তোমার সীমান্তে আমার বসস্ত

তুমি দুরন্ত বৈশাখী ঝড়ের মতো এসে ঘুমন্ত প্রাণ জাগিয়ে গেলে
হারিয়ে গেলে দূর নীলিমায় বিজলী আগুন জ্বেলে,
ভাসিয়ে দিলে আঁখিজলে দুঃখ ব্যথার শুষ্ক শতদলে
চোখের আড়াল হয়ে ঠাঁই নিয়েছো অন্তরের অন্তঃস্থলে।

সীমার বাঁধন ছিড়ে যেতে পারিনি তাই করেছো অভিমান,
লুকিয়ে থেকে ডাক দাও তবু কেঁপে ওঠে প্রাণ।
তোমায় ছেড়ে দূরে থাকি বিশেষ কার্য- কারণে,
দেখা হবে তোমার সাথে সখা অন্য নতুন এক ভুবনে।

সব ভুলে যাই তবু নামটি তোমার আকাশ পানে গাঁথি,
তোমায় ভোলা যাবেনা চিরকালের সাথী।
যে ফুল ঝরেছে একদিন অবহেলায় মাটিতে,
তার সুরভী চির অমলিন আমার হৃদয় কুঠিতে।
তুমি চলে গেছো রেখে গেছো স্মৃতির মনিহার,
তবু মনে রেখো, তোমার সীমান্তে বসস্ত আমার।
……………………………………………

স্বদেশী সুখ

জন্মভূমি মা গো
কতদিন তোর কোলে ঘুমাইনি নিশ্চিন্তে
শুনিনি নদীর তীরে বসে কুলুকুলু ধ্বনি
জুড়াইনি শরীর মাগো তোর সবুজ প্রকৃতির ছায়ে
হৃদয়ের অভ্যন্তরে বিধেছিলো এক কষ্টের কন্টক অতৃপ্ততায়
নিজ কাজে ছিলাম ছেড়ে মা তোকে ঐ দূর ঠিকানায়
মাঝে মাঝে মনে হতো কখন ভাসবো স্বদেশ ভূমির সুখ সমুদ্রে
জীবনের সময় অবিরাম মত্ত অজানা সুখের নেশায়
কতদিন মাখিনি মাগো তোর বুকের ধূলোমাটি
পাইনি শিশিরভেজা সবুজের কোমল স্পর্শ
স্মৃতিরা শুধু গুমরে গুমরে কেঁদেছে হৃদয়ের আঙিনায়
কতদিনে ফিরব আমার মাতৃভূমি সোনার বাংলায়
কতদিন ঘুম ভাঙেনি আমলকীর ডালে ডাক শুনি ভোরের দোয়েল, টুনটুনির
হাঁটা হয়নি একাকী মেঠো পথে উড়িয়ে শাড়ির আঁচল
জ্বালা হয়নি সন্ধ্যা প্রদীপ খানি তুলসী তলে
বাজানো হয়নি শঙ্খধ্বনি ঠাকুর ঘরে
চার দেয়ালের বন্দী জীবনে সয়য় কাটতে না চায়
মনে শুধু মুক্ত বায়ু সেবনের ইচ্ছা জাগায়।
……………………………………………

বিনা সুতার মালা

সে আমার একটি রসালো সবুজ বৃক্ষ
আমি তার বুকে বুনো স্বর্ণলতা,
তার ওপর নির্ভর করে আমার বেঁচে থাকা।
তাকে নিবিড় আলিঙ্গনে জড়িয়ে বুঁদ হয়ে থাকি অপার শান্তিতে সারাবেলা,
সে আমার আহারে রুচি, সুখের নিদ্রা
প্রাণে শক্তির সন্ঞ্জীবনী সুধা
অসুখ নিরাময়ে বৈদ্যের বটিকা
দুরন্ত ঝড়ে আগলে রাখে তার ভালোবাসার প্রাচীরে।
সে আমার সকল বিপদে রক্ষা কবজ
জীবনের সব ভাবনায় হৃদয়ে সুখের দোলা!
সাঁঝ আকাশে জ্বলে ওঠা একটি সন্ধ্যাতারা
সে আমার অভিমানের ছন্দে লেখা নিত্য নতুন কাব্যকথা।
মনের সাথে মনের মিলে বিনা সুতায় গাঁথা কবিতার মালা।
……………………………………………

স্বাধীনতা তুমি

স্বাধীনতা তুমি
ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত নদীতে পাল তুলে যাওয়া
স্বাধীনতা তুমি
ঘুমন্ত শিশু; নববধূ; অসহায় বৃদ্ধার রক্তে বাংলার সোঁদা মাটির গন্ধে কলঙ্কিত হাওয়া;
স্বাধীনতা তুমি
বাঙালির স্বপ্নকে তছনছ করে বিদেশি কতিপয় জেনারেলের রক্তে হাত ধোওয়া
স্বাধীনতা তুমি
ঘাতকের উদ্যত বেয়নেটের বিষাক্ত ধারকে উপেক্ষা করে পাওয়া।

স্বাধীনতা তুমি
সন্তান হারা মায়ের ব্যাথিত হৃদয়ের কান্না মেশা
স্বাধীনতা তুমি
শত সহস্র বাঙালির চোখে মুক্তির নেশা
স্বাধীনতা তুমি
বাঙালির পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচনের গান
স্বাধীনতা তুমি
দুই লক্ষ সুবাসিত ফুলের আত্মদান।

স্বাধীনতা তুমি
আমার ধর্ষিতা বোনের গুমরে গুমরে কাঁদা
স্বাধীনতা তুমি
শত্রুদের হটিয়ে মাতৃভূমিকে বাঁচানোর সুর সাধা;
স্বাধীনতা তুমি
দীপ্র প্রেমের স্বদেশ চেতনায় একতাবদ্ধ
স্বাধীনতা তুমি
নয়মাস ব্যপী এক কঠিন ত্যাগের মুক্তিযুদ্ধ।

স্বাধীনতা তুমি
বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনকের স্বপ্ন
স্বাধীনতা তুমি
সারা দিনমান পাখির কলকাকলিতে মগ্ন
স্বাধীনতা তুমি
কোটি কোটি বাঙালির বজ্রকন্ঠে “জয় বাংলা ” শ্লোগান
স্বাধীনতা তুমি-
বাংলার আকাশে লাল সবুজের পতাকা উদীয়মান।
……………………………………………

জীবনের রহস্য

এ জীবন বড় বিচিত্রময়;
কেউ জানেনা তার গন্তব্য কোথায়?
সময়ের স্রোতে ঘুরে ঘুরে তার গতি বদলায়;
কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি এভাবে জীবন বয়ে যায়।

জীবনের আকাশে এই মেঘ এই রোদ্দুর;
দুঃখ- সুখের ঢেউয়ে দোলে জীবন সমুদ্দুর।
পথ চলতে চলতে জীবন জড়ায় ভালোবাসার মায়ায়;
পথ চলা শেষে ফিরে যায় নিজের আপন ঠিকানায়।

প্রেম প্রীতির বন্ধনে জীবন হয় পরিপূর্ণ,
কখনো জীবনের সব স্বপ্ন ভেঙে হয় চূর্ণবিচূর্ণ!
জীবনের পথে হেঁটে হেঁটে পথিক কত পথ হারায়;
এ পথ চলার শেষ হবে এক অনন্ত সীমানায়।

সব পাখি নীড়ে ফিরে ঠিক সন্ধ্যা বেলায়;
জীবন ছুটে চলে সম্মুখে সময়ের স্রোত ধারায়।
জীবন পদ্মপাতায় যেন শিশিরবিন্দু;
তল নেই জীবনের এ যেন এক রহস্য সিন্ধু।