কাগজ থেকে কাগজীটোলা : জোড়া জোড়া চৌবাচ্চায় নীল সাদা বুদবুদ

ফসল কাটার পর নীল গাছগুলো ধানের আঁটির মতো আগা-গোড়া করে রশিতে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হতো কুঠিতে। প্রত্যেক নীল কুঠিতে থাকতো পাথরের তৈরি অনেকগুলো চৌবাচ্চা।

এই চৌবাচ্চাগুলো বসানো থাকতো জোড়া জোড়া। একটি চৌবাচ্চার কিছুটা নীচে আরেকটি চৌবাচ্চা থাকতো। উপরের চৌবাচ্চায় পানিতে ডুবিয়ে দেয়া হতো নীল গাছ। নয়-দশ ঘন্টা পরে সমস্ত তরল পদার্থে ভীষণ আলোড়ন সৃষ্টি হতো। বুদ-বুদে ভরে যেতো পানির উপরের ভাগ। যেনো এক্ষুণি পানির ভিতর থেকে উঠে আসবে কোন জীনের বাদশাহ।

বুদবুদগুলো প্রথমে সাদা হতো। তারপর রং পাল্টাতে থাকতো। সবশেষে গাঢ় নীল রং হতো। পানি কিছুটা শান্ত হলে এর ওপর তামা রং-এর সর পড়তো। সে পানি গড়িয়ে নীচের চৌবাচ্চায় ফেলা হতো।