বর্ষার ছড়া

বর্ষাকালে টিনের চালে
বৃষ্টি পড়ে টুপ-
একলা ঘরে ইচ্ছে করে
বসে আছি চুপ।

পাশের ঘরে রান্না করে
ইলশে কচুর লতা,
মায়ে বলেন-‘নিরব কেন
একটু বলো কথা’।

বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
ঝড়ে ঝমা ঝম্
ইচ্ছে করে এমন দিনে
খেতে আলুর দম।

ইচ্ছে করে ঝড়ের জলে
একটু ভিজে আসি,
ভয় করিনা বাঁধুক যতো
আসুক সর্দিকাশি।
……………………………………………

খুকির অভিমান

বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
ভরল ডোবা ভরল পুকুর
নদে এল বান
উঠতে পায়নি ভেলায় খুকি
করছে অভিমান।

বানের জলে নদীর তলে
কুমির না কি ছুটে চলে!
বলছে খুকির মায়,
এসব কিছু জেনেও খুকি
ভেলায় চড়তে চায়।
……………………………………………

বর্ষা এলে….

দোয়েল ডাকে মধুর সুরে
শহর থেকে অনেক দূরে
আমার ছোট গাঁ,
বাঁশ বাগানে সেথায় থাকে
কানি-বগির ছা।

বর্ষা এলে আমার মনে
অলি আসে কদম বনে
মাতে কেয়ার গন্ধে-
বৃষ্টি পড়ে মিষ্টি সুরে
সকাল হতে সন্ধ্যে।

আসব যখন সবুজ গাঁয়ে
উঠব আমি পানসি নায়ে
বৈঠা নিয়ে একা-
কাঁশবনের ঐ ঝোপের তলে
ডাহুক পাখির দেখা।

সকাল দুপুর মেঘলা আকাশ
হঠাৎ করে দমকা বাতাস
টাপুর টুপুর বৃষ্টি-
একলা বসে একলা মনে
হাজার ভাবনা সৃষ্টি।
……………………………………………

টপ্পা খেয়াল

বর্ষা এলে কন্ঠ ছেড়ে টপ্পা খেয়াল গায়,
কুনো ব্যাঙ খাটের তলে
কোলা ব্যাঙ ডোবার জলে
গেছো ব্যাঙ গাছের ডালে
গাইছে সবাই একই তালে
গানের তালে নাচে না কি! চার পায়ে দাপায়।

টপ্পা খেয়াল শুনতে এলো, খালের যতো মাছ,
বর্ষার জলে খেলা ফেলে
আসল তারা পাখনা মেলে
ব্যাঙের মূর্তি দেখল চেয়ে
ধরতে আসে ক্যামনে ধেয়ে
জীবন ভয়ে ছুটল তারা করতে পেরে আঁচ।
……………………………………………

বর্ষা মানে

আষাঢ় শ্রাবণ টাপুর টুপুর
বৃষ্টি ভেজা অলস দুপুর
বর্ষা মানে বৃষ্টি-
গাঁয়ের পথে হাঁটতে গিয়ে
অদ্ভুতুড়ে সৃষ্টি।

বর্ষা মানেই মেঘলা আকাশ
হঠাৎ করেই দমকা বাতাস
মেঘের চোখে পানি,
বর্ষা মানে বিশাল আকাশ
দূরন্ত অভিমানী।

মেঠো পথে পিচ্ছিল মাটি
বগল দাবা জুতোর পাটি
আঙ্গুল টিপে চলা,
বর্ষা মানে ঘরের দাওয়ায়
গল্প গুজব বলা।

সন্ধ্যে বেলা জোনাক আলো
বর্ষার আকাশ নিকশ কালো
মেঘের চাদর মুড়ে-
বর্ষা মানে আঁধার থেকে
জোসনা অনেক দূরে।

গাঁয়ের বধূর গল্পের আসর
নকশি কাঁথায় সুঁইয়ের আঁচর
দিনতো কাটে বেশ,
বর্ষা মানে আকাশ জুড়ে
মেঘের সমাবেশ।
……………………………………………

বিড়ালের মৎস চাষ

বিড়াল পুষি বেজায় খুশি বুদ্ধি পেয়ে মাথায়,
আর রবেনা আর শুবেনা অন্যের ছেঁড়া কাঁথায়।

মৎস চাষ ঋণে-
করবে এবার মাছের চাষ একটা পুকুর কিনে।

স্বাবলম্বী এবার হবে নিজে,
ভাবনা এলে ভালো লাগে কি যে!

ভাবনা যেমন কর্ম তেমন ছাড়ল মাছের পোনা,
অনেক হলো যায়না এখন গোনা।

আষাঢ় মাসে বন্যা এসে ভেসে গেলো সব,
বিড়াল মাসির কান্নাই হলো রব।
……………………………………………

আষাঢ়ে খেলা

বানিয়ে ভেলা
খেলছে খেলা
আষাঢ় মাসের জলে,
খেলছে খেলা
যায় যে বেলা
মেঘের আড়াল হলে।

ধরল দুটি
খলসে পুটি
ছুটল বাড়ির পানে,
মাছ ধরেছে,
বাজ পরেছে
এমন বুঝিই মানে।

বৃষ্টির জলে
খেলেই চলে
হয়না খোকার খেলা,
থামেনা খেলা
যায় যে বেলা
তবুও ভাসায় ভেলা।
……………………………………………

বর্ষার কবিতা

সারা রাতে বৃষ্টি পড়ে জানলা গেছে ভিজে,
ভরে গেছে ডোবা পুকুর বাকি আছে কি যে!
জলে ভরা ছপ ছপে ঐ উঠোনের পাশটা,
হেলে দুলে প্যাঁ’ক প্যাঁ’ক চলছে পাতি হাঁসটা।

গোমরা মুখো সূর্যি মামা মুখেতে নেই আলো,
ঘরের কোনে, ছাতার তলে দিন কাটে না ভালো।
ঝোপে ঝাড়ে উঠোন দোরে ভরে আছে জলে,
গাঁয়ের বধূ পিচ্ছিল পথে কেমন করে চলে?
কোলা ব্যাঙে জলের উপর দিলো যখন লাফ,
ভয়ের ঘোরে পিচলে পড়ে বলে-বাপরে বাপ।

মৎস চাষের পুকুর আজকে জলে গেছে ভেসে,
মাছের শোকে সকল জেলে কষ্ট করেন শেষে।
সকাল হতেই বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছে যে টুপ টাপ,
একঘেঁয়ে আজ শব্দ শুধুই, বাকি সব চুপ চাপ।
……………………………………………

চড়ুই পাখির বাসা

তাল পাতাতে বাঁধে বাসা
সুখেই রবে এইতো আশা
চড়ুই পাখির মনে,
হঠাৎ করেই আসে যে ঝড়
তাল গাছের ঐ বনে।

ঘন আঁধারে ঢাকল আকাশ
হঠাৎ করেই উঠল বাতাস
যায়না কিছুই দেখা,
কেমন আছেন চড়ুই পাখি?
খোকা ভাবেন একা।

থামল যখন এ ঝড় তুফান
ফিরল তখন খোকার প্রাণ
ছুটল তালের তলে,
হয়নি ক্ষতি চড়ুই পাখির
চিৎকার করে বলে।
……………………………………………

বৃষ্টি পড়ে

বৃষ্টি পড়ে বৃষ্টি পড়ে
বৃষ্টি পড়ে চালে,
বৃষ্টি পড়ে ছন্দ সুরে
নিত্য নতুন তালে।

বৃষ্টি পড়ে মিষ্টি সুরে
কেয়া কদম ফুলে,
বৃষ্টি পড়ে ডোবা নালায়
শান্ত নদীর কুলে।

বৃষ্টি পড়ে কলা পাতায়
বৃষ্টি পড়ে জলে,
ছাতা মাথায় গাঁয়ের বধু
মেঠো পথে চলে।

বৃষ্টি পড়ে সকাল দুপুর
বৃষ্টি পড়ে রাতে-
বৃষ্টি পেয়ে সবার মনটা
খুশিতে আজ মাতে।