প্রিয় জনপদ

চোখের সামনে দেখছি আঁধার,
শূন্য আগামী,
চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে
নিঃস্ব হলাম আমি!
নতুন দিনের স্বপ্নগুলো
আজকে বড়ই ধূসর,
যাচ্ছি আবার গাঁয়ে ফিরে
ছেড়ে রঙিন শহর।
ইট পাথরের শহর জুড়ে
স্বপ্ন পোড়া গন্ধ,
সময় যেন কাল হয়েছে
জীবন মরণ দ্বন্দ্ব।
প্রিয় জনপদ আজকে যেন
দীর্ঘশ্বাসে ভরা,
আবার কবে আসবে সুদিন,
কাটবে কী এই খরা!
…………………………………………..

নতুন জল

মুষলধারে বৃষ্টি পড়ে,
মনটা আমার কেমন করে,
মন করে আনচান।
ভাবছি বসে দিনভর,
বজ্রপাতে কাঁপল ঘর,
কাঁপল আরো প্রাণ।
ব্যাঙের মনে ফূর্তি ভীষণ,
নাচে গানে করে আলোড়ন,
করে বৃষ্টি বিলাস,
সকাল বিকাল নেই তো বিরাম,
কাটছি ছড়া বৃষ্টির নাম,
আষাঢ় শ্রাবণ মাস।
পথ ডুবছে কাদা জলে,
দুষ্টরা সব বেরিয়ে দলে,
করছে যে হৈ চৈ,
কদমের ডাল কী অপরূপ,
নতুন জলে ফিরে রূপ
শিং, মাগুর আর কৈ!
…………………………………………..

আক্তার ডাক্তার

নাম তার আক্তার,
লোকে বলে ডাক্তার।
সারা গায়ে দাগ তার,
সারা গাঁ য়ে ডাক তার।
ভুল বাল পথ্য,
দিয়ে যায় নিত্য।
রোগিদের হিমশিম,
খায় শুধু কাঁচা ডিম।
ইয়া বড় ডাণ্ডা,
মেরে করে ঠান্ডা।
ফিস নেয় চাল ডাল,
ভাল তার হালচাল।
পশু পাখি যত জাত,
রোগি দেখে দিন রাত।
হাতে নিয়ে ল্যাম্পো,
চড়ে বসে ট্যাম্পো।
সারা গাঁ য়ে ডাক তার,
নাম তার ডাক্তার।
…………………………………………..

গাঁয়ের ছবি

চাঁনখালী খাল পেরিয়ে
ছায়া ঘেরা এক গাঁ,
কলার মোচাই সকাল আসে,
শিশিরে ভিজে পা।
মাঠে মাঠে লবণের দানা
যেন সাদা হীরে,
কত গল্প ষষ্ঠী রাজার
পুরনো বাড়ি ঘিরে।
গোপালবাড়ির খেলার মাঠে
পাড়ার ছেলে যত,
নানা খেলায় থাকত মেতে
ভুলে ব্যবধান শত।
তেঁতুল তলের ভূতের গল্পে
সূর্য দিত ডুব,
আজো আঁকি গাঁয়ের ছবি
মনের মাঝে খুব।
…………………………………………..

পাখির গান

বিলের জলে মাছরাঙাটা
টুপ করে দেয় ডুব,
চুপ, চুপ, চুপ, বৌ কথা কও
গান ধরেছে খুব!
গান ধরেছে দোয়েল পাখি
ভোরের আলোর সাথে,
টিয়ে কেমন ঠোঁট রাঙিয়ে
জারুল গাছে মাতে!
ফিঙে ছানা ডিগবাজি খায়
সারা আকাশ ঘুরে,
ঘুঘু কেমন ডাকছে একা
ঘুম লাগা দুপুরে।
কাক ডেকে যায় কা কা স্বরে,
শালিক, চড়ূই আয় না,
টুনটুনি যায় টুনটুনিয়ে,
ময়না তো গান গায় না।
…………………………………………..

এই শহরে

এই শহরে নেই জোনাকি,
নেই ঝিঁঝিদের ডাক,
নেই কোকিলের কুহু কুহু,
আর শেয়ালের হাক।
নেই মাঠ আর কাকতাড়ুয়া,
আকাশ ছাওয়া ঘুড়ি,
ঘাসফড়িং এর দলরাও নেই
কেমন করে উড়ি!
নেই এখানে বাঁশের ফাঁকে
হাওয়ার আকুল গান,
কালো ধোঁয়ার এই শহরে
হাঁপিয়ে উঠে প্রাণ।
এই শহরে গাড়ির চাকায়
পিষ্ট হলো জীবন,
যাবো ফিরে আবার সেই
শিমুল ফুলের বন।
…………………………………………..

সবায় ভালো থাক

মাথার ঘাম পায়ে ফেলি,
কাজ করে খায় আমি,
কাজের মাঝেই বাঁচে জীবন,
ভোরে কাজে নামি।
সকাল থেকে সন্ধ্যা করি
কাজ আমি হেসে,
আমার শ্রমের মূল্যটাও
চাই যে কাজের শেষে।
কাজে আমার লজ্জাতো নাই,
নামও আমার শ্রমিক,
আমার শ্রমেই তোমার দেখো
ঝকঝকা চারদিক।
আমার শ্রমেই গড়ে উঠে
অট্টালিকার শহর,
আমার গড়া পথে চলে
তোমার গাড়ির বহর।
তবু আমায় কারো হেয়,
দেখলে উঁচাও নাক,
কষ্ট পেয়েও বলি আমি,
সবায় ভালো থাক।
…………………………………………..

বাংলা ভাষার প্রাণ

তারা বলে উর্দু নাকি
হবে রাষ্ট্রভাষা!
কেমন করে মা বলো না
মিটবে মনের আশা!
কেমন করে লিখব আমি
তোমায় চিঠি মাগো!
কেমন করে ডাকবে তুমি,
‘ভোর হয়েছে, জাগো।’
কেমন করে নানা পিঠার
বায়না করি আমি!
কেমন করে চাইব দোয়া!
ও হে অন্তর্যামি!
কেমন করে ধরব আমি
বৌচি খেলার সুর!
কেমন করে বাউল গানের
বসবে আসর দূর!
তাই তো যাচ্ছি মাগো
কিনতে ভাষার মান,
আবার দেখো জমবে মেলা,
বাংলা ভাষার প্রাণ।
…………………………………………..

এল এল গ্রীষ্ম

বৈশাখ জৈষ্ঠ্য,
এল এল গ্রীষ্ম,
মাঠ ঘাট চৌচির,
ফুটিফাটা দৃশ্য।
লোকজন খাবি খায়,
গাছের ছায়াতে,
আগুনের গোলা যেন
লাগে এসে কায়াতে।
তৃষ্ণায় ছাতি বুঝি
পথিকের ফেটে যায়,
কা কা কাক ডাকে
বল কোথা পানি পাই।
নাই নাই দেখা নাই,
মেঘরাও আকাশে,
রোদ দিয়ে সূর্য
দেখ দেখ সে হাসে।
…………………………………………..

নেতার ছবি

সোনার দেশে জন্মেছিল
হিমালয়সম নেতা,
পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে
আনল যে স্বাধীনতা।
অত্যাচারি শাসক যখন
রক্তে খেলে হলি,
নিরহ মানুষ তাদের হাতে
হচ্ছিল সব বলী।
আঁধার যেন কাটছিল না
ভাগ্য আকাশ থেকে,
নেতার হৃদয় উঠল কেঁপে
এসব কিছু দেখে!
নেতা দিলেন ডাক তখনি
এক হয়ে যাও সব,
স্বাধীন আকাশ, উড়বে পাখি,
করবে কলরব।
নেতার কথায় এক হয়ে যায়,
লক্ষ জনগণ,
যুদ্ধে গিয়ে চিনিয়ে আনে
নতুন আলোর ক্ষণ।
স্বাধীনতা আজকে যেন
নেতার দেয়া ডাক,
সবার মনের মাঝে যেন
নেতার ছবি থাক।