এদিতে হাইডি তার দাদার সাথে একাকি। তার দাদা কাঠের একটি আসনে বসেছিল। অবনত দৃষ্টি। তার মুখে কোনো কথা নেই।

হাইডি ঘরটির চারপাশে হেঁটে এলো। একদিকে ছাগল রাখার একটি ঘর। ঘরটি খালি। ঘরের পেছনে তিনটি বড় ও পুরনো ফির বৃক্ষ। গাছগুলোর মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত বাতাসের শব্দ সে শুনতে পায়। গানের মতোই সুরেলা শব্দ। ঘরের চারপাশ ভালো করে দেখার জন্য সে বাতাসের শব্দ শোনা বন্ধ করে।

দাদা তখনও নিজ জায়গায় বসেছিল। একেবারে জড় পদার্থের মতো। হাইডি একেবারে তার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।

“তুমি কী করতে চাও?” অবশেষে হাইডির দিকে মুখ তুলে তিনি বললেন।
“আমি ঘরের ভেতর কী আছে দেখবো।”
“ঠিক আছে। আসো।” তিনি দরজা খুললেন।

ঘরের মাঝে একটি রুম আছে। যদিও রুমটি অনেক বড়। এক কোণায় একটি চুলা আছে। তার পাশেই একটি টেবিল ও একটি কাঠের চেয়ার। ঘরের অপর কোণায় কাপবোর্ড রয়েছে। তার প্রয়োজনীয় সবকিছু এর মধ্যে আছে। জামা-কাপড়, থালা-বাসন, রুটি, পনির, শুকনা গোশত ইত্যাদি। তিনি হাইডির জিনিসপত্র ও সেখানে রাখেন যা ডেটে নিয়ে এসেছিল।

হাইডি ঘরের চারপাশে চোখ বুলায়।

“দাদা আমি কোথায় ঘুমাবো?”
“তুমি যেখানে চাও।” বললেন তিনি।

হাইডি একদিকে একটি মই লক্ষ্য করে। সে মই বেয়ে খড়ের গাদার উপর ওঠে। ছাদের কিছুটা নিচ পর্যন্ত ফ্লোরের উপর খড় স্তুপ করা। সেখানে একটি জানালাও কাটা আছে। সুন্দর ঘ্রাণ আসছিল। জানালা দিয়ে পর্বতগুলোকে খুব সুন্দর দেখায়।

“আমি এখানেই ঘুমাবো। এটা অনেক সুন্দর। দাদা, দেখ এটা কত সুন্দর!” হাইডি অনেক খুশি হয়ে বললো।

“আমি জানি। আমি এটা আগেই জেনেছি।” আল্ম অপা বললো।

হাইডির খড়ের ওপর তার নিজের জন্য ছোট একটি বিছানা পাতে। সে দাদাকে বিছানার চাদর আনতে বলে। কিন্তু তার কোনো চাদর ছিল না। তাই পুরনো কাপড় খোঁজেন। তিনি শক্ত, পুরনো ও ধূসর রংঙের কাপড়ের টুকরা খুঁজে পান। তিনি হাইডিকে এগুলো খড়ের ওপর বিছাতে বলেন।

“এটি একটি চমৎকার বিছানা।” আনন্দিত হয় হাইডি। “আমি এই বিছানায় ঘুমাবো কিন্তু এখনো রাত নেমে আসেনি।”

“আমার মনে হয় আমাদের প্রথমে খাওয়া প্রয়োজন।” দাদা বললেন।
তারা উভয়ে মই বেয়ে নিচে নেমে আসে।

দাদা চুলায় আগুন ধরালেন। তারপর বড় এক টুকরো পনির কাটেন। পনিরের টুকরোটিকে ধূসর রং ধারন না করা পর্যন্ত জ্বাল দেন। হাইডি কাপবোর্ডের কাছে ছুটে যায়। সে রুটি, দুটি প্লেট ও বোল নিয়ে আসে। সে এগুলো টেবিলে ওপর রাখে।

“নাতনি, তুমি এখন তোমার কথা চিন্তা করতে পারো। যথেষ্ট করেছো। এখন তুমি কোথায় বসতে চাও?” বললেন দাদা।
তিনি হাইডিকে তার নিজের চেয়ারে বসালেন। টেবিলটি তার জন্য বেশি উঁচু ছিল। গরম পনির ও রুটি খুবই ভালো ছিল। হাইডি তৃপ্তি সহকারে খায়। তারপর দাদা তাকে এক পাত্র ছাগলের দুধ দেন। সে এক শ্বাসে পুরোটা দুধ শেষ করে।

“আমি এতো ভালো দুধ কখনো খাইনি।” বললো হাইডি।

তাদের খাওয়া-দাওয়া শেষ হলে দাদা ছাগলের ঘরটি পরিষ্কার করেন। এপরর তিনি চারটি লম্বা লাঠি নিলেন। এদের এমনভাবে কাটলেন যেন সবগুলো একসমান হয়। তিনি একটি কাঠের নিয়ে তাতে চারটি ছিদ্র করেন। তারপর কাঠগুলো তিনি চারটি ছিদ্রতে বসিয়ে দেন। হাইডি এসব কিছু অবাক হয়ে দেখলো।

“বলতো হাইডি এটা কী?” দাদা জিজ্ঞেস করেন।

“আমার জন্য তুমি একটি চেয়ার বানিয়েছো দাদা। আর এটা এজন্য যে টেবিলটি আমার জন্য অনেক উঁচু।”

সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। ফির গাছের বাতাসের গতি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বাতাসের এই শব্দটি হাইডিকে খুশি করে।

হঠাৎ সে অনেকগুলো পায়ের আওয়াজ শুনতে পায়। পর্বত থেকে ছাগলেরা নেমে আসছে। এরা এখানে সেখানে দৌড়াচ্ছে ও লাফাচ্ছে। তাঁদের মাঝখানে আাছে গোটপিটার। সে ভালোই বড় ও এগারো বছরের একজন শক্তিশালী বালক।
তারা বাড়িতে পৌঁছায় এবং পাহাড়ের নিচে চলে যায়। শুধু একটি সাদা ছাগল ও একটি বাদামি ছাগল তাদের থেকে আলাদা হয়ে যায় এবং এরা দাদার কাছে ছুটে যায়।

“ওহ্, এরা খুব সুন্দর।” হাইডি আনন্দে বলে ওঠে। “দাদা এগুলো কি আমাদের? এ দুটোই কি আমাদের?”

“হাঁ হাঁ। এরা আমাদের। যাও আর তোমার বাটিটা নিয়ে এসো; সাথে কিছু রুটিও।”
তিনি সাদা ছাগলটির নিচে বাটিটা রাখেন আর দুধ দোহাতে শুরু করেন। শীঘ্রই বাটিটা দুধে ভরে গেলো।

“এটা খাও আর ঘুমাতে যাও। তোমার রাতের পোষাক কাপবোর্ডে আছে। আমার অবশ্যই স্নোয়ি ও ব্রাউনিকে দেখাশোনা করতে হবে।” বললেন দাদা।

ছাগলগুলো দাদার পেছন পেছন ছাগলের ঘরে গেলো। হাইডি তার রুটি-দুধ শেষ করে মই বেয়ে তার খড়ের বিছানায় ঘুমাতে গেলো।