দাসের কপাল

ঝির ঝির বায়ু এলো বাতায়ন ঠেলে
অনেক বছর গেছে চুপি চুপি ঝরি,
জোটেনি বিশুদ্ধ বায়ু কখনো কপালে
এখন বাতাস আসে; আসে না মজুরি।

মজুরের ভাগ্যে হায়! শুদ্ধ বায়ু নাই
কয়লার কালো ধোয়া ধুলি আর বালি,
তার সাথে যোগ হয় কালি এবং ছাই
এই নিয়ে চুপি চুপি রুটি রুজি খেলি।

কখনো রুটি হারায় বসে থাকি ঘরে
তখন বিশুদ্ধ বায়ু লাগে কিছু গায়,
যদিও ক্ষুধা তখন উপহাস করে
তবুও বিশুদ্ধ বায়ু হাসায় আমায়।

দাসের কপালে আছে অভাবের ছাপ,
সারাদিন খেটে যাবে নাই তার মাফ।
……………………………………………

আষাঢ়

কদম কেয়ার ডাল ফুলে ফুলে ভরা
তটিনী নটীর মতো নেচে নেচে চলে
বিরহী সখির কানে সখা কথা বলে
মৌসুমি বায়ুর চাপে কাঁদে রুক্ষ্ম খরা।

নরম মাটির বুকে মায়া আর মায়া
বিলের জলের কোলে হাসে মাছগুলো
বাতাসে প্রবল তোড় তবু নেই ধুলো
বিশাল আকাশ তলে আছে শান্ত ছায়া।

পাষাণ মনের কোনে জন্মে মায়ারাশি
হারয়ে কঠিন ভাষা আসে মধুবাণী,
সরায়ে ভীষণ তাপ থাকে শুধু পানি
সকল মানব মন যায় তাতে ভাসি।

আষাঢ়ে সরব তাই সবদেহ প্রাণ,
আকাশে বাতাসে ভাসে শুধু হাসি গান।
……………………………………………

এই দেহ লাশ হবে

তুমি আমি বেঁচে আছি কথা সত্য নয়
মরে যাবো লাশ হবো সত্য হলো তাই,
তবু যেন কারো মনে নাই মৃত্যু ভয়
সবাই ছুটেছে সুখে আরো কোথা পাই।

চোখের উপরে হায়! কতো তাজা প্রাণ
ঝরে যায় মরে যায় মুহূর্তের মধ্যে,
নাই কোন শক্তিধর দিবে পরিত্রাণ
মৃত্যুকে রুখার শক্তি নাই কারো সাধ্যে।

ওলি সাধু বুদ্ধ ভিক্ষু ডাক্তার বিজ্ঞানী
কেউ তাঁরা বেঁচে নাই ধরে চিরোকাল,
তাঁদের সবাইকে কিন্তু বিজ্ঞ বলে জানি
তবু তাঁরা চলে গেছে ছেড়ে মায়াজাল।

বেঁচে আছি মিছে কথা মরে যাবো সত্য,
এই দেহ লাশ হবে ভাবো সবে নিত্য।
……………………………………………

বাতাসে হারায় যাক

শিক্ষিত যুবক আজ হয়ে গেছে দাস
টানছে কষ্টের ঘানি সারা রাত দিন,
কাটছে দুঃখের সাথে তার বারো মাস
কখনো সংসার চলে করে অর্থ ঋণ।

আছে শিক্ষার সনদ আছে মেধা ভালো
তবুও টানছে ঘানি হয়ে কেনা দাস,
পায়না বেতন ঠিক; নাই মনে আলো
কষ্টের যন্ত্রণা নিয়ে করে বসবাস।

হারায় মান সম্মান কাজ করে যায়
কথার চাবুক খেয়ে রক্ত ঝরে মনে,
তবুও ভরে না মন মালিকের হায়!
অধিক মুনাফা চায় তারা প্রতিক্ষণে।

বাতাসে হারায় যাক এই দূরাচার,
করুক সবাই কাজ পেয়ে প্রাপ্য তার।
……………………………………………

হারাবে করোনা দানব

আবার উঠবে সূর্য কেটে যাবে মেঘ
হাসবে ধরায় প্রাণ; ঘ্রাণ দিবে ফুল,
হারাবে ঝড়ের শক্তি থেমে যাবে বেগ
আকাশে উড়বে পাখি কপোত বুলবুল।

যুগে যুগে বিশ্ব জুড়ে কতো ঝড় হায়!
ভেঙ্গেছে সুখের ঘর; লুটেছে জীবন,
আঁধার ধরার মাঝে দু’হাত বাড়ায়
হেসেছে কেবল একা নিষ্ঠুর মরণ।

আবার উঠেছে সূর্য কেটেছে আঁধার
হেসেছে নতুন ধরা; হেসেছে সাগর,
ফুটেছে গোলাপ যেনো মুখে বিধবার
দিয়েছে মধুর ঘ্রাণ ধুপ ও আগর।

আবার হাসবে বিশ্ব; হাসবে মানব,
হারাবে ধরার থেকে করোনা দানব।
……………………………………………

ঘুচে যাক দ্বন্দ্ব

মনের ভিতর যদি থাকে হিংসা দ্বেষ
ধুয়ে মুছে সাফ করো ওহে বন্ধুগণ,
হিংসার আগুনে পুড়ে হবে কিন্তু শেষ
তাই সবে সাফ করো হিংসা ভরা মন।

লাভ নাই হিংসা করে আছে বরং ক্ষতি
তবে কেন হিংসা করো ভেবে দেখ ভাই,
ফিরে এলে ভালো পথে লাভ আছে অতি
হিংসা দ্বেষ মনে পুষে কোন লাভ নাই।

হিংসা দ্বেষ করে শেষ গড়ো ভালো মন
সোজা পথে চলো হেঁটে হতে সবে দামী,
হিংসা মুক্ত মন নিয়ে ভাবো প্রতিক্ষণ
বেড়ে যাবে মান গুণ হবে সাথে নামি।

ভুলে যাই হিংসা দ্বেষ ভুলে যাই মন্দ,
থাকি যেন মিলে মিশে ঘুচে যাক দ্বন্দ্ব।
……………………………………………

প্রিয় জেলা নড়াইল

ছোট্ট জেলা নড়াইল যেন শান্ত নীড়
নাই কোন বাড়াবাড়ি নাই কোন দ্বন্দ্ব,
করে আছে জ্ঞানী গুণি এই গাঁয়ে ভীড়;
পথে ঘাটে হাটে মাঠে বহে সুধা গন্ধ।

কবি শিল্পী খেলোয়াড় বীর পীর মুনি
দিয়ে গেছে বাংলা মাকে তাঁরা কতো রত্ন,
দেশ ছেড়ে বিশ্বজুড়ে সেই নাম শুনি
সেই গুণে বাসিগণে পায় বিশ্বে যত্ন।

নদী খাল মাঠ বিল অতি মনোহর;
ধান পান গম ভুট্টা ফলে মাঠ ভরে,
সুখে দুখে মিলে মিশে আছে প্রতিঘর
যুগ যুগ মাস কাল দীর্ঘ দিন ধরে।

ভালোবাসে এই জেলা অধিবাসীগণে,
যেথা যায় ভেসে ওঠে প্রিয় জেলা মনে।
……………………………………………

নাচেরে কালবৈশাখী

নাচেরে কালবৈশাখী রুদ্ররূপ ধরি
ভেঙ্গে দেয় বাড়ি ঘর গাছপালা যতো,
তবুও থামে না নাচ ওমা মরি মরি
রুদ্ররূপী কালো ফনা চায় বলো কতো!

নিয়ে যায় সব কিছু তবু আরো চায়
আম জাম ধান পান ফুল ফল ডাল,
তবু্ও কালবৈশাখী নেচে চলে যায়
ঘুমুরের শব্দে ওঠে ভয়ংকর তাল।

শিশু কাঁদে বৃদ্ধ কাঁদে কাঁদে সব লোক
তবুও থামে না নাচ; চলে অবিরত,
ভয়ে কাঁপে মুখ বুক ভেজে দুই চোখ
সয়ে যায় সব লোকে ছোবল যতো।

এসো হে বৈশাখ তুমি; নিয়ে ভালো বর,
নিয়ো না পরাণ কেড়ে সাথে বাড়ি ঘর।
……………………………………………

বৃষ্টি

বৃষ্টি আসে ছন্দে ছন্দে রচিতে কবিতা
কাব্য শুধু লিখে যায় মস্ত কবি হয়ে
ছড়া রূপে নদী হয়ে যায় চলে বয়ে
দূর করে কষ্ট ক্লেশ আনে নিরবতা।
পড়ি সবে একা একা বৃষ্টির কবিতা
যতো মন্দ কালো অন্ধ হয়ে যায় দূর
মনে বাজে শুদ্ধ সুর পায়েতে নূপুর
ভালোবাসি কবি রূপে বৃষ্টিকে সর্বদা।

এসো বৃষ্টি চলে এসো রচিতে কবিতা
খাতা আছে পত্র আছে; আছে কালো কালি
লিখে দিলে ছন্দমালা পড়িবে সবিতা
খুঁটে খুঁটে পড়ে যাবে মাধুরি সে ঢালি
খুশি হয়ে যাবে কয়ে মজা কতো হা হা
সব ভুলে ঢুলে ঢুলে যাবে ছন্দ বলি।
……………………………………………

আসল অভাব

অভাব অভাব বলে কাঁদে সবে রোজ;
অভাবের তাড়নায় কেউ করে চুরি,
মুক্তি পেতে কেউ কেউ করে পথ খোঁজ
অভাবের যন্ত্রনায় মারে কেউ ছুরি।

অভাবের কালোপথ বড় অন্ধকার
পার হতে পথচারী হিমসিম খায়,
কারোর অভাবে শুধু রুটি দরকার
কেউ কেউ মনে প্রাণে টাকা কড়ি চায়।

অভাব নিয়ে কেউবা করে গবেষণা
কেউ পায় ফল কিছু; কেউ তা পায় না,
তাইতো অভাব সরে কখনো যায় না
আসল অভাব নিয়ে নেই কোন ভাবনা।

ন্যায়ের অভার যদি দূর হয়ে যায়,
ক্ষুধার অভাব সব থাকবে লুকায়।