মাটির কাব্য

মাটির ঘরে নেশার তুফান হলে
শিরায় শিরায় চলে স্রোতের ধারা
পাহাড় জমাট শীতল বরফ গলে
মেঘে মেঘে ঘর্ষণে মেঘ হারা।

শিরায় শিরায় চলে স্রোতের ধারা
রক্তে নাচে ধ্রুপদী নাচ সুরে
মেঘে মেঘে ঘর্ষণে মেঘ হারা
সুখ আকাশে সুখের পায়রা উড়ে।

রক্তে নাচে ধ্রুপদী নাচ সুরে
চাঁদের আলো পথ কি গেল ভুলে?
সুখ আকাশে সুখের পায়রা উড়ে
ছিপছিপে নাও চলছে নোঙর তুলে।

চাঁদের আলো পথ কি গেল ভুলে?
জল, মাটি আর কাঁদায় জলোচ্ছ্বাসে
ছিপছিপে নাও চলছে নোঙর তুলে
অতল গহীন ডুববে বলেই ভাসে।

জল, মাটি আর কাঁদায় জলোচ্ছ্বাসে
ঠোঁটের ভাজে পূর্ণগ্রহন জাগে
অতল গহীন ডুববে বলেই ভাসে
কর্ষিত বীজ ভিজে অনুরাগে।

ঠোঁটের ভাজে পূর্ণগ্রহন জাগে
মেঘভাঙ্গা জল ভিজিয়ে যায় জলে
কর্ষিত বীজ ভিজে অনুরাগে
মাটির ঘরে নেশার তুফান হলে।
……………………………………………

বাঁশিওয়ালা

এক যে এলো মিষ্টি বাঁশিওয়ালা
বাঁশি বাজায় নেশা মাতাল সুরে
ধ্রুপদী সুর কাঁপায় মনের মালা
সুখ পাখিটা আনাচ কানাচ উড়ে।

বাঁশি বাজায় নেশা মাতাল সুরে
তৃষ্ণা জাগে প্রহর শিকায় তুলে
সুখ পাখিটা আনাচ কানাচ উড়ে
ভুলে কেবল তারেই ডাকে ভুলে।

তৃষ্ণা জাগে প্রহর শিকায় তুলে
কেমন সে যে দেয়না তো হায় ধরা
ভুলে কেবল তারেই ডাকে ভুলে
কেবল বাজে বাঁশি হৃদয় হরা।

কেমন সে যে দেয়না তো হায় ধরা
বুঝে না তো দক্ষিণ হাওয়ার চিঠি
কেবল বাজে বাঁশি হৃদয় হরা
তার বিহনে বিস্বাদ এ মন দিঠি।

বুঝে না তো দক্ষিণ হাওয়ার চিঠি
চাইবো তাকে চাই যে সকল বেলা
তার বিহনে বিস্বাদ এ মন দিঠি
এক যে এলো আজব বাঁশিওয়ালা।
……………………………………………

অপেক্ষা

অপেক্ষায় কেটে যায় অলস প্রহর
সুনসান নিরবতায় ঘুমে দশদিক
কবে যে ফিরবে দিন ব্যস্ত শহর
দুচোখে আকাশ নীল হাসবে ঠিক!

সুনসান নিরবতায় ঘুমে দশদিক
ভয় শুধু করে তাড়া আজ অনুক্ষণ
দুচোখে আকাশ নীল হাসবে ঠিক!
মনের পিঞ্জরে কাঁদে গোপনে মন।

ভয় শুধু করে তাড়া আজ অনুক্ষণ
জীবিকার তাগিদে ভাঙ্গে স্বপ্নজাল
মনের পিঞ্জরে কাঁদে গোপনে মন
ছিন্নমুল জনেরাই ভাসে চিরকাল

জীবিকার তাগিদে ভাঙ্গে স্বপ্নজাল
সম্মুখ সমরে লড়ে যারা বীর
ছিন্নমুল জনেরাই ভাসে চিরকাল
হে খোদা রেখো উঁচু তাদেরই শির

সম্মুখ সমরে লড়ে যারা বীর
দুহাত তুলে বলি হে দয়াময়
হে খোদা রেখো উঁচু তাদেরই শির
জীবন বাঁচাও কর করোনা রে ক্ষয়

দুহাত তুলে বলি হে দয়াময়
কবে যে ফিরবে দিন ব্যস্ত শহর
জীবন বাঁচাও কর করোনা রে ক্ষয়
অপেক্ষায় কেটে যায় অলস প্রহর
……………………………………………

মুক্তি সনদ

মায়ের কাছে মুক্তি মানে শেখা
দেশমাতাকে করতে হবে স্বাধীন
স্বপ্ন বুকের চোখের তারায় দেখা
একাত্তরের অগ্নিঝরা রাত দিন।

দেশমাতাকে করতে হবে স্বাধীন
রক্ত আগুন নেশার দহন জাগে
একাত্তরের অগ্নিঝরা রাত দিন
বীর সন্তানের চিত্তে আগুন লাগে।

রক্ত আগুন নেশার দহন জাগে
শোষণ, শাসন ভাঙতে শুরু যুদ্ধ
বীর সন্তানের চিত্তে আগুন লাগে
পাকিসেনা করতে খতম ক্রুদ্ধ।

শোষণ, শাসন ভাঙতে শুরু যুদ্ধ
জীবন পণে লড়াই চলে নয় মাস
পাকিসেনা করতে খতম ক্রুদ্ধ
কাপুরুষের দলকে করতে বিনাশ।

জীবন পণে লড়াই চলে নয় মাস
যুদ্ধে নামে বোন-পিতা আর মা-ভাই
কাপুরুষের দলকে করতে বিনাশ
দেশ জুড়ে হয় কত্তোরকম লড়াই!

যুদ্ধে নামে বোন-পিতা আর মা-ভাই
তিরিশ লক্ষ শহীদ বীরের প্রাণে
দেশ জুড়ে হয় কত্তোরকম লড়াই
রক্ত সাগর মুক্তির সুখ আনে।

ত্রিশ লক্ষ শহীদ বীরের প্রাণে
পতাকায় ওই তোমাদের পাই দেখা
রক্ত সাগর মুক্তির সুখ আনে
মায়ের কাছে মুক্তি মানে শেখা।
……………………………………………

বসন্ত

আজ বসন্তে রঙিন বেশে কি উৎসাহ
দ্বারে দ্বারে ডাকে কুহু কোকিল এসে
হয়ে যাবে জীর্ণ ছায়া আগুন দাহ
সজীব প্রাণে হাসুক সবে ভালোবেসে।

দ্বারে দ্বারে ডাকে কুহু কোকিল এসে
ঝড়ো সন্ধ্যায় আলোর বন্যা দেবে উঁকি
সজীব প্রাণে হাসুক সবে ভালোবেসে
ফাগুন বাঁশি বাজিয়ে সুর নাশবে ঝুকি।

ঝড়ো সন্ধ্যায় আলোর বন্যা দেবে উঁকি
রুদ্ধ প্রাণে বাঁধা যেজন বিষাদ লুকায়
ফাগুন বাঁশি বাজিয়ে সুর নাশবে ঝুকি
বসন্ত ও কাঁদিয়ে যায় নিরব কান্নায়।

রুদ্ধ প্রাণে বাঁধা যেজন বিষাদ লুকায়
সইয়ের বুকে উথাল ঢেউয়ের অভিমানে
বসন্ত ও কাঁদিয়ে যায় নিরব কান্নায়
কোন সে অতীত দোল দিয়ে যায় সে কি জানে।

সইয়ের বুকে উথাল ঢেউয়ের অভিমানে
স্মৃতির দেয়াল মুছে দেবে নতুন বাতাস
কোনসে অতীত দোল দিয়ে যায় সে কি জানে?
মুক্ত পাখি নিক চেনে আজ আবীর আকাশ।

স্মৃতির দেয়াল মুছে দেবে নতুন বাতাস
কিশলয়ের সবুজ হাসি করবে দাহ
মুক্ত পাখি নিক চেনে আজ আবীর আকাশ
আজ বসন্তে রঙিন বেশে কি উৎসাহ।
……………………………………………

আগমনী

সুজন প্রিয়’র আগমনে বাতাস ভীষণ টলে
নিত্য বাজে বাদ্য আহা আকুল ও নি:স্বাসে
মন সরোবর উদাসী চোখ প্রণয় ঘোরে জ্বলে
তৃষ্ণা ঝাঝে ছাতিম ফুলের মাতাল সুবাস ভাসে।

নিত্য বাজে বাদ্য আহা আকুল ও নি:স্বাসে
প্রাণ কোকিলার মধুর গানে দক্ষিণ হাওয়া ছুটে
তৃষ্ণা ঝাঝে ছাতিম ফুলের মাতাল সুবাস ভাসে
কপোল রাঙায় রংধনু রঙ লাজ আভরণ টুটে।

প্রাণ কোকিলার মধুর গানে দক্ষিণ হাওয়া ছুটে
মগ্ন আবেশ কাঁপায় হিয়া বাজায় মাদল নেশা
কপোল রাঙায় রংধনু রঙ লাজ আভরণ টুটে
নিবেদনের প্রদীপ হাতে সুখ শিহরণ মেশা।

মগ্ন আবেশ কাঁপায় হিয়া বাজায় মাদল নেশা
শিরায় শিরায় রক্ত নাচে নিযুত কথা চলে
নিবেদনের প্রদীপ হাতে সুখ শিহরণ মেশা
সুজন প্রিয়’র আগমনে বাতাস ভীষণ টলে।
……………………………………………

ভুলের পঙক্তিমালা

একটু খানি চাওয়ার ভুলে
কাঁদতে হলো অনেকখানি
একটু নতুন পাওয়ার ভুলে
হারাতে হয় অনেক জানি।

কাঁদতে হলো অনেকখানি
একটুখানি হাসতে চেয়ে
হারাতে হয় অনেক জানি
অশ্রু গড়ায় দুচোখ বেয়ে।

একটুখানি হাসতে চেয়ে
বসত করে দুঃখের ঘরে
অশ্রু গড়ায় দুচোখ বেয়ে
স্মৃতির সাথে সন্ধি করে।

বসত করে দুঃখের ঘরে
অন্ধ আবেগ নষ্ট নীড়ে
স্মৃতির সাথে সন্ধি করে
বারেবারেই আসে ফিরে।

অন্ধ আবেগ নষ্ট নীড়ে
হোচট খেয়ে বিষাক্ত ফের
বারেবারেই আসে ফিরে
হিসাবে ভুল জমেছে ঢের।

হোচট খেয়ে বিষাক্ত ফের
স্বর্গীয় সে সুধার মূলে
হিসাবে ভুল জমেছে ঢের
একটুখানি চাওয়ার ভুলে।
……………………………………………

রাই কিশোরী

ফুলের ঝালড় ভরা জারুল গাছে
সেই গাঁয়ে এক রাই কিশোরী ছুটে
খোলা মাঠে সবুজ বাতাস নাচে
সোনালু ফুল দোলায় মনটি লুটে।

সেই গাঁয়ে এক রাই কিশোরী ছুটে
গাঁয়ে আসে রাঙা সকাল বেলা
সোনালু ফুল দোলায় মনটি লুটে
সূয্যি করে পূব আকাশে খেলা।

গাঁয়ের আসে রাঙা সকাল বেলা
শান্ত দুপুর সাঁতার গাঙের জলে
সূয্যি করে পূব আকাশে খেলা
পাখপাখালি, ঝিঁঝিঁ, সুরে চলে।

শান্ত দুপুর সাঁতার গাঙের জলে
হাতছানিতে বিকেল নামে খেলার
পাখপাখালি, ঝিঁঝিঁ, সুরে চলে
বউচি খেলার শৈশব সে নেই আর।

হাতছানিতে বিকেল নামে খেলার
গোধূলিতে রাঙা আলোয় চড়ে
বউচি খেলা শৈশব সে নেই আর
ক্লান্তি মেখে কৃষক ফেরে ঘরে।

গোধূলিতে রাঙা আলোয় চড়ে
আঁধার নামে চুপটি করে গাঁয়ে
ক্লান্তি মেখে কৃষক ফেরে ঘরে
নীড়ে ফেরার তাড়ায় পায়ে পায়ে।

আঁধার নামে চুপটি করে গাঁয়ে
জ্যোৎস্না রাতে অবাক ভালো লাগা
নীড়ে ফেরার তাড়ায় পায়ে পায়ে
লাউয়াঢুপি খেলায় রাত্রি জাগা।

জ্যোৎস্না রাতে অবাক ভালো লাগা
কিচ্ছা শুনে কি ঘোর চোখে মেশে
লাউয়াঢুপি খেলায় রাত্রি জাগা
দাদীর ওমে মজার ঘুমের দেশে।

কিচ্ছা শুনে কি ঘোর চোখে মেশে
সেসব স্মৃতি মনের ঘরে আছে
দাদীর ওমে মজার ঘুমের দেশে
ফুলের ঝালড় ভরা জারুল গাছে।
……………………………………………

নষ্ট পরাগ

ঘুনে ধরা নষ্ট পরাগ ত্রাসে
উঠোন জুড়ে দীর্ঘশ্বাসের ভেলা
জখম দেখো দাঁত কেলিয়ে হাসে
সময় করে সময় নিয়ে খেলা।

উঠোন জুড়ে দীর্ঘশ্বাসের ভেলা
সত্তা জ্বলে নিপূণ বিষের জলে
সময় করে সময় নিয়ে খেলা
নি:শ্বাসে মেঘ রক্ত ঝড়ায় ছলে।

সত্তা জ্বলে নিপূণ বিষের জলে
দুয়ার বন্ধ আঁধার ছবি আঁকা
নি:শ্বাসে মেঘ রক্ত ঝড়ায় ছলে
তোমায় আমায় আঁকড়ে বেঁচে থাকা।

দুয়ার বন্ধ আঁধার ছবি আঁকা
বোকা রাজা নখরে জয় খুঁটে
তোমায় আমায় আঁকড়ে বেঁচে থাকা
হাতুড়ি ও চাপাতির ধার লুটে।

বোকা রাজা নখরে জয় খুঁটে
ঈশান কোণে নিয়তি রোজ হাসে
হাতুড়ি ও চাপাতির ধার লুটে
ঘুণে ধরা নষ্ট পরাগ ত্রাসে।
……………………………………………

উল্টো বাতাস

মন খারাপের উল্টো বাতাস মাখি
মেঘলা আকাশ আলো ছায়ার আড়াল
ভাবনা গুলো ডানা মেলা পাখি
ঢেউয়ের দোলা লাগাম সামাল সামাল।

মেঘলা আকাশ আলো ছায়ার আড়াল
কোন কুহকে বাজে মায়া বাঁশি
ঢেউয়ের দোলা লাগাম সামাল সামাল
কদম বনে বৃষ্টি আসি আসি।

কোন কুহকে বাজে মায়া বাঁশি
ধরতে তারে মনে খেয়াল জাগে
কদম বনে বৃষ্টি আসি আসি
উড়াল বানে বাঁধি অনুরাগে।

ধরতে তারে মনে খেয়াল জাগে
পেতে তারে হন্যে হয়ে খুঁজি
উড়াল বানে বাঁধি অনুরাগে
দেয়না ধরা মাপে এ মন বুঝি।

পেতে তারে হন্যে হয়ে খুঁজি
তার বিহনে কাঁদে এ মন আঁখি
দেয়না ধরা মাপে এ মন বুঝি
মন খারাপের উল্টো বাতাস মাখি।