ঝুলন্ত হ্যারিকেনের আলোয়

১.

জীবন আলোয় নিভন্ত গাছের সন্ধ্যা
হেঁটে যায় প্রশস্ত নীল সীমানায়,
আলুভাতের আভিজাত্যে ভর পেট
সম্পর্কের সীমানায় হাত বাড়ায় ৷
সব অন্ধকার ধুয়ে ক্লান্ত সায়ান্ন্যারা
সামনে আসে বাঁচার আলো হাতে,
নৈমিত্তিক আকাঙ্ক্ষার ক্ষতে ঝুলে থাকে
নিভু নিভু ঝুলন্ত হ্যারিকেনের আলো…

২.

কথা দিয়েও দিতে পারিনি ,
আশার ভেতর সাজানো
জীবনশৈলীর শীতলপাটি ৷
তবুও একটা হাওয়া ডিগবাজি দেয়
বুকের ডায়াগোন্যাল কাঠামোয়…
অন্তিম ঋতু শয্যায় পেশীর শিরশিরানি উপেক্ষা করেই
মাঠ,ঘাটে সবুজের তুলি বুলিয়ে ফ্রেশ হতে চায় ৷
কোন কোন ছায়াস্রাব ক্রণিক সময়কে আক্রান্ত করার নেশায় ইতিহাস আঁকে…
জৈবনিক হ্যারিকেনের ঝুলন্ত আলোয়৷

৩.

এজেড্ শব্দের অভাবী ক্যালশিয়াম কলমের
মেরুদণ্ডে সামাজিকতাকে ঘূণ ফুটো করে,
এল.ই.ডি আলোর নরম খরচ ছেয়ে রাখে
রাত্রি স্বভাব…
আমার সব অন্ধকার কষ্টের সার্ফ এক্সেলে
বাঁচার ফেনাবহুল লড়াইয়ের কবিতা ৷

৪.

নতুন বইয়ে গন্ধমাখা সহপাঠিনীর
পার্সে কামনার খুচরো লালায় লালায়িত
তৃপ্ত প্রত্যঙ্গের স্বাদ,
উস্কে ওঠা বুকের ভাঁজে নখের আঁচড় দাঁত ৷
যেখানে শব্দ গলা আওয়াজ ভালোবাসার
কারশেড অপেক্ষমান নতুন আলোর গন্ধ…

৫.

পূবের ছায়া ঘন হতে হতে হাত বাড়ায়
সন্ধ্যার অন্ধকার,
রাতভর আশার পুটলি কমতে কমতে নেমে আসে
সদ্যজাত রক্ত প্রবাহ৷
থেমে গিয়েও থামে না হৃদয় ঝড়,
অনাকাঙ্ক্ষিত বারূদ স্তুপে কলমের জরায়ুতে
বীর্য ঝরায় পৌরুষত্ব মন,
আজও দৃষ্টিতে ঝুলন্ত হ্যারিকেনের আলোয়িত পলতে৷

৬.

যে বৃদ্ধ ঘোলাটে চশমায় এঁকে যায় জীবন,
অতিবাহিত স্বপ্নের ভাষারা কুঁচকে থাকে অসহায়
ইতিহাসের চামড়া,
মননের দৈনন্দিন জ্বালানীতে ঝরে পড়ে আগুনের
টুকরো,বিরক্তির কুঁচকানো কপাল টান দেয় প্রসারিত ভ্রু য্গলের দাম্ভিকে৷
বক্র মেরুদণ্ড সোজা হতে থাকে
জীবন সন্ধ্যার মুষ্ঠিবদ্ধ প্রহরে,
আজও নিখাদ আভিজাত্যের অভাবে স্বপ্ন দেখে
ঝুলন্ত হ্যারিকেনের আলোয়৷