উপহার

আমি মনস্থির করেছি এখন থেকে,
তোমার মাঝে বেচেঁ থাকবো বাকী জীবন।
তাই আমার সকল সৃষ্টি;
তোমার নামে দিয়ে দিলাম।

আর সকল কর্ম;
তোমার তুলি দিয়ে রংধনুর রঙে রাঙিয়ে দিলাম।
তোমার কর্মের সাথে এসব মিশে গিয়ে
গোলাপি গোলাপ হয়ে ফুটবে।
যেমনি করে দুধ আর আলতা মিশে
তোমার মতো চকচকে হয়ে উঠে।

বলতে পারো কি অদ্ভুত বিচিত্র সখ তোমার?
চাঁদের আলোয় পথ চলতে চাওয়া।

আমি যদি বলি তুমি কি কখনও সুগন্ধি মেখে
ঘুরে বেড়িয়েছো বন্ধুদের মহলে?
সে গন্ধে মাতোয়ারা হয়ে সবাই জানতে চায়,
কোন ব্র্যান্ডের সুগন্ধি তোমায় কেন্দ্র করে
আচ্ছন্ন করে দিয়েছে সকলকে?

তুমি নিচুস্বরে ফিসফিস করে বললে,
উপহার পাওয়া এ ব্র্যান্ডের নাম জানা হয়নি,

আমি সেভাবেই নামহীন তোমাতে ভর করে
অমর হয়ে বাচঁব।
…………………………………………..

আত্মচিৎকার

অতি মনোযোগ যদি পাছে মনোরোগ হয়;
এই সংশয় থেকে পাথর চাপা দিয়ে,
বহুবার চলে যেতে বলেছি।

যতবার তুমি চলে যেতে ততবারই
মানসপটে চিৎকার করে ফিরতে বলেছি।

রুমের দেয়াল, আলমিরা,আসবাব
সে চিৎকারে সামিল হয়ে
নিজ বুকে ফাটলের চির ধরিয়েছে।
তবুও তুমি সেই আত্মচিৎকার শুনতে পাওনি।

তোমার এ চলে যাওয়া আমার কষ্টের ছায়া হয়ে
সারাক্ষন পাশে পাশে ঘুরে বেড়ায়।

তাই আমি সব আলো নিভিয়ে,
যতবারই সুস্থির আবেশ খুজেছি,
ততবারই তোমার কায়া আমাকে
কুড়ে কুড়ে দংশন করেছে।

কি আশ্চর্য দেখো!
আমি আলোকে এড়িয়ে চলি ছায়ার ভয়ে।
অন্ধকার কে যেতে বলি কায়ার ভয়ে।
মানুষের ভীড়ে হারিয়ে যেতে চাই,
যন্ত্রনা থেকে রেহাই পেতে।
তারপরও নিজেকে খুজে পাই নিঃসঙ্গ জীবনে
…………………………………………..

নিগূঢ়গাথা

শর্তের দামে না বনে সওদা
সন্ধির জালে স্বাধীনতা,
কাছে না এলে মজে না প্রেম
দূরে বাড়ে জটিলতা।

না জন্মে জীবন হয় কি মরণ
দুঃখ না কিনে সুখ,
না কেটে রাত আসে না প্রভাত
যতই বাজুক সুর।

সূর্য গমনে চন্দ্র হাসে
তারারা ওঠে জেগে,
নদীর বুকে বানের টানে
মাছেরা ওঠে ভেসে।

বর্ষার ডাকে কদম ফোঁটে
ফুলেরা সব সাঁজে,
শুকনো মাটি সিক্ত হয়
কাঁচা যৌবনের লাজে।

গানের পাখি কাননে ফেরে
সন্ধ্যা নেমে এলে,
নিঝুম মনে জোস্না হাসে
তোমার ছোঁয়া পেলে।।
…………………………………………..

রিলাক্সেশন

অবশেষে তুমিই আমার রিলাক্স হলে!
সব ভাবনার ঊর্ধ্বে উঠে
নতুন সুখের, নতুন ছোয়ায়,
আবার আমায় জাগিয়ে দিলে।

কবিতার পঙতির ভাঁজে ভাঁজে
বোধের স্পন্দন সুর তোলে।
দেহ-মন-মগজের একাত্মতায়
নতুন সৃষ্টির উন্মাদনায়।
নিঃশেষে পরিশ্রান্ত-শান্ত আমি;
তোমার কন্ঠধ্বনিতে খুজে পাই
আমার রিলাক্সেশন।
কি বিচিত্র অনুভূতি, তাই না?

কর্মক্ষেত্রের ব্যস্ত অবকাশে
নিজেকে জানার আকুল প্রয়াস।
শ্রমে-ঘামে মেধার তেজে দিনের-শেষে,
তোমার ধ্যানের কায়েমে খুজে পাই
আমার রিলাক্সেশন।
কি ভিন্ন আমেজ, তাই না?

কলামের কঠিন টপিকের অন্তরালে,
পড়াশুনার একাগ্রতায়,
বইয়ের প্রতি পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায়,
ডায়রী-কলমের মিলন মেলায়,
তথ্য-মতির এ কোন খেলায়,
বুদ্ধিরা সব ঝলকে উঠে।
আনন্দিত আমি তোমার কথনে খুজি
আমার রিলাক্সেশন।
কি সরেস চেতন, তাই না?

হ্যা তুমিই আমার একটা আকাশ,
যে আকাশে উড়ে বেড়াই।
তুমিই আমার একটা সাগর,
যে সাগরে সাঁতরে দাপাই।
তুমি আমার সেই মহাকাল,
যেই কালেতে তোমায় স্মরি।
সবশেষেতে তুমিই আমার রিলাক্স হলে!
তুমিই আমার রিলাক্সেশন।
…………………………………………..

মা

মা! তুমি জানতে চাইলে কেমন আছি?
তুমি যেমন চেয়েছো তেমনি আছি,
সাঁজবাতি জ্বালাই কী না?
আযানের শব্দে ঘোমটা টানি কী না?
মাগো সংস্কার মানি বা না মানি
ফেলি কী করে তোমার রীতি!
রাত বিরাতে টাকা পয়সা কর্জ দেওন মানা,
তা আমি ভালোই মেনে চলি।
বিহানে চৌকাঠে হাত লাগানো ভুলি না কভু,
টিকটিকির ডাকের এখনো মূল্য দেই,
হালের ছোয়ায় যতই গতি আসুক না কেন
আমি যে তোমারই রক্তে গঠন।
কী করে ভুলি তোমার সেকেলে পঠন।
তোমার এই টিকে থাকা আমারই তরে
সে কী আমি কম জানি,
তোমার আশিসেই আমার বাঁচা
মরেও হবো শত কল্যানী।
…………………………………………..

সংসার

সংসার টা একটা অঙ্কিত ছবিমাত্র,
যাকে প্রতিদিন রংতুলিতে রাঙাতে হয়।
কখনো লাল, তো কখনো নীল
আবার সাতরঙা রংধনু রঙে,
রঙেরা সব রঞ্জিত হয়ে
প্রতিক্ষণে নব নব কথা বলে।
সব আনকোরা আর তাজা সুরে কথাগুলো
নতুন সৃষ্টিতে মেতে উঠে;
সত্যি বলছি সংসার একটা আর্ট।
প্রতি সকালে বিদায় বেলা মূল ফটকের সামনে
কপালে ছোট্ট একটা বিদায়ী চুম্বন।
যার আবেশে সারাটাদিন অপেক্ষার প্রহর গোনা,
আবার ঝগড়াকালে রঙ সাজে তার অন্য রুপে,
কালো রংটা গান ধরে যায় বিষাদের সুরে
কথা নাই, মুখ দেখা নাই, বিরক্তিকর আর ভাল্লাগেনা,
কিন্তু সারাদিন কী যে টান তার লাগি,
কখন কাছে আসবে মান ভাঙাবে;
অনুরাগের স্পর্শে মাতোয়ারা দুজন,
ভালোবাসার রঙে জলছবি আঁকবে।
আবার সংসার মায়ার সুরে বেজে উঠবে নতুন করে।
যখন-তখন লং ড্রাইভে ছুটে চলা দূরদিগন্তে,
রাতের বেলা কত্তোদূরের চিতই পিঠা বড় স্বাদের;
লাঞ্চটাইমে অনেক পথে বাসায় ফেরা
সাথে নিয়ে অফিস মাঝে চোখের সামনে বসিয়ে রাখা,
সেই ছবিতে সবাই হাসে বসের এমন কান্ড দেখে,
মুখোমুখি, চোখাচোখি অনুভূতির খেলায় দুজন,
লজ্জা নাই, ভ্রুক্ষেপ নাই শুধুই ভালোবাসার মাতন।
রঙেরা সব ছন্দ ভরে নেচে উঠে এমন দেখে,
হঠাৎ করেই সাগর পানে ছুটে চলা,
পাহাড় চূড়ায় ঝর্না ধারায় মিশে যাওয়া,
বনের মাঝে তরু লতার কথা শুনা,
সত্যি রঙের কী বাহার!
রংতুলি টা আলতো ছোয়ায় ছবি আঁকে।
ছবির মাঝে কান্না হাসির দারুন মায়া,
সেই মায়াতে দুজন খেলে রঙের খেলা।
খেলার মাঝে যোগ হলো আরো যারা
সবাই মিলে রঙ বাহারে ছবিটাকে
আরো রঙিন আরো মমতায় তুললো ভরে।
ছবি এখন কথা বলে,নানান রঙের স্বপ্ন বুনে,
রঙের দোলায় ছবি এখন নতুন সাজে মেতে উঠে।
…………………………………………..

পুরাতন পাপী

প্রেম আবার বয়সী হয় নাকি?
তাও হয়, যদি প্রেমে ডুবে কোন পতিল।
সে প্রেমে সৃষ্টি হয় নতুন উন্মাদনা;
বেনামী সেই আবেগের
কোনো ব্যাখ্যা নাই, ধার ধারেনা কোনো অর্থের,
কলঙ্কের ভয়ে নত হওয়ারও ফুসরত নাই।
সীমার বেড়াজালে আবদ্ধ থাকাটাও স্বভাবে আসেনা,
বিষপানের মর্ম বুঝেও তা পানে আরও দৃঢ় হয়,
সাহস! তা আর নাইবা বলা হলো
এর তেজ যে বড়ই মজবুত,
কোন বাঁধনেই সংযত করার উপায় নাই।
হিসাব নিকাশ সে তো কবেই ছাড়,
গভীর প্রনয়ের এ মায়াজাল ভেদ করা বড়ই দুষ্কর।
ধ্ব্ংস আর সৃষ্টির খেলায় মত্ত
অনুতাপহীন এ গোপন আসক্তি।
শুরু যেমন হঠাৎ হয় শেষটা হয়েও হয়না,
গন্তব্যমুক্ত এ পথ চলতেই থাকে তো চলতেই থাকে;
ক্লান্তিবিহীন এই গমনের বাধা পেরোনেই যেন পন।
এতোকিছুর পরও মনে হয়,
এ গহীন আনন্দের পানে শুধুই শাপের মায়া
শাপমোচনেই সরে যাবে অশুভ কায়া
…………………………………………..

অপেক্ষা

এতটুকু বোধোদয় হয়েছে চেতনার মানষপটে,
আর কিছুই পেতে চাইনা হারানোর ভয়ে;
তোমার আমার কষ্টগুলো জমা করে রাখলাম।
আবার যদি কখনো সময় হয়
একসাথে হাতে রাখবো হাত।
জমানো কথাগুলো ফুলঝুড়ি ছড়াবে,
আবার আমার গাল টিপে দিবে,
শাষন করবে, চিৎকার করবে, আদর করবে
মাথায় হাত বুলিয়ে খাইয়ে দিবে।
বড্ড বেশী ভালোবেসে ফেলেছি তোমাকে।
আরো বেশী ভালোবাসি তোমার ঐ চোখদুটোকে
যে চোখে নির্বাক হয়ে আমায় শাষন করো
আমি অবাক বিষ্ময়ে তাকিয়ে থাকি।
আর তোমার ঐ ঠোটের ফাঁকে দেখি বিজয়ের হাসি।
ভালোবাসি তোমার ঐ হাত দুটিকে
যে হাতের মুঠিতে আমার হাতদুটো প্রাণ ফিরে পায়।
ভালোবাসি তোমার বুকের মাঝখান টা
যেখানে আমায় ঝাপটে রাখো।
আমি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে হারিয়ে যাই
শরীরের সমস্ত ইলেকট্রণ-প্রোটণের বিক্রিয়ায়
প্রতিটি কোষে আনন্দের সঞ্চরণ ঘটে;
এক স্বর্গীয় অনুভূতি বয়ে যায় আপাদমস্তক।
তুমিও যেমন পারবেনা আমিও পারবোনা হারাতে
আবার দেখা হবে কথা হবে
স্পর্শে মাতোয়ারা হয়ে ফিরে পাবে প্রাণ।
ভালোবাসা বেঁচে ফিরে হোক অপেক্ষমাণ
…………………………………………..

নিস্তরণ

ফসলী হাওয়া! তোমার ঐ মাতাল আবেশে
আমায় জড়িয়োনা আর।

জলের আওয়াজ! তোমার ঐ মধুর কলতানে
আমায় মুখরিত করোনা আর।

লু-হাওয়া! তোমার ঐ ঊষ্ণ পরশে
আমায় আনমনা করোনা আর।

রঞ্জিত আকাশ! তোমার ঐ রংধনু রঙে
আমায় রাঙিও না আর।

রঙ্গিলা নাউ! তোমার ঐ রঙের পালে
আমায় উড়াইয়ো না আর।

হর্ষ-ধ্বনি! তোমার ঐ আনন্দ বানে
আমায় নির্মল করোনা আর।

মাটির গন্ধ! তোমার ঐ মেঠো স্বাদে
আমায় মত্ত করোনা আর।

নদ লহরী! তোমার ঐ অবিরত তরঙ্গে
আমায় ভাসিয়ো না আর।

ষোড়শী আমি আজ পড়ন্ত যৌবনা;
ফেলে এসেছি কত প্রেম অর্চনা।

অনুতাপ নাই কভু, নাই খেদ, নাই দুঃখ।
বিজয় মাল্য সদা ধারণ করেছে বক্ষ।

আজ কেন হায় তবে এত নিরুপায়;
তোমারি সমিপে যেন প্রাণ যায় যায়।

ভিন্ন হতে তোমার থেকে আর পারিনা;
কোন্ শাপে জড়িয়েছি শুধুই তাড়না।

যাতনা ভরা এই বন্দীত্ব ঘুচাতে যে চাই;
মুক্তি দাও আমায় মুক্তি আমি চাই।
…………………………………………..

নদলীলা

বরিষ ধারা বুকে ঝড় তুলে আজে,
স্পন্দিত তনু-মনে তরঙ্গ বাজে।
বয়সী তুমি হলে পুনঃ-যৌবনা,
সচকিতে ফিরে তুমি হও আনমনা।

হায়রে নদ আমার! কতো কথা বলো,
কতো তরী বয়ে যায় তুমি শুধু চলো।
ধাবমান সয়ে যাও নেই কোন মিনতি,
তোমারি তটে আজো সপি কতো আরতি।

খেলে যাও জলকেলি সময়ের আচড়ে,
এপার-ওপার ভাঙো-গড়ো খেয়ালের চাদরে।
ভাঙা-গড়ার নিপুণতায় তৃপ্ত করো নিজেকে,
দু পারের শ্বসনে জনম তোমার সার্থকে।

ব্রহ্মপুত্র! প্রানের ব্রহ্মপুত্র! তোমারে যে যাচি;
তোমার খরাতে মরি আমি, তোমার জাগনে বাঁচি।