এভাবে এক বছর কেটে গেলো। এমনকি আরেকটি শীতকালও প্রায় শেষ হতে লাগলো। এই সময়ে হাইডি ডরফ্লিতে যায়নি। দাদা মাঝে মাঝে পাহাড়ের নিচে যান পনির বিক্রি করতে। আর কিনে আনেন রুটি ও শুকনো গোশত। কিন্তু এসবের জন্য তিনি ডরফ্লিতে যান না । তিনি অন্য গ্রামে যান।

এই শীতে ডরফ্লির স্কুল শিক্ষক পিটারকে দুইবার বলেছিল,

“আল্ম অপাকে বলবে তিনি যেনো অবশ্যই হাইডিকে স্কুলে পাঠান।”

কিন্তু আল্ম অপা এসব কিছু কানে নেননি।

তারপর একদিন ডেটে এসে হাজির।

“আমি হাইডিকে নিতে এসেছি। আমি তার জন্য একটি সুন্দর জায়গা খুঁজে পেয়েছি। আমার কিছু ধনী বান্ধবী আমার বাড়িতে এসেছিল। তাদের কাছে জানালাম, একটি ধনী মেয়ে যে হাঁটতে পারে না। সে সারাদিন হুইল চেয়ারে বসে সময় কাটায়। একজন শিক্ষক তাকে পড়াতে আসে। তার একজন বন্ধু দরকার তার সাথে থাকার জন্য। তারা একটি ছোট মেয়ে চায় যে শহরের বাচ্চাদের মতো নয়। আমি তখনই হাইডির কথা চিন্তা করি। এটা কি তার জন্য ভালো হবে না?” বললো ডেটে।

দাদাকে দেখতে রাগান্বিত লাগছিল।

“না। এটা হতে পারে না। তারা একে পরিবর্তন করে ফেলবে। আমি তাকে শহুরে মানুষদের মতো হতে দিতে চাই না। সে এখানেই আরামে আছে। পর্বতের মাঝে ছাগলদের সাথে খেলা করে সে সুখেই আছে।”

এখন ডেটে রেগে গেলো।

“আপনি তাকে স্কুলে দিতে চান না। তাই সে লিখতে পড়তে পারে না। তার এখন আট বছল বয়স অথচ সে কিছুই জানে না। তার চেয়ে ভালো তার ফ্রেন্কফার্টে যাওয়া প্রয়োজন। আর গ্রামের সবাই আমাকেই সঠিক ভাবে আর আপনাকে ভুল ভাবে। সে একটা মেয়ে সে কোনো ছাগল নয়।”

“চুপ করো। তাকে নিয়ে যাও আর তোমার যা ইচ্ছা তাই করো।” দাদা উচ্চস্বরে বললেন।

“আমি যাব না।” হাইডি কেঁদে ফেললো।

“ওহ আসতো। যদি তোমার ফ্রান্কফার্ট পছন্দ না হয় তবে তুমি ফিরে আসতে পাবে। তোমার জামা কাপড় কোথায়?””

“আমি কি তখন আসতে পারবো?”

“হ্যাঁ আসতে পারবে।” এ কথা বলেই ডেটে কাপবোর্ড থেকে হাইডির জামা কাপড় গুলো। “চলো তাড়াতাড়ি। আমাদের মেয়েনফেল্ড থেকে ট্রেন ধরতে হবে।”

“আমি দাদিমাকে বিদায় জানাতে চাই।”

“না না আমাদের সময় নেই। তুমি ফ্রেঞ্চফার্ট থেকে তার জন্য কিছু নিয়ে এসোঅ তার জন্য তুমি চমৎকার সাদা রুটি আনতে পারবে। তিনি গ্রামের শক্ত রুটি খেতে পারেন না।”

“হুম তা ঠিক। কিন্তু দেখো, তিনি ব্রিজিট্টার সাথে জানালার পাশে বসে আছেন। তিনি আমাদের ডাকছেন। তিনি কী বলছেন? আমি শুনতে পাচ্ছি না।”

ডেটে ঠিকেই দাদিমার কথাগুলো বুঝতে পারছিলেন। তিনি বলছিলেন,

“হাইডিকে নিয়ে যেয়ো না। ডেটে, তাকে আমাদের কাছ থেকে নিয়ে যেয়ো না।”

ডেটে কোনো উত্তর দেননি। তিনি হাইডির হাতে টেনে দ্রুত সামনে এগোলেন।