কাগজ থেকে কাগজীটোলা : রক্তে রাঙা নীল

নীলচাষী সাদেক মোল্লা ও ক্যানি-রেনীদের কেচ্ছা

নীল বানরে সোনার বাংলা
কল্লে এবার ছারখার…
প্রজার আর প্রাণ বাঁচানো ভার।

কোন এক পল্লী কবি এভাবেই শুরু করেছেন আমাদের নীল শিল্পের কথা। নীল বানর ইংরেজ। তারা কুঠি গড়ে নানা জায়গায়। জোর করে নীল চাষ করায় চাষীদের। চাষীরা বাধ্য হয়ে ধানের জমিতে নীল ফলায়। ভাতের অভাবে না খেয়ে মরে। সোনার বাংলা ছারখার হয় ইংরেজ কুঠিয়ালদের অত্যাচারে।

ইংরেজরা আমাদের দেশ দখল করে ১৭৫৭ সালে। তারপর তারা শত শত নীল কুঠি গড়ে তোলে এ দেশে। প্রতিটি কুঠির সাথে জড়িয়ে ছিল মানুষের দুঃখ আর কান্নার অসংখ্য কাহিনী। বড় করুণ সে কাহিনী। এমনি এক নীলকুঠি ছিল কুষ্টিয়া জেলার কালিদহে।
সে কুঠি সম্পর্কে বলে গেছেন আরেকজন পল্লী কবি ঃ

শুন কুঠিয়ালের সমাচার
কালিদয়ে কুঠি যার
ক্যানি সাহেব কাইজ্যার করলে শুরু ।।
সে আউশের ক্ষেতে বোনে নীল
গব রায়তের হইল মুশকিল।

নীল চাষের দুঃখ নিয়ে এমনি কত ছড়া, কবিতা আর গান লেখা হয়েছে এদেশে। নীলের কথা মানেই চাষীদের দুঃখের কাহিনী। লোভী ইংরেজদের জুলুম-অত্যাচারের বৃত্তান্ত।

একদিকে ইংরেজ কুঠিয়াল। অন্যদিকে নিরিহ গরীব চাষী। ইংরেজরা বেশী মুনাফার লোভে অধিক জমিতে নীল দাদন করে। চাষীরা বাধ্য হয়ে তাদের ধানের ক্ষেতে নীল বোনে।

চাষীদের ঘরে চাল নেই। পকেটে পয়সা নেই। তাই তারা উপোস করে। তারা নীলের দাম পায় না। প্রতিবাদ করলে নেমে আসে জুলুম-নিপীড়ন। নীলের এ করুণ চিত্রই ভাসে আমাদের চোখে।