নীলের দাদন : নীল বিদ্রোহী সাদেক মোল্লা

পদ্মা-যমুনা-ব্রহ্মপুত্র-ভাগিরথি-দোয়াব নদীর তীর ঘেঁষা নীল বিদ্রোহ সারাদেশকে তখন করে তুলছিল টালমাটাল। এ সময় পল্লীর এক নাম না জানা কবির কবিতা থেকে জানা যায় সাদেক মোল্লা নামক একজন নীল-বিদ্রোহীর কথা :
‘গুলিগোল্যা সাদেক মোল্লা
রেনীর দর্প করলে চূর’

এ ধরনের কত সাদেক মোল্যা তখন বুক টান করে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন নীলকরদের বিরুদ্ধে। ইংরেজ ও তাদের এদেশীয় দালালদের বিরুদ্ধে।
বাংলাদেশের শতকরা আশি ভাগ চাষী মুসলমান। তাই নীল বিদ্রোহে মুসলমানদের অংশই ছিল বেশী। নি¤œশ্রেণীর হিন্দুরাও আত্মরক্ষার এই সংগ্রামে শরিক ছিলেন মুসলমানদের সাথে।
আরেক নাম না জানা- পল্লী কবির এ গান থেকে জানা যায় কৃষক নেতা ছালু সরকারের প্রতিরোধের কথা :

ড্যামরায় আছে ছালু সরকার
করতে দেয় না নীলের কারবার
লাঠি মারে ড্যামরার পচা রায়।

ঊনিশ শতক শেষ হবার আগেই বাংলাদেশের নীল বিশ্বের বাজারে তার সব প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেছিল। দখল করেছিল শ্রেষ্ঠত্বের আসন। কিন্তু সে ব্যবসা ছিল বিদেশী বণিকদের কুক্ষিগত।
বিদেশীরা আমাদের সম্পদ লুট করে ফুলে-ফেঁপে উঠল। বিনিময়ে আমাদের চাষীরা পেল জুলুম আর বঞ্চনা। দুঃখ আর অবর্ণনীয় দুদর্শা।
নীল-চাষীদের দুঃখের কাহিনী নিয়ে চারণ কবিরা রচনা করেছেন অনেক প্রবাদ। এখনো গাঁয়ের মাঠে, ধান-পাট-সরিষা জমির আইলের কিনারে কান পাতলে শুনা যায় :

জমির শত্রু নীল
কাজের শত্রু ঢিল।