বলা হতো ছইঘর। এছাড়াও পাল, দাঁড়, নোঙ্গর, তলা। এসব নাম চালু আছে অনেক আগ থেকে। হাজার বছর পাড়ি দিয়ে এসব শব্দ আজো মানুষের মুখে মুখে চালু।

নাওয়ের ঐতিহ্যের সাথে আমাদের ভাষায় চালু হয়েছে অনেক বিদেশী শব্দ। মাস্তুল, ডাবু, তুরুব। কাবিস্তান, গারাবীল। সুলুব, বাহরা, মৌজ্জা। দৈবান, সর, লশকর। খালাসী, সারেং।

এসব শব্দ আমাদের নৌ চলাচলের নিজস্ব ভাষা।

চট্টগ্রামে এসব শব্দের চল সবচে’ বেশি। আরবী ম’আল্লিম শব্দ পাল্টে মালুম হয়েছে। সুক্কান হয়েছে সুয়ান বা সুকানী। আরবী জলীবুত থেকে আমরা নেমেছি জালীবোটে। এমন আরো কত শব্দ!

এসব বিদেশী শব্দ নৌশিল্পের সাথে যুক্ত হয়ে আমাদের ভাষায় মিশে গেছে। আরবী ছাড়া অন্যান্য ভাষার শব্দও এসছে আমাদের ভাষায়। সেগুলোও নাও বেয়ে ভিড়েছে আমাদের বন্দরে। যেমন, সাম্পান এসেছে বার্মার থাম্মান থেকে।