ক্লারা তার জীবনে কখনোই এত খুশি হয়নি। সে ও হাইডি সারাদিন খোলা মাঠে খেলাধূলা করতো। সে প্রচুর খেতো। তার ঘুমও ভালো হতো। এভাবে সে শীঘ্রই শক্তিশালী হতে শুরু করলো।

আল্ম অপা তার হুইলচেয়ার থেকে তাকে নামানোর পর বলতো, “এখন মাটিতে দাঁড়াতে চেষ্টা কর।”

ক্লারা চেষ্টা করতো। এতে তার পায়ে ব্যথা লাগতো। তবে প্রতিদিনই সে অল্পসময় দাঁড়িয়ে থাকতে পারতো।

হাইডি ক্লারাকে পর্বতের সেই জায়গাগুলো দেখাতে চাইলো যেখানে ছাগলগুলো চরানো হয়। তার প্রবল আগ্রহের কারনে অবশেষে আল্ম অপা রাজি হলেন। তিনি বললেন তিনিই ক্লারার চেয়ারটি ঠেলে নিবেন।

ঐ সন্ধ্যায় পিটার ছাগল নিয়ে ফিরে এলো। হাইডি বললো, “পিটার, পিটার আগামিকাল আমরা তোমার সাথে যাবো। আমরা দুজনেই। ক্লারা ও আমি।”

পিটারকে খুব রাগান্বিত দেখালো। সে কিছুই বললো না। ক্লারাকে তার একদম সহ্য হতো না্। কারন হাইডি সারাক্ষণ ক্লারার সাথে থাকতো। পিটারকে একটুও সময় দিতো না।

পরদিন সে আল্ম অপার বাড়িতে গেলো। তখন সবাই ঘরের ভেতর ছিল। তবে হুইল চেয়ারটা ঘরের বাইরে ছিল। ক্লারার জন্য এটা প্রস্তুত করা ছিল। পিটার চেয়ারটাকে দেখলো। হঠাৎ সে রেগে গেল। তার মনে দুষ্ট বুদ্ধি চাপলো। সে চেয়ারটার দিতে দৌঁড়ে গেলো। তারপর খুব জোরে তা পাহাড়ের নিচে ঠেলে দিলো। সে দেখলো চেয়ারটি খুব দ্রুত নিচে পড়তে লাগলো। পর্বতের বিভিন্ন স্থানে ধাক্কা লেগে চেয়ারটি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেলো। পিটার হাসলো। এখন ক্লারা চলে যেতে বাধ্য হবে। সে দ্রুত সরে পড়লো।

হাইডি ও দাদা বাইরে বের হলেন। তারা চেয়ারটি দেখতে পেলো না। তাই অবাক হলো হাইডি বললো,
“বাতাস চেয়ারটিকে পাহাড়ের নিচে ফেলে দিয়েছে। আমরা কি দ্রুত গিয়ে এটি ফিরিয়ে আনতে পারি?”

“যদি এটি পাহাড় থেকে নিচে পড়ে গিয়ে থাকে তবে তা আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। কারন এটি ভেঙে অসংখ্য টুকরো হয়ে থাকবে।” বললেন দাদা।

“ওহ্। এখন আর আমরা পর্বতের উঁচু স্থানে যেতে পারবো না। আর আমাকে বাসায় ফিরে যেতে হবে। এটি খুব কষ্টদায়ক। আহ্ আমার ভাগ্য কতই না খারাপ!” আক্ষেপ করে বললো ক্লারা।

“আমি তোমাকে উপরে নিয়ে যাবো ক্লারা।” বললেন দাদা। তিনি ও হাইডি মিলে কিছু খাবার প্রস্তুত করে নিলেন।

যখন তারা পর্বতের উঁচু স্থানে পৌঁছালো তখন পিটার ছাগলদের চরিয়ে বেড়াচ্ছিল। সে তাদের দেখে খুব অবাক হলো। সে তাদের আসার কথা চিন্তাই করেনি। সে খুব অসন্তুষ্ট হলো।

“তুমি স্নোয়ি ও ব্রাউনিকে আজ আনতে যাওনি কেন?” রাগান্বিত হয়ে বললেন আল্ম অপা।

“সেখানে কেই ছিল না। আমি গিয়েছিলাম।”

“তুমি কি চেয়ারটি দেখেছিলে?”
“কোন চেয়ার?” আমতা আমতা করে বললো পিটার।
দাদা তাকে ভালো করে দেখলেন। তিনি আর কিছু বললেন না। তিনি ক্লারাকে নিচে নামালেন ও বললেন, “ আমি এখন যাবো আর চেয়ারটার খোঁজ করবো। বিকালে তোমাদের নিতে আসবো।”

ক্লারা ঘাসের উপর বসে। সে নীল আকাশ দেখে। তুষারাবৃত পর্বতের চড়াগুলো দেখে। আহা কত সুন্দর নীলাকাশ। পর্বতের সাদা চড়াগুলো কতই না সুন্দর। সে এত সুন্দর দৃশ্য আগে কখনোই দেখেনি। নিকটে থাকা ফুলগুলোর দিকে তার চোখ পড়ে। সে অবাক হয়। সে বলে,

“হাইডি, ঐ নীল ফুলগুলোর দিকে তাকাও। এরা আকাশের চেয়েও বেশি নীল।”

“কাছেই আরেকটি জায়গা আছে যেখানে এ ফুলগুলো প্রচুর পরিমানে হয়। আমি একটু দেখে আসি। তুমি একা থাকতে পারবে?” বললো হাইডি।

“অবশ্যই পারবো। তুমি যাও।” বললো ক্লারা।

হাইডি দ্রুতই ফিরে আসে। তাকে আনন্দিত দেখায়। সে আনন্দে বলে ওঠে, “অনেক ফুল। খুবই চমৎকার। তোমার অবশ্যই দেখা উচিত। আমি তোমাকে নিয়ে যাবো।”

“তুমি আমাকে নিতে পারবে না হাইডি। তুমি আমার চেয়ে ছোট।” বললো ক্লারা।

পিটার বেশি দূর ছিলো না। সে পিটারকে ডাকলো।
“পিটার এদিকে এসো।” পিটার তার জায়গা থেকে নড়লো না। সে এবার চিৎকার করে বললো,
“যদি তুমি না আসো তবে আমি এমন কিছু করবো যা তুমি মোটেও পছন্দ করবে না।”

পিটার এবার ভয় পেয়ে গেলো। সম্ভবত হাইডি তাকে চেয়ার ঠেলে ফেলে দিতে দেখেছিল। আর এখন সে তা আল্ম অপাকে বলে দিতে চায়। সে দ্রুত হাইডির কাছে চলে এলো।

“আমরা ক্লারাকে নীল ফুলগুলো দেখাতে নিয়ে যাচ্ছি। ক্লারা তোমার এক হাত আমার কাধে ও আরেক হাত পিটারের কাধে রাখো।” বললো হাইডি।

ক্লারা তার নিজ পায়ে দাঁড়িয়েছে। হাইডি পিটারের চেয়েও অনেক খাটো। তাই তারা ভালোভাবে তাকে নিতে পারছে না।
“ক্লারা তোমার পা বাড়াও। হ্যাঁ, এখন আরেকটা বাড়াও।” হাইডি তাকে উৎসাহ দেয়।
ক্লারা ছোট করে পা বাড়াতে চেষ্টা করে। এক পা, দু পা, তিন পা………………।
“আমি হাঁটতে পারছি ক্লারা আমি হাঁটতে পারছি। আমি হাঁটছি।” ক্লারা চিৎকা করে বললো। তার চোখে-মুখে বিজয়ের তৃপ্তি।

ক্লারা ও হাইডি এতই উত্তোজত ছিল যে তারা একটু হলেই পড়ে যেতো। তার এগিয়ে যাচ্ছে। নীল ফুলগুলোর দিকে। অবশেষে নীল ফুলগুলোর সামনে এসে তারা দাঁড়ালো। ক্লারা গভীর নীর রংয়ের ফুলগুলোর দিকে বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে রইলো। সে জানে ডে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এদের সে মনে রাখবে।