নীলের দাদন : আফ্রিকার ক্রীতদাস ও বাংলাদেশী ‘নীল-দাস’

বাংলাদেশের নীল-চাষীদের অবস্থা আমেরিকার এককালের নিগ্রো ক্রীতদাসের চাইতেও শোচনীয় ছিল। আমেরিকার সাদা চামড়ার লোকেরা নিগ্রো ক্রীতদাস কিনতো চড়া দামে। কিন্তু ইংরেজ ও এদেশী নীলকররা নীলচাষী ও তার পুরো পরিবারকে কিনে নিত মাত্র দু’টাকা দাদনের বিনিময়ে।

নিগ্রো ক্রীতদাসরা কাজ করতো মালিকের জমিতে। চাষের লাভ-লোকসানের দায়িত্ব মালিকের। কিন্তু আমাদের দেশের ‘ নীল-দাস’রা কাজ করতো তাদের নিজের জমিতে। এ দেশের চাষীরা চাষ করতো নিজের ব্যয়ে। কিন্তু ফসল পেত নীলকর। সেই ফসল নীলচাষীরা নিজ খরচে কুঠিতে পৌঁছে দিতে বাধ্য ছিল।

আমেরিকার ক্রীতদাসদেরকে তাদের মালিকরা ভরণ-পোষণ দিতো। কিন্তু নীলকরদের সেবা করতে গিয়ে বাংলাদেশের নীল-দাসরা স্ত্রী-পুত্রসহ উপোস করতো।