ফ্রাংকফার্টের বাড়িতে ক্লারা সিম্যান তাই হুইল চেয়ারে বসেছিল। সে তার হুইল চেয়ারে সারাদিন বসে থাকে। তার দিনগুলো খুব দীর্ঘ হয়। তখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে।

একজন মহিলা তার পাশে বসে আছেন। তার গায়ে কালো পোষাক। তিনি মিস রোমার। ক্লারার মা কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। এখন মিস রোমারই সবকিছিুর দেখাশোনা করেন।
ক্লারার বাব দূরে থাকেন। তিনি একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসার কারনে তাকে দূরে দূরে থাকতে হয়।

ক্লারার চেহারাটা শুকনো ও ক্লান্ত। সে সবসময় ক্লান্তি অনুভব করে।

“সুইস মেয়েটিতো এখনো এলো না। সে কখন আসবে মিস রোমার?”
জিজ্ঞেস করলো ক্লারা।

ঠিক তাদের আলোচনার মূহুর্তে দরজায় ডোরবেল বেজে ওঠে। কয়েক মিনিট পরেই বাড়ির কাজের লোকের সাথে ডেটে ও হাইডি ক্লারার বসার রুমে হাজির হয়।

মিস রোমার উঠলেন। তিনি দাঁড়িয়ে ভালো করে শিশুটিকে দেখলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন,

“তোমার নাম কী?”
“হাইডি।” স্পষ্ট আওয়াজে হাইডি ইত্তর করলো।

“কি! এটা আসল নাম নয়। তোমার মা বাবা তোমার কী নাম রেখেছিল।”
“আমার মনে নেই।” হাইডি বললো।
মিস রোমারকে দেখে রাগান্বিত লাগছিল।
তা দেখে ডেটে দ্রুত বললেন,
“তার নাম এডেলহাইড। মিস রোমার, আমি দুঃখিত। এরকম বাসায় সে কখনো আসেনি। সে জানে না কীভাবে কথা বলতে হয়। আপনি তাকে শেখাবেন মিস রোমার। সে শেখার জন্য প্রস্তুত।”

“আচ্ছা তাহলে তার আসল নাম এডেলহাইড। কিন্তু শিশুটিকে খুব ছোট দেখাচ্ছে। ডেটে, আপনি জানেন যে মিস ক্লারার বয়স এখন বারো। আমরা এমন একটা মেয়ে চাই যার বয়সও বারো বছর হবে। সে তার সাথে খেলবে ও একই লেসন শিখবে। শিশুটির বয়স কত?” মিস রোমা জিজ্ঞেস করলেন।

“আমি দুঃখিত, মিস রোমার। আমি নিশ্চিত নই। তবে আমার মনে হয় তার বয়স দশ বা তার চেয়ে কিছু কম।” ডেটে বললেন।

“আমার এখন আট বছর বয়স। আমার দাদা তাই বলেন।” অত্যন্ত স্পষ্ট গলায় বললো হাইডি।
“মাত্র আট বছর?” মিস রোমার চেচিয়ে উঠলেন।
“ক্লারার চেয়ে চার বছরের ছোট! আর তুমি কী কী শিখেছো? কোন কোন বই তুমি শেষ করেছো?”

“কিছুই না।” হাইডি উত্তর করলো।
“কি! তাহলে কিভাবে তুমি পড়তে শিখেছো?
“আমিতো পড়তে শিখিনি।” হাইডি বললো।
“তুমি পড়তে পারো না? ওহ প্রভু, শিশুটি পড়তে পারে না। ডেটে, আপনি কিভাবে এতবড় একটা ভুল করলেন?” মিস রোমার বিষন্ন কন্ঠে বললেন।

“মিস রোমার কোনো ভুল হয়নি। আপনি এমন একটি শিশু চেয়েছিলেন যে শহুরে শিশুদের মতো নয়। হাইডি পর্বতে বেড়ে ওঠেছে। সে এমনকি গ্রামের শিশুদের সাথেও মেশার সুযোগ পায়নি। আমি দুঃখিত। এখন আমাকে যেতে হবে। আমি শীঘ্রই হাইডিকে দেখতে আসবো।” খুব দ্রুততার সাথে কথাগুলো বললেন ডেটে। এবং বলার পরপরই কাউকে কোনো সুযোগ না দিয়ে তিনি রাস্তায় বের হয়ে এলেন। মিস রোমার এতটাই বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন ডে একমিনিটের জন্য তিনি কিছুই করতে পারেননি। তারপর তিনি ডেটের পেছনে ছুটলেন। হাইডি ও ক্লারা একে অপরের দিকে তাকালো।

“হাইডি অথবা এডেলহাইড কী নামে ডাকলে তুমি খুশি হবে?” ক্লারা জিজ্ঞেস করলো।

“আমার নাম হাইডি। আমাকে হাইডি বলে ডাকলেই আমার ভালো লাগে।”

“ঠিক আছে। আমি তোমাকে হাইডি বলেই ডাকবো। তুমি জানো তারা তোমাকে আমার সাথে লেখাপড়া করার জন্য এখানে এনেছে।” ক্লারা হাসলো ও বললো, “জনাব ক্যান্ডিডেট কী করবেন যখন তিনি শুনবেন যে তুমি পড়তে জানো না? তিনি আমার শিক্ষক। তিনি দশটায় আসেন এবং দুইটা পর্যন্ত আমাকে পড়ান। অনেক সময়, তাই না। এখন থেকে তিনি তোমাকেও পড়াবেন কিভাবে পড়তে হয়। আমি এটা খুব পছন্দ করবো।”

ঠিক তখনই মিস রোমার রাগান্বিত অবস্থায় ফিরে এলেন। তিনি ডেটেকে ধরতে পারেননি। তাই হাইডিকে থাকতেই হলো।

রাতের খাবারের সময় বাড়ির কাজের লোক সেবাস্টিয়ান ক্লারার চেয়ারকে ঠেলে খাবার কক্ষে নিয়ে গেলো। রুমটি খুব বড়। কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন। একটি লম্বা ও প্রশস্থ টেবিল আছে সে ঘরে। হাইডি বিস্ময়ের সাথে সবকিছু অবলোকন করে। কিন্তু টেবিলের চারপাশে দশটি চেয়ার কেন? আর সেবাস্টিয়ান কেন তাদের পেছনে দাড়ানো? কেনই বা সে তাদের সাথে বসছে না? সে তার প্লেটে একটি সুন্দর সাদা রুটির বোল দেখতে পেলো। সে এটি লুকিয়ে টেবিলের নিচে তার হাঁটুর উপর রাখে। “দাদিমা এটা খুব পছন্দ করবে।? সে মনে মনে ভেবে খুশি হলো।

মিস রোমার লক্ষ্য করেননি। তিনি হাইডির কী কী করা উচিত এবং কী কী করা অনুচিত সে বিষয় তাকে বলতে লাগলেন।

পরদিন সকালে হাইডি পাঁচটায় ঘুম থেকে জেগে ওঠে এবং খুব তাড়াতাড়ি আবার তার চোখ বন্ধ হয়ে আসছিল।

“এডেলহাইড, তোমার সমস্ত কিছু মনে রাখা উচিত।” বললেন মিস রোমার। ক্লারা হাসলো। “হাইডি দশ মিনিটের জন্য ঘুমিয়েছে। আপনি তাকে বিছানায় রেখে আসুন।” ক্লারা বললো।