কাগজ থেকে কাগজীটোলা : কাগজ তৈরির বাঁশের খাঁচা

মণ্ড থেকে কাগজ তৈরির জন্য বাঁশের খাঁচা ব্যবহার করা হতো। এই খাঁচাটির তলা ছিল সমতল। যে মাপের কাগজ হবে সে মাপের তৈরী হতো খাঁচার তলা। এই খাঁচাটি ম-ের মধ্যে ডুবানো হতো। তার ফলে খাঁচার তলায় কিছু মণ্ড উঠে আসতো। এরপর খাঁচাটি যত্নের সাথে এদিক-ওদিক হেলানো-দুলানো হতো। ফলে খাঁচার তলা মণ্ডের পাতলা আবরণে ছেয়ে যেত। মণ্ডের সেই পাতলা পর্দাটি খাঁচা থেকে একটা তক্তার ওপর রাখা হতো।

তক্তার ওপর কয়েক মিনিট থাকার ফলে উপরের পানি ঝরে যেতো। তারপর সে পাতলা পর্দা শুকনা মাটির দেয়ালে সেঁটে দেয়া হতো। দেয়াল শুকনা হলেও সেখানে কোন রোদ থাকতো না।

এ সময় রোদ লাগলে কাগজ নষ্ট হয়ে যাবার ভয় থাকতো। মাটির দেয়ালে রেখে কয়েক মিনিট শুকানোর পরই এই কাগজ খ- রোদে দেবার উপযুক্ত হতো।

কাগজ মণ্ডটি রোদে ভালোভাবে শুকানোর পর তাতে আতপ চালের মণ্ড তুলির সাহায্যে আলতোভাবে বুলিয়ে দেওয়া হতো। তারপর আবার রোদে শুকানোর পালা।

সবশেষে চাল মিশানো এই শুকনা কাগজটিকে মসৃণ পাথরের টুকরা বা নুড়ি দিয়ে পালিশ করা হতো। পালিশের কাজে অনেক সময় শামুকও ব্যবহার করা হতো।