মানুষ কখনই স্বাধীন নয়। স্বাধীনতা একটি আকাঙ্খা যা প্রতিনিয়ত মানুষকে আগামী নির্মাণে ধাবিত করে। সেভাবে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে স্বাধীন হবে। কিন্তু তাকে স্বাধীনতা কখনই ধরা দেয় না। তাই সে একটি বিষয়ে মুক্ত হতেই অন্য একটি বিষয় তাকে শিকল পরায়। সে কখনই স্বাধীন হয় না। অনেকে মনে করে মৃত্যুলই তাকে স্বাধীন করে। কিন্তু বিশ্বাসী মন মনে করে পরবর্তী জীবন তার শুরু হয়। অতএব সে এখানেও স্বাধীন নয়। তাই স্বাধীনতা একটি আকাঙ্খা। আমারা সেই আকাঙ্খাকে চিরস্থায়ী করার জন্য একটি প্রয়াস নিয়েছি। আশা করি আমাদের এই প্রচেষ্টা আপনাদের উজ্জিবিত করবে এবং আগামী নির্মাণে আমাদের সহযোগি হিসেবে চলার সাথী পাব। –আফসার নিজাম, সম্পাদক, মোলাকাত।

সূ চী প ত্র
দগ্ধ স্বাধীনতা :: তৈমুর খান
ভয়াল এক রাতের কথা :: আমিনুল ইসলাম
কাল-রাত :: জলিল আহমেদ
এরই নাম বুঝি স্বাধিনতা! :: রেবেকা রহমান
একটি ডাক ও খোলা বোতলের ঢেউ :: মোস্তফা হায়দার
স্বাধীনতার ইতিকথা কিংবা আত্মত্যাগের কথকতা :: কমল কুজুর
দেশ-মাটি :: সালমা বিনতে শামছ
স্বপ্ন ছিল যেমন :: হুসাইন দিলাওয়ার
স্বাধীনতা :: মো: আমজাদ হোসাইন
স্বাধীনতার বীজ :: আনোয়ার আল ফারুক
একটি গল্প শোন :: হাসান আবু নাঈম
হায় স্বাধীনতা :: নাজমুল হোসেন
স্বাধীনতার গান :: ওবায়দুল মুন্সী
মার্চ এলে :: কবির কাঞ্চন
ধানমন্ডির লেক :: আবু রাইহান
স্বাধীনতা আসে :: শাহীন খান
স্বাধীনতার ছড়া :: মহিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ
ওই পতাকা আমার :: ইদ্রিস মণ্ডল
স্বাধীনতা এনেছি :: আলাউদ্দিন হোসেন

দগ্ধ স্বাধীনতা
তৈমুর খান

অসত্য রোদেই আমাদের সমূহ প্রস্তাব পড়ে থাক
জলমঙ্গলের দেশে যেমন বন্যার মায়া
ভাঙন আর পলির স্বাক্ষর রেখে যায়
তেমনি পতাকা উড়ুক, পতাকার নিচে স্বাধীন জনতা

দু একটা হাততালি সামর্থ্য চিহ্ন হয়ে
নরম সতর্ক বাঁশি বেজে উঠতে পারে
দ্বিধাহীন অথর্বের অন্তিম বারুদে
যেমন বিদ্রোহ জ্বলে কালের সীমানায়
বরং ধন্যবাদ গুছিয়ে রেখে চলো
বদান্যতা যদিও অগোছালো
নিয়মতান্ত্রিক কিছু ফর্দের তালিকা
যেখানে অসত্যের রোদে সূর্যের মুখ ঢাকা

আজ যে বিরামহীন ইতিহাসে স্পষ্টত
বিভাজন রেখা আর দাউদাউ ক্রুদ্ধ অগ্নিশিখা
উড়ে আসে ছাই, পড়ে থাকে দগ্ধ স্বাধীনতা !

ভয়াল এক রাতের কথা
আমিনুল ইসলাম

সার্চ সার্চ সার্চ
সৈন্য করে মার্চ
অপারেশন রাতে
সার্চলাইট সার্চ।

গুলি গুলি গুলি
উড়ে মাথার খুলি
গুলির শব্দে ভীত
পালায় পাখিগুলি।

পিলখানা ছাই
রাজারবাগও তাই
হলে হলে লাশ
আমার বোন ও ভাই।

আগুন আগুন আগুন
শহর পোড়া বাগুন
যে যেখানে আছেন
কোমর বেঁধে জাগুন!

সাতই মার্চের ডাক
কোথাও নেই ফাঁক
যার হাতে যা আছে
তাই করুন তাক।

কাল-রাত
জলিল আহমেদ

ছাদের অন্ধকার ব্যবচ্ছেদ করে কিছু একটা খুঁজে বেড়ালাম
দূরান্তের বাল্ববিচ্ছুরিত আলোকসন্ত্রাসে বুজে যাচ্ছিল চশমার চোখ।
গতবছরের মোমবাতিগুলি একাত্তুর হয়েছিল কতক্ষণ
আমি হা-দাঁড়িয়ে অন্ধকার গুণলাম, কালো নয় কাল-রাত
নেমে আসছিলো গভীর ভাষায়…
অতর্কিতে নেমে আসা লাশের মিছিল রাজপথ দাপিয়ে বেড়ালো!

হতভম্ব ছাদের কোণায় মোমবাতিটা নিবু নিবু কাঁপতেছিল
বিশ্বতাড়ানো করোনা উল্লাসে!
দুইহাজারকুড়ি এসে পোশাক বদলিয়ে হয়ে গেল শাণিত একাত্তুর।

বাংলাদেশ শব্দটি মানচিত্র ভেদ করে বেরিয়ে আসছিল ততোক্ষণে-
মাথায় নিয়ে গর্বিত লাল-সবুজ ও উত্তোলিত বজ্রতর্জনী।

এরই নাম বুঝি স্বাধিনতা!
রেবেকা রহমান

তারপর একদিন শেষ রাতে
মুয়াজ্জিনের আযান হলে—
নানা উঠে যাবেন মসজিদে

ভোর হলে—
কান্তা মাসি ফুল কুড়াবেন
তারপর মন্দিরে জেগে উঠবেন পুরোহিত

সকাল বেলায় চন্দ্রিমা উদ্যান ছেয়ে যাবে—
মানুষ

স্কুলের বাচ্চাগুলো কাঁধে ব্যাগ নিয়ে
ভরে দেবে রাজপথ!

জ্যামে আটকে যাবে গাড়ি

একদিন বন্ধুর সাথে কোলাকুলি হবে ঠিক!
চুমোয় চুমোয় ঢেকে যাবে দশদিক…

বলে গেলো কেউ খবরে

যেদিন কলিং বেলে- বেজে উঠবে সাত সকাল
শুরু হবে
ঝনঝন, ঝমরঝমর, ক্যাঁচক্যাঁচ, ঘষাঘষি
ভুঁ…

একটি ডাক ও খোলা বোতলের ঢেউ
মোস্তফা হায়দার

একটি খোলা বোতল দেখে চিৎকার না করে
বোতলের ভেতর বুদ বুদ করা জলের কথা ভাবুন,
একজীবনের পরিধির কাছে কতই না অসহায় সময়!
ঝিঁ ঝিঁ পোকার দেহের মতো রং নিয়েও
তুমি চলমান
পঙ্গপালের দৌঁড়ানিতে কাঁপছে ভেতরাত্মা!

একটি বোতলের ছিপি খোলা ঢেউ দেখেছো নিশ্চয়
একবারও ভাবোনি – তা কী বিষাদের নাকি ছলনার!
সবুজের প্রান্তরেখার কোলে ভাসে দেহের দগ্ধতা
লোভ আর ভোগের ইচ্ছের কাছে
তোমরা বড় নতজানু
ভাঙতে ভাঙতে একেকটা হয়েছো
হায়েনার রুপি জগৎশেঠ!

দু’তারা খ্যাত ঠোঁট দুটো লিপিষ্টিকে
আঁটকা মনে করলেও
দাঁতের ফাঁক গলে যে হাঁসি দাও
তা যেন লেংটির নাচন!
তোমার বোগলদাবাগিরির ফায়দাটুকু
ইচ্ছের কাছে বড় অসহায়
আইয়ুব আ: এর মতো পঁচন ক্রিয়া অথবা বিশ্বাসহীনতা
রাতের পর্দাকে তুলে নেবে একদল আঁতুড়গোষ্ঠি!

বোতলের ঝাঁকুনি খেতে খেতে
কণ্ঠকে দিয়েছো নোনাজলের কাছে বন্ধক
রাত আর দিন পার্থক্যের বাইরে রেখে
কর্মকে করেছো একমুঠো হিংসের চলমান সাঁকো
যে সাঁকোরা হাঁটতে জানে
জানে না হাঁটাতে!

বোতল আর বিশ্বাস
চাঁদের কাছে ভিক্ষে মাগে
সূর্যের কাছে রাখে আস্থার সবটুকু
বিকেলের হাঁটুগেঁড়ে বসা দিনের বিদায়ে
ইচ্ছেরা সব জড়ো হয় হারানোর সাদা কপিন ঘিরে!

ইতিহাস ;
ওরা বাঁচতে চায়,
ওদের বাঁচতে দিন।
আপনাকে বিক্রি করতে করতে উধ্বর্কাশে ভাসিয়েছে
মিথ্যা প্রলাপের এক বিষাক্ত নোনাঢেউ!

ঢেউ- আর সাঁতার কাটতে পারছে না,
পারছে না ডানাভাঙা পরিকে ডাক দিতে
যে ডাকে দাঁড়াতে পারতো আগামীর ভবিষ্যৎ
যে ডাকে টিকে যেতো স্বাধীনতার স্বাধিন।

স্বাধীনতার ইতিকথা কিংবা আত্মত্যাগের কথকতা
কমল কুজুর

আকাশের টকটকে লাল রঙের সূর্যটা তখনো মেলেনি চোখ
মাঠের সবুজ দুর্বা ঘাস হালকা শিশিরের ছোঁয়া পেয়ে হয়ে ওঠেনি লজ্জারাঙা
সুজন মাঝি গাইতে শুরু করেনি তার
ভাটিয়ালি গান
বনের দোয়েল শালিক কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত করে তোলেনি আকাশ বাতাস ;
তবুও কিছু জলপাই রঙের যন্ত্রদানব আসে নেমে বাংলার আকাশে
হাজার হাজার পাক সেনা পড়ে ঝাঁপিয়ে ঘুমন্ত নগরীর অসহায় বাঙালির প’রে
হিংস্রতার ধ্বজা ধরে।

কী এক নিদারুণ নির্মমতায় নিমেষেই লন্ডভন্ড করে ফেলে সোনার বাংলা আমার,
লাখো লাখো প্রাণ দেয় বলিদান
লাখো মা-বোন হারায় সম্ভ্রম
পিচঢালা পথ রক্তে হয় লাল;
দিগন্ত জোড়া সবুজ মাঠ রাঙা সূর্যের কিরণ মেখে গায় তবু ছড়ায়
-দৃপ্ত শপথ ।

লাঙল জোয়াল কাঁধে আসে ছুটে কৃষক
কাস্তে হাতে আসে ছুটে মজুর
কামার পেশিবহুল হাতে নেয় তুলে অস্ত্র
ছাত্র শিক্ষক ডাক্তার বুদ্ধিজীবী গবেষক
কিশোর বৃদ্ধ যুবতী ও যুবক
সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁচা‌তে মান বাংলার
হাজারো রক্ত- স্বপ্নক্ষয়ে
স্বাধীনতা আমাদের হাতে ধরা দেয়।

দেশ-মাটি
সালমা বিনতে শামছ

বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বড় আপন, বড়ই মমতা।
লক্ষ জীবন ত্যাগে
অর্জিত লাল-সবুজ পতাকা।
এ মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে
শত হাসি মাখা মুখ
দেশের জন্য যারা বিলিয়ে দিয়েছে
জীবনের সকল সুখ।

ভুলে যাই সে সকল সোনালী মানুষকে
ছুড়ে ফেলি অতীতের কারাগারে,
স্বাধীন করতে দেশকে তারা
কত প্রহর কাটিয়েছে অনাহারে।

আমার দেশ আমার মাটি,
রাখবো তাহার মান,
দেশের তরে যাক না সময়
কিংবা দেহের প্রাণ।

সকল শহীদের জীবন ত্যাগ
শ্রদ্ধার সাথে করি স্মরণ,
যত দিন রবে এ দেশের মাটি
প্রণাম রবে তাদের চরণ।

স্বপ্ন ছিল যেমন
হুসাইন দিলাওয়ার

লক্ষ বীর জান দিয়েছে
করতে স্বাধীন দেশ
তবু কেন এদেশ হতে
হয় না দুখের শেষ ?
বিভেদ কেন যায় না ঘুচে
হয় না সবাই আপন
হিংসা বিভেদ ধ্বংসলীলা
জাগায় মনে কাঁপন !
গরীব চাষা দাম পায় না
ফসল করে চাষ
শ্রমিক শুধু খেঁটেই মরে
দুখের সাথে বাস ।
ঢাকা শহর জ্যামের নগর
কমায় আয়ু মোদের
কেমন করে বলবে তুমি
চেষ্টা সফল ওদের ?
সালাম জানাই বীর সৈনিক
দিয়ো না ভৎসনা
আমরা হলাম নবীন কিশোর
খাঁটি কাচা সোনা ।
গড়বো মোরা এই দেশটা
স্বপ্ন ছিল যেমন
কল্পনাতে ভাবতে স্বদেশ
এক্কেবারে তেমন ।

স্বাধীনতা
মো: আমজাদ হোসাইন

স্বাধীনতা,
পিয়ানোর করুণ সুর!যে সুর জানান দিয়েছিলো ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে একটি জাতী,হারাতে চলেছে নিজস্ব স্বকীয়তা,আবদ্ধ হতে চলেছে নির্মম কড়াঘাতে!

স্বাধীনতা,
কি নির্মম একটি শব্দ!যখন ওরা মায়ের বুলি কেড়ে নিয়েছিলো,বুলেটে জর্জরিত করেছিলো দামাল ছেলের কোমল বুক,বাবার মুখের হাসি মলিন করে,হৃদয়ে গেঁথে দিয়েছিলো করুণ শোক!

স্বাধীনতা,
কি অস্ফুট এক বুলি!যখন হায়েনা চক্ষুরা গিলে খেতো মায়েদের,খুবলে খুবলে বন্দুকের বেনটের আঘাত লেগেছিলো বুকে,পেটে,কপালে!

স্বাধীনতা,
সেই ২রা মার্চ!যেদিনে একটি লাল সবুজের কাপড়, বাংলার বুক চিরে জানান দিয়েছিলো,এই যে আমি উড়ব তোমাদের রক্তের বিনিময়ে!

স্বাধীনতা,
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ!যে ভাষণে নতুন করে জন্ম নিয়েছিলো এই বাংলার সকল কৃষক,মজুর,শ্রমিকের রক্তের অর্জিত একটি শব্দ “স্বাধীনতা”

স্বাধীনতা,
২৫শে মার্চের সেই কালোরাত!যে রাতে বাবা পুত্র হারিয়েছিলো,বোন ভাই হারিয়েছিলো,ভাই বোন হারিয়েছিলো,সন্তান মা হারিয়েছিলো,মা সন্তান হারিয়েছিলো!

স্বাধীনতা,
একটি জাতীর বিজয়ের ঘোষণা!১৬ই ডিসেম্বরের সেইদিনে যখন জাতী রক্তের,সম্ভ্রমের,অর্ধাহারের,অনাহারের বিনিময়ে পেয়েছিলো এক টুকরো লালসবুজের কাপড়!যার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঘ্রাণ ছড়িয়ে কেবল ধ্বনিত হয়েছিলো একটি শব্দ “স্বাধীনতা”

স্বাধীনতা,
এক প্রবল চিৎকারের ধ্বনি!যে মা তার নাড়ি ছেড়া ধন হারিয়েছে,যে বাবা তার ভরসার লাঠি হারিয়েছে,যে বোন তার খুনসুঁটির আবাসস্থল হারিয়েছে,যে ভাই একটি কাঁধে হাত রাখার অপেক্ষায় অপেক্ষমান!

স্বাধীনতা,
ফেলানির আর্তনাদ!যে আর্তনাদের প্রতিটি শব্দে উচ্চারিত হয়েছিলো,দ্যাখো বাংলাদেশ আমি স্বাধীনতা পেয়েছি,যার জন্য জীবন দিয়ে ঝুলতে হয় কাঁটাতারের বেড়ায়!

স্বাধীনতা,
কি এক করুণ হাহাকার!তনু,নুসরাত কিংবা সেইসকল নারীদের হাহাকারের ধ্বনি,যে ধ্বনিতে রোজ নিয়মে নিষ্পেষিত হয় একটি শব্দ “স্বাধীনতা”

স্বাধীনতা,
মার খেয়ে পড়ে থাকা এক টুকরো শরীর!
বিশ্বজিৎ কিংবা নুর,পাহাড় কিংবা সমুদ্দুর,তোমাকে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকতে হবে!

স্বাধীনতা,
আযানের স্বকরুণ সুর!যে সুরের প্রতি ধ্বনিতে উচ্চারিত হয় তুমি কল্যাণের পথে এসো,তুমি শান্তির পথে এসো,তুমি এখানে পাবে স্বাধীনচেতার প্রয়াস,স্বাধীনতার প্রশস্ত শান্তি।

স্বাধীনতা,
তোমাকে চুপ থাকতে হবে!তোমার সত্যি বলা যাবেনা,সত্যি বললেই তোমাকে গুম হতে হবে,খুন হতে হবে!প্রতিবাদ করা যাবে না!প্রতিবাদ করলেই তোমাকে ধর্ষীতা হতে হবে,নস্টা,দুঃশ্চরিত্রা হতে হবে।

কারণ এখানে সত্য খায় না,মুল্যায়ন হয় না সত্যের,সত্যেরা মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে,অলিগলিতে,রাস্তায়,ঝোপঝাড়ে,শহরের ওই ওভারব্রিজে!

চলুন সকলে মিলে “স্বাধীনতা” শব্দটিকে তার মান ফিরিয়ে দেই,স্বকীয়তা ফিরিয়ে দেই,কথা বলার সাহস দেই,পথ চলার অনুপ্রেরণা জোগাই,মুখ থুবড়ে পড়া স্বাধীনতা যেন পৃথিবীর বুকে দাড়িয়ে বলতে পারে হ্যা আমি স্বাধীন,আমি শৃঙ্খল,আমি বাধাকে চূর্ণ করে,ভেংগে যাই যতো আবদ্ধ শিকল!

“স্বাধীনতা আমার আপনার অস্ফুট বুলি”

স্বাধীনতার বীজ
আনোয়ার আল ফারুক

বীজ বুনেছি সাতচল্লিশে স্বাধীনতার বীজ
কোনকালে কারোর কাছে দিইনি ভুমি লীজ,
স্বাধীনতা রক্তে কেনা
দাম শোধেছে বীরের সেনা;
এই সবুজটা আর কারো নয় আমাদেরই নিজ।

পাকবাহিনী কাড়তে চাইছে মায়ের মুখের বোল
সেই বায়ান্নে বেজে দিলাম বাঙলাভাষার ঢোল,
ভেস্তে গেলো নোংরামো ছল
কাজ দেয়নিতো বন্দুকের নল;
পাকবাহিনী খেলো শেষে গোলাপানির ঝোল।।

রক্তদামে একাত্তরে কিনলাম সবুজ ভুঁই
দিবানিশি লালসবুজটা মন-মননে ছুঁই,
সবুজ ছড়ায় জ্যোতির হাসি
তাইতো দেশকে ভালোবাসি;
এই যেনো এক নববধুর খোঁপায় পরা জুঁই।

ফের যদি কেউ এই সবুজে চায় যে দিতে হাত
উপড়ে দেবো সেই শকুনের বিষেল যতো দাঁত,
মটকে দেবো শকুনি ঘাড়
পাবে নাযে একটুও ছাড়;
জেনে রেখো শকুনেরা আমরা বীরের জাত।।

উপচে পড়ুক এই সবুজে সুখ পরশের বান
থাকুক বেঁচে চিরকালই লালসবুজের গান,
সবুজ আমার আশার আলো
এই সবুজটা থাকুক ভালো;
জীবন দিয়ে রাখবো ধরে লালসবুজের মান।

একটি গল্প শোন
হাসান আবু নাঈম

একটি গল্প শোন
লিখেছি আমরা ক জনা,
আমি সয়িম শোভন সারোয়ার
আর একজন অচেনা।।

তোতাঁর মোড় পেরিয়ে
কাছাঁমাটিয়া নদীটি ছাড়িয়ে
দু কদম হেঠেঁ গেলে
ছোট্র সেই গ্রাম,
দফাদার বাবার একটি ছেলে
নেতাই যার নাম।
বাবা মার স্বপ্ন ছিল
ছেলেটি হবে এদেশের বীরসেনা-

তবুও পাড়ার লোকের বকুনি তে
যাচ্ছে- তা,
মাস্টার মশাই কপাল ঠুকে
গোল্লায় গেল-তা।
এ নিয়ে কত যে মায়ের শাসনে
বলেছে কথায়-কথায়,
নুন আনতে যার পান্তা ফুরায়
নেতাজী তাকে কী মানায়?
হেসে হেসে বলত মাকে
দেখে নিও আমি হব এদেশের বীরসেনা-

মিছিল-মিটিং এ শ্লোগানে শ্লোগানে
আগে আগে থাকত,
সারাদিন – সারাবেলা দলে-দলে
এগাঁয় ওগাঁয় ছুটত।
যখন চারিদিকে মুখরিত জয়োল্লাস
মায়ের বুকে ফিরে এল
সেই নেতাইয়ের লাশ।
সত্যি এ অভাগা
জীবন দিয়ে এনে দিল
এদেশের স্বাধীনতা-
একটি গল্প শোন লিখেছি আমরা ক জনা,
আমি সয়িম শোভন সারোয়ার আর একজন অচেনা।।

হায় স্বাধীনতা
নাজমুল হোসেন

বুঝলে সুবোধ তারা আমাকে গল্প শোনায়
এ দেশ নাকি হয়েছে স্বাধীন
তারা আমাকে শোনায় মুক্তির কথা
তারা আমাকে শোনায় লাখো শহিদের কথা
তারা আমায় বলে আমরা আজাদী জাতি,,

আমার না তখন হাসি পায়
বিশ্বাস করো সুবোধ আমি লাখো শহিদের জন্য কষ্ট পাই
আমি মা বোনের ইজ্জতকে সম্মান জানাই
কিন্তু আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় এদেশ স্বাধীন।

সেদিন মুজিব নামে একটা ছেলে দিলো স্বাধীনতার ডাক
তৈরী হলো মুক্তি বাহিনী ছিলো তারা সাহসী বীরের ঝাক।
শুরু হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যুদ্ধ আর প্রতিবাদ
সে যুদ্ধ ন্যায়ের ছিলো, নিলো অনেকে মৃত্যুর পরম স্বাদ।
স্বাধীন হলো দেশটা আমার, উড়লো পতাকা গগনে
আমরা কি স্বাধীন আজ, প্রশ্ন জাগে মনের কোনে।

আমার কিছু উত্তর দাও
তখন আমি স্বীকৃতি দিবো এ দেশটা স্বাধীন

স্বাধীন যদি হয়ে থাকে মুজিব মরলো কেন
জিয়ার গায়ে বুলেটের দাগ, কেন বলো কেন?
স্বৈরাচারে প্রাণ দিলো সেই নুর হোসেন কেন
এত বছর পরে রাজাকারের দাপট, কেন বলো কেন?
৭১এ স্বাধীন হলে মরলো কেন এত এত লোক
তাদের প্রতি নেই কেন আমাদের কোন শোক?
পিলখানাতে মরলো কেন সেনা অফিসার এত
উন্নয়নের নামে লুট কেন, টাকা হাজার শত শত।
দেশটা কেন এত গরীব প্রশ্ন জাগে প্রতি রোজ
ভ্যাটের টাকায় মূর্খ নেতা করে কেন প্রীতি ভোজ?
মানুষ মারে হাসু, খালেদা তাকিয়ে দেখি ক্ষন
এরশাদ কেন মারলো মানুষ কত শত জন?

এগুলো হলো পুরনো প্রশ্ন ইতিহাস থেকে জানা
এবার আসি নতুন প্রশ্নে করো না আমায় মানা।

আট সালে কেন মানুষ মেরে করলো লাশে নিত্য
৫৭ অফিসারের এ কেমন নির্মম গণহত্যার ইতিবৃত্ত।
হিংসার বশে হাসিনা কেন রাজাকার বলে সাঈদীকে
বিনা অপরাধে অপবাদ দিয়ে মারলো কেন জামায়াত নেতাকে?
ফেলানী কেন ঝুলে থাকে কাটাতারের উপর
ছাত্রলীগ কেন একশো মেয়ের উপর এত বর্বর
সোনার ছেলে চুরি করে, লাখ লাখ কোটি টাকা
মন্ত্রীরা কেন সিংগাপুর যায় দেশ করে দিয়ে ফাঁকা?
ভারতের কুকুর কেন এসে বসে দেশের বড় পদে
হিন্দু মালুরা মানুষ মা’রে, কোন শুয়োরের মদদে?
প্রতিদিন কেন নিউজের পাতায় ধর্ষিতা হয় বোন
ছাত্রলীগের কেন উত্তেজনা এত, বিচারের কেন ওজন?
দেশের মাঝে পুলিশ প্রসাশন দূর্নীতি কেন প্রতিদিন
সরকারের কেন আসলে ক্ষমতায়, নেয় বিশাল ঋণ?
গুম খুন কেন প্রতিদিন বলো, কেন এত অবিচার
স্বাধীনতার মানে কি গরীব দূঃ খির নিত্য হাহাকার?

অবিচার আর অবিচার দেখেও বলবে যারা স্বাধীন দেশ
সে তো বোকা, গাদা নেই তার বিবেকে সামান্য
লজ্জার লেশ।

তোর যদি নবীন থেকে থাকে বিবেক বলতে কিছু
স্বাধীন করবো আবার দেশকে হটিস না কভু পিছু।
সাহস সাহস আমরাই সাহসী বাংলার পুত
আমরাই নামাবো দেশ থেকে অত্যাচারি ভুত।

স্বাধীনতার গান
ওবায়দুল মুন্সী

স্বাধীনতা হয় বঙ্গবন্ধুর মহাকাব্যের ভাষণ
স্বাধীনতা হয় লাল-সবুজে বাংলাদেশের আসন।।
স্বাধীনতা আজ রাখতে হবে তোমার আমার ধরে
জন্ম থেকে জন্মান্তরে সবার ঘরে ঘরে।।

স্বাধীনতা হয় স্বপ্নে পাওয়া পরম ভালোবাসা
স্বাধীনতা হয় সবার চাওয়া বেঁচে থাকার আশা।
স্বাধীনতা মানে কারো অধিকার খর্ব করা নয়
স্বাধীনতা মানে নিজেই নিজের গর্ব করা নয়।।

স্বাধীনতা নয় অত্যাচারির অশুভ বিষের ক্ষত
স্বাধীনতা হয় নির্মল সজিব নীরোগ বায়ুর মতো।
স্বাধীনতা মানে নয়তো লুটপাট জালিমের কোনো শাসন
স্বাধীনতা মানে আমজনতার আবাসন খাদ্য বসন।।

স্বাধীনতা হয় কবির কবিতা শিল্পীর আঁকা ছবি
স্বাধীনতা ওই আকাশের নীলিমা ঊষায় রাঙা রবি।
স্বাধীনতা কী এমনি এসেছে তোমার আমার মাঝে
উত্তাল জনতার কত যে হাহাকার এখনো কানে বাজে।।

স্বাধীনতা হয় মায়ের আঁচলে জরানো মমতা
স্বাধীনতা হয় ভাইয়ে বোনের আদুরী মৌনতা।
স্বাধীনতা হয় পিতার স্বপ্ন অনেক বড় হবার
স্বাধীনতা হয় কর্মগুণে অমর হয়ে র’বার।।

স্বাধীনতা নয় শক্তিরজোরে যা ইচ্ছা তাই করা
স্বাধীনতা হুয় লাখো শহিদের রক্ত দিয়ে গড়া
স্বাধীনতা নয় উল্লাস করে ফোটানো আতশবাজি
স্বাধীনতা হুয় সত্যন্যায়ে জীবন রাখা বাজি।।

স্বাধীনতা নয় চিৎকার করে জয় বাংলার গান
স্বাধীনতা হয় দেশ প্রেম আর বাঁচানো তাহার মান।
স্বাধীনতা হয় দুখি মানুষের ফেরানো মুখের হাসি
স্বাধীনতা নয় অবিচার করা দিয়ে দাও কারো ফাঁসি।।

স্বাধীনতা হোক অবিচার পথে প্রতিবাদী স্বর
স্বাধীনতা হোক চেতনার সূর্য মানবতার এক ভোর।
স্বাধীনতা আজ নির্মমতায় গোমরে গোমরে কাঁদে
স্বাধীনতা আজ বন্দী থাকে অপশক্তির ফাঁদে।।

স্বাধীনতা হোক সুধীজনের বোধিত সমাবেশ
স্বাধীনতা হোক সবার জন্যে মুক্ত পরিবেশ।।
স্বাধীনতাটা নয়তো কোনো নেতার পান্থশালা
স্বাধীনতাটা পায়নি যারা তারাই বুঝে জ্বালা।।

স্বাধীনতাটা এমনই শক্তি একবার বেড়ে গেলে
স্বাধীনতাটা জাগাতে পারে কৃষক শ্রমিক জেলে।।
স্বাধীনতা হয় সবখানে তাই সবার কথা বলা
স্বাধীনতা হয় স্বাধীনভাবে স্বাধীন পথে চলা।।

মার্চ এলে
কবির কাঞ্চন

মার্চ এলে হৃদে বাজে
স্বাধীনতার গান
সেই গানেতে উথলে ওঠে
বুকের ভেতর টান।

সে টান আসে শ্রদ্ধা হয়ে
ভালোবাসার সুরে
দেশপ্রেমেরই শক্তি নিয়ে
আসে বছর ঘুরে।

জীবন বাজি করে যারা
রাখলো দেশের মান
তোমার আমার স্বাধীনতা
সেই তাদেরই দান।

হাসিমুখে জীবন দিলেন
গভীর অনুরাগে
তাই তো তাদের স্মরণ করি
একাত্তরের দাগে।

ধানমন্ডির লেক
আবু রাইহান

ধানমন্ডির বদ্ধভূমি দর্শনে
অন্তরাত্মায় জাগে বিপন্ন বিস্ময়
যন্ত্রণার আর্তি ছড়িয়ে যায়
সমাগত সান্ধ্য বাতাসে
ইতিহাস থমকে রয়েছে
লেকের ধূলিমলিন ঘাসে!

স্বাধীনতা আসে
শাহীন খান

একুশের হাত ধরে স্বাধীনতা আসে
কতো লাশ রাজ পথে,নদী জলে ভাসে।
মা বাবা চাচা মামা হয়েছেন খুন
বাংলার বুক জুড়ে দোযখের আগুন।
কত ভাই হারিয়েছে আসেনি ফিরে
মেজ খালু চলে গেছে আসেনি নীড়ে
কলজেটা ছিঁড়ে খেল শকুনের দল
দুটি চোখে জল আজো করে টলমল!
রমনীরা হারালো যে প্রিয় সম্ভ্রম
বোন হারালো মান দাম কী কম?
কুকুরের আনাগোনা ছিলো যে বেশি
বহু ছিলো পাকিটাকি কিছুটা দেশি।
শিশুরা খেলো না দুধ, কাঁপে থরথর
বাংলার বুকে এলো সিডরের ঝড়
পুড়ে গেলো ঘরবাড়ি ভিটেও মাটি
ঝরে গেলো গাছ থেকে ফুল দোপাটি।
আপমর জনতা কেঁদে যে ফেরে
কতো লোক চলে গেলো সীমানা ছেড়ে
চাঁদ তারা নিভে গেলো ওঠেনি তো ফের
বুক ফেটে চৌচির হলো আমাদের।

তার পরের ইতিহাস সবারই তো জানা
রক্ত আর মান দিয়ে মেলি শেষে ডানা।

স্বাধীনতার ছড়া
মহিউদ্দিন বিন্ জুবায়েদ

গর্জে ওঠা ডাক শুনে আম জনতা জাগে,
দেশের তরে জীবন দিবে কে কার আগে।
মহান নেতা বলেছিলো মুক্তির সংগ্রাম,
আছে যা সাথে নিয়ে ছাড়ো এবার গ্রাম।

অনেক তরুণ সেদিন জীবন বাজি রাখে,
মুক্ত করতে দেশকে সালাম জানায় মাকে।
নয় মাস যুদ্ধ করে বীর বাঙালী মরে,
স্বাধীনতা ওই পতাকা আনছে তবু ঘরে।

ত্যাগে ত্যাগে লক্ষ প্রাণ বিনিময়ে দেশ,
চলো সবাই দেশকে গড়ি না হয় যেন শেষ।
সুরে গাই কন্ঠে কন্ঠে স্বাধীনতার গান,
স্বাধীনদেশে বাস করে তাই জুড়ায় মনপ্রাণ

ওই পতাকা আমার
ইদ্রিস মণ্ডল

বাংলাদেশের যে পতাকা
আজ আকাশে উড়ে
একার কারো নয় পতাকা
শুনায় দাদু তোরে

ওই পতাকা আমার তোমার
আমজনতা চাষীর
খোকা খুকুর ভাই ভগ্নি
বৌদি এবং মাসির

সব মানুষের ওই পতাকা
রং পতাকার ভালো
লাল বৃত্ত সবুজের মাঝ
ভোরের ফোটা আলো

মন কেড়ে নেয় ওই পতাকা
দেয় পতাকা সুখ
পতাকার মাঝে দোল খেয়ে যায়
বাংলাদেশের মুখ।

স্বাধীনতা এনেছি
আলাউদ্দিন হোসেন

রক্ত দিয়ে জীবন দিয়ে
এনেছি স্বাধীনতা
আগুনে পুড়েছি বোমায় উড়েছি
নত করিনি মাথা!

ভয় করিনি জয় করেছি
এনেছি স্বাধীনতা
লক্ষ জীবন ক্ষয় করেছি
নত করিনি মাথা!

দুঃখ যাতনা পারি দিয়েছি
করিনি কোনো ভয়
যুদ্ধ করে স্বাধীনতা এনেছি
এনেছি বাংলায় জয়!