নীলের দাদন : কুঠিয়ালের লাঠিয়াল ও ‘শ্যামচাঁদ’

একবার নীলের দাদান নিলে সারা জীবন নীল চাষ করেও সে দাদানের চুক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যেতো না। কোন্ জমিতে নীল চাষ হবে, সেটাও নীলকররাই ঠিক করতো। নীল বোনার আগে ওই জমিতে অন্য কোন ফসল বুনতেও তারা পারতো না। নীলকররা সবচে’ ভালো জমি নীলের জন্য বেছে নিত। গোমস্তারা এক বিঘা জমি মাপার নামে আড়াই বিঘা জমি নিয়ে নিত।

ছয় বাণ্ডেল নীল সরবরাহ করে কৃষক পেত দুই বাণ্ডেলের দাম। সে টাকা আবার অনেকটাই ভাগ হয়ে যেত নীল কুঠির গোমস্তা, আমিন আর তাগাদাদারদের মাঝে। এসব কারণে কোন চাষী সহজে নীল চাষে রাজী হতো না।

নীলকর কুঠিয়ালরা নিষ্ঠুর অত্যাচার ও জুলুমের মাধ্যমে কৃষকদেরকে দাদনের চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করতো। এ জন্য চাষীদের ওপর হিংস্র পশুর মতো ঝাঁপিয়ে পড়তো কুঠির লাঠিয়াল। যখন তখন তারা মানুষ খুন করতো। চাষীদেরকে মাসের পর মাস কুঠির গুদামে আটকে রেখে অকথ্য অত্যাচার করা হতো।

নিরীহ নীল চাষীদের ওপর অত্যাচার করার জন্য চামড়া মোড়ানো ‘শ্যামচাঁদ’ নামক চাবুক ব্যবহার করা হতো। চাষীদের গরু-মহিষ আটকে রেখে খেতে না দিয়ে শুকিয়ে মারা হতো। গুন্ডা দিয়ে জমির ফসল নষ্ট করে, বাড়ি-ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে নীল বুনতে বাধ্য করা হতো।

এই জুলুম-অত্যাচারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার ক্ষমতাও নীলচাষীদের ছিল না। নীলকরদের কাছে আইন-আদালত, পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট সবাই ছিলেন সহায়।