কাগজ থেকে কাগজীটোলা : মিসরের পিরামিডে নীলে রাঙা মসলিন

মিসরের পিড়ামিডে সাড়ে তিন হাজার বছরের পুরনো ফেরাউনের মমি। তাতে আমাদের দেশের মসলিন পাওয়া গেছে। সে মসলিন আমাদেরই নীল দিয়ে রং করা।

ছয় শতকের একজন পত্নি ছিলেন বরাহ মিহির। তার লেখা বই ‘ভারত সংহিতা’য় আছে নীল উৎপাদনের কথা। প্রাচীন যুগে আমাদের নীল রফতানী হতো গ্রীস ও রোমে। মধ্যযুগে নীলের বড় ক্রেতা ছিল ফ্রান্স, ইংল্যা-, জার্মানী।

তেরো শতকের মার্কোপোলোর ভ্রমণ কাহিনী থেকেও জানা যায় আমাদের নীলের কথা। ১২২৮ সালে আমাদের এ এলাকা থেকে ফ্রান্সের মার্সাই বন্দরে নীল যেতো বাগদাদ হয়ে। ষোল শতকে ইউরোপে নীলের চাহিদা বাড়তে থাকে। সম্রাট আকবরের সময় নীল ছিল এদেশের সবচে’ দামি কৃষিপণ্য। আবুল ফযল লিখেছেন, গমের তুলনায় তখন নীলের আনুপাতিক দাম ছিল আড়াই গুণেরও বেশী।

নীল চাষে লাভ বেশী। তাই নীলের জমির খাজনাও বেশী। ইংরেজরা আমাদের দেশ দখল করে ১৭৫৭ সালে। ১৭৮৮ সালে লর্ড কর্নওয়ালিসের এক বিবরণীতে বলা হয়, ইউরোপের যত নীল দরকার, বাংলাদেশ একাই তার বিরাট অংশ পূরণ করতে পারে।

ওষুধ হিসাবেও নীলের ব্যবহার ছিল। নীলের বীজ থেকে একপ্রকার তেল বা আরক তৈরী করা হতো। এই আরক মৃগীরোগ, স্নায়ুরোগ, ব্রঙ্কাইটিস, ক্ষত ইত্যাদি চিকিৎসায় ব্যবহার করা হতো।