বুড়ি

কাজী পাড়াঁর শুকনো বুড়ি, বয়স হল একশ কুড়ি।
তবু বুড়ি তুর-তরি, নাকে দেয় সুড়-সুড়ি।
বেঁকে বেঁকে হেঁটে চলে, মুখ ভেংচে কথা বলে।
আছে তার তিনটি ছেলে, তবু নাহি ভাত মেলে।
বাড়ি বাড়ি ভিক্ষে করে, পল্লী গাঁয়ের পথ ধরে।
মাঝে মাঝে উপোস করে, কষ্ট তারি বছর ভরে।
……………………………………………

সাদা মেঘ

সাদা সাদা মেঘ, উড়ে যায় আকাশে
লাল নীল প্রজাপতি, পাখা মেলে বাতাসে।

মেঘের উপর মেঘ, রংয়ের উপর রং,
তাইনা দেখে খোকন সোনা, ধরেছে আজ ঢং।

গুড় গুড় মেঘ ডাকে, ঝড় বুঝি এলোরে,
খোকা-খুকির খেলা খানি, মাটি আজ হলোরে।
……………………………………………

মশা ও মাছি

মশা মাছির পথ চলতে, হল তাদের এক্সিডেন্ট,
এই না খবর শুনতে পেয়ে এলো বাংলার প্রেসিডেন্ট।
হাসপাতালে ভর্তি হল, মাথা খানি ফেটে
অন্যজনের দশা হল, হাত-পা গেছে কেটে।
মশার সব গুষ্টি এল, দেখতে তাহার পরে,
হঠাৎ করে কুটুস করে, ওঠল ঘাড়ে চড়ে।
প্রেসিডেন্ট সাব ছুটতে গিয়ে,পিছলে পড়ে ঘাটে,
আমি তখন দৌড়ে গিয়ে, খবর দিলাম হাটে।
ভাই সবাই শুনুন তবে, মশা মাছির এক্সিডেন্ট,
এই না খবর শুনতে পেয়ে, এলো বাংলার প্রেসিডেন্ট।
পন্ডশ্রমে খন্ড করে,কাঁদেন অতি রাগে,
প্রেসিডেন্ট কে আচ্ছা সালাম,আমি সবার আগে।
……………………………………………

খোকার বায়না

ফুল বাগানে, ফুলের দেশে, আমায় নেবে ভাই
পুতুল দেব, বাঁশি দেব, আরো যত চাই।
প্রজাপতির কানে সদাই, গান শোনাবার চাই
কোকিল মামার কাছে দুকান,কথা কইবার চাই।
ফুল বাগানে ফুলের দেশে, আমায় নেবে ভাই।।

এই যে আমার সূর্য্যি মামা, তোমায় পাওয়া দায়,
কবে থেকে খুঁজছি আমি, তোমায় নাহি পাই।
ফুল বাগানে ফুলের দেশে, আমায় নেবে ভাই।।
……………………………………………

চাদঁ ওঠেছে

চাদঁ ওঠেছে, চাদঁ ওঠেছে, জুলন বাড়ির উপরে
সামাদ, ওয়াদুদ সবাই মিলে, চিৎকার করে ডাকছে রে।
আয়রে ত্বরা, দেখরে ত্বরা, কাঁচির মত বেঁকে
লুকোচুরি খেলছে চাদঁ, সবাই কেন দেখে।
আজকে সবাই খুশি, কালকে হবে ঈদ,
খুশির চোটে হাসছে সবাই, চোখে নাহি নিদ।
হরেক মজা লুটব সবাই,
ছাগল ছানা করব জবাই।
সব কটা দাঁত করছি ধার,
খেতে হবে আস্ত ষাঁড়।
ঘুম ভেঙ্গে কালকে সবাই, ছুটবে ঈদের মাঠে,
গোসল সেরে আসতে সবাই, পিছলে পড়বে ঘাটে।।
……………………………………………

চাঁদের চেয়ে সুন্দর

নবীর মতন এমন গড়ন নহে দুনিয়ায়,
খোদার হাতে গড়া স্বর্গের শোভায়।
চেহারা মোবারক লাবণ্যময় নূরানী
পূর্ণিমা চাঁদের চেয়ে সুন্দর দেহ খানি।
দুধে আলতা মিশ্রণে রং হয়,
তেমনি রসূল তেমনি নাহি ক্ষয়।
মধ্য আকার, মধ্য রেখায়-সুপুরুষ দুনিয়ায়,
আসবে না আর কেহ এ জমানায়।
যে দেখেছে জীবন সার্থক হয়ে গেছে,
নাহি বেহেশত নাহি দোযক অভাব ঘুছে।
চুল ছিল রাসূলের কোকড়ানো দুল,
ফুটে যেন বেহশতের শত শত ফুল।
কখনো ঘাড় কখনো লতি পরে,
থাকিত চুল উড়ে মাঝে সিতে ধরে।
শেষের বেলা কয়েকটি চুল লালাভ,
দেখাতো সুন্দর হয়ে অবয়ব।
পরিমিত আকারে মাথা অপেক্ষায় বড়,
প্রশস্ত ললাট ছিল যে মধুর।
মণি যুগল ছিল কালো,
চোখের পাতায় সর্বধা আলো।
সুন্দর সুউচ্চ নাসিকা রাসূলের,
রজতে শুভ্র দাঁত ছিল মনোহর।
হাসির পরে মুক্তা চমকায়,
সুন্দর দাঁত ফাঁকায়-ফাঁকায়।
মনোরম মাংশল কাঁধের হাড়ে,
আকার বড় ছিল নমনীয় ভাড়ে।
স্কন্দ্ব দ্বয় মধ্যস্তলে কবুতরের ডিম,
সদৃশ্য এবং উচু মাংশ মোহরের নবুয়ত ভীম।
সুন্দর করে লেখা লা ইলাহা ইল্লাহ…
মোহরের তিলক পশম রং ইশৎ লালহ।
বুকের মাঝে প্রসারিত লম্বা দাড়ি,
চাঁদের চেয়েও সুন্দর স্নিগ্ধ সারি।
কাড়িত সবার মন ছিল মনোরম আকর্ষণ,
তার চেয়ে ও সুন্দর ছিল মানবীয় আচরণ।।
……………………………………………

যুদ্ধে যাব

মাগো আমায় দাও সাজিয়ে যুদ্ধে আমি যাব
চন্দ্রলোকের অচিনটাকে ভেঙ্গে আমি দেব।
যাত্রা পথের পথিক হয়ে করব অভিযান
ঝরবে সদা বৃষ্টি আগুন, ঝরবে সুখের অম্লান।
কামাল পাশা চলছে যেমন মৃত্যুজয়ের রথে
খালিদ হব ঘোড়ায় চড়ে, মরুভূমির পথে।

মাগো আমায় দাও সাজিয়ে যুদ্ধে আমি যাব
রাত পোহায়ে সকাল এলে তোমার কথা কব।
বিশ্বপথে চলব মাগো একটু দুআ পেলে
পথের কাঁটা সরিয়ে দেব বুকের সাহস ঢেলে।
নবীর শিক্ষায় দীক্ষা আছে নেইতো হারাবার
যুদ্ধে যাব মাগো তোমার কষ্ট মুছিবার।
মাগো আমায় দাও সাজিয়ে যুদ্ধে আমি যাব
যুদ্ধে গিয়ে শহীদ হয়ে সাহসী বীর হব।

আচঁল খানি দাও বেধেঁ আমার কপাল চরণে
গর্ব মায়ের হাসি যেথা তোমার ছেলের মরণে।
প্রতিশিরায় ওঠছে ব্যাথা দাওনা আমায় ছুটি
তোমার ছেলে গেলে মাগো বিপদ যাবে টুটি।
……………………………………………

আমার এ গ্রাম

আমার এ গ্রামে
ভালবাসা রতন জড়ায় মুগ্ধ প্রেমে।
আকাঁ বাকাঁ মাঠ দূর ধান ক্ষেতের পাশে
জলভরা দিঘি স্পন্দনে টলমল হাসে।
আমার এ গ্রামে
সুমধুর আযান, দূর মসজিদ পানে।
পাখির কলকাকলি, কাছামাটিয়ার কলতান
মৃদু মৃদু স্পর্শে ডাকে শান্তির আহ্বান।
আমার এ গ্রামে
ফুল, ফল জাগেঁ কত যে স্নেহ প্রেমে।
ছোট ছোট মাঠে, ঘাস খায় গরু
সারি সারি সাজাঁনো অপরুপ তরু।
আমার এ গ্রামে
মানিকের চিঠি আসে প্রতিদিন খামে।
সকালে ওঠে মায়েরা, শিশুদের কান্না শুনে
পাখিরা ছুটে যায়, খাবার সন্ধানে।
সুখদুখে দিন যায়, গ্রাম থাকে দাঁড়িয়া
তবুও থাকি দিনরাত সব কিছু ভুলিয়া।
……………………………………………

রাতের তারা

রাতের বেলা আকাশ কোণে, একটি তারা আসে
আমায় দেখে সেই তারাটি, ঝিকিমিকি হাসে।

ডাকে আমায় চুপি চুপি, হেসে কথা বলে
আমার সকল গোপন কথা, বলি তারে খুলে।

যখন আমার কান্না আসে, আকাশ পানে চেয়ে
সেই তারাটি ও সঙ্গে কাঁদে, শোকের গান গেয়ে।

আমায় তখন শান্তা দেয়, দুখের সাথী হয়ে
আমায় তখন হাসতে শেখায়, মিষ্টি কথা কয়ে।

আকাশ ভরা তারার মাঝে, ঐ তারাটি চিনি
সুখে দুঃখে পাশে থেকে, বন্ধু হল যিনি।।
……………………………………………

তারা

পুব আকাশের তারা, হঠাৎ চমকে দিলে
শান্ত দিঘির জল,
শেষ রাতের তারা, হঠাৎ থমকে দিলে
হিমেল হাওয়ার ঢল।

ঐ আকাশের কিছু তারা, কিচ্ছু বুঝে না-
শুধুই ধরে হাল,
কেউ বাসেনা, একটু ভালো –
একটি লয়ের তাল।

মধ্য রাতে মেঠো চাদঁ, এক পলকে-
উদাস করে তারা,
শিশুর ঘুম, দু চোখ জুড়ে
হয় যে পাগলপাড়া।।
……………………………………………

ভূত

আজগুবি নয়, সত্যি কথা বলছি ছুঁয়ে দিল,
কালকে রাতে আমার পথে ভুত মেরেছে কিল।
বাপরে!একটি নয়রে,দুটি নয়রে,চার চারটি ভূত,
আরো আছে বেজায় রকম ভূতের অনেক পূত।
ওরা কিনা বলে, খাবে আমায় ছিঁড়ে,
লাফ মেরে যায় অনেক দূরে,কিলটি আমায় মেরে।
আজব কথা ভূতের মার, কেউ করবে না বিশ্বাস,
শত শত কিল পড়ে মোর, নিতে একটা নিঃশ্বাস।
কাটত যদি, ছিড়ত যদি, আমায় ওরা ধরে,
তবুও মরে বেঁচে যেতাম, এক নাগাড়ে মরে।
কিন্ত ওরা, জোরসে করে, কিলটি মারে জোরে,
আমি তখন কেঁদে ওঠি, ওদের হাতের মারে।
আমি ও দেই ধুমতারাক্কা, ভয়ে দুচোখ বুজে,
না লাগাতে পারি কিল, পাইনা কাউরে খুঁজে।
আমিও তাই সাহস করে, বুক ফুলিয়ে বলি হেকে,
সাহস থাকলে সামনে আয়, কেন মারিস আড়াল থেকে।।
হঠাৎ দেখি সামনে ভূত, আজব রকম চেহারা
ভয়ে ভয়ে শুধালাম, তোমরা বাপু কাহারা?
ভূত ব্যাটারা গর্জে ওঠে, আসে বুঝি তেড়ে,
তার পেছনে বাচ্চা ভূত, দাতঁ কিজবিজ করে।

ভয়ে ভয়ে আঁধারে, দিলাম আমি ছুট
হঠাৎ পড়ে উল্টে গেলাম, শব্দ করে হুট।
পিছনে চেয়ে দেখি, মস্ত বড় বাঘ
ভূত মিলিয়ে বাঘ, হলাম আমি আগভাগ।
যেমনি আমি দাড়ালাম, তেমনি গেলাম পড়ে
কানের কাছে বলল কে রে ? বেলা গেল ওঠরে।
চেয়ে দেখি শুয়ে আছি, মেঝেতে পড়ে
মাগো আমায় জড়িয়ে আছে, আচঁলে ধরে।।
বাবুই পাখির বাসা
আমাদের ওই গাঁয়ে, বাশঁ বন ছাড়িয়ে
তাল গাছ উঁচুতে, বাসা করে বাবুই এ।
নড়বড় করে বাসা, পড়ে নাকো মাটিতে
মাঝে মাঝে ঢিল চূড়ি, দূর গাছ উচুঁতে।
লাগে নাকো একটা, যায় সব ফসকে
ব্যাথাময় দু হাত, আঁধার আসে চক্ষে।
সন্ধ্যায় ফিরি বাড়ি, আপু বলে কিচ্ছা
বাবা দেয় কানমলা, দেয় কিল সাচ্চা।

পড় এবার বসে বসে, আর নয় কিচ্ছা
বুঝবিরে বড় হলে, এখন তুই বাচ্চা।
ঘুম ঘুম ঢুল ঢুল, ঘুম আসে চক্ষে
বাবুই এর বাসা পাড়া, সাড়া জাগে বক্ষে।
বাবুই পাখি আসে তেড়ে, যেন তারা বিচ্ছু
সারা গাঁয়ে আচড় কাটে, মুক্তি নাহি কিচ্ছু।
দৌড়ে ছুটি এদিকওদিক, কাঁদি গলা ছেড়ে
ঢিল আর ছূড়ব না, বলি কান ধরে।
দাঁতে দাঁত লেগে হঠাৎ, ওঠিলাম জেঁগে
চেয়ে দেখি পাশ ফিরে, মা আছেন রেগে।
আজ থেকে যাব নাকো বাবুইয়ের বাড়ি
তার সাথে চিরদিন হল আমার আড়ি।
……………………………………………

ঈদের খুশি

একটি দিনে হাজার খুশি এসো আমরা লুটি
সবাই মিলে ঈদ বাগিচায় ফুল হয়ে ফুটি।
আকাশ ভরা তারা হয়ে হরেক দিকে ছুটি
সবার চোখের জল মুছিয়ে দুঃখ কে দেই টুটি।

বাবুই হয়ে পাখির বাসা আমরা সবাই বুনি
হ্নদয় সাগর পূর্ণ করে ছাড়াই দিকে ধ্বনি।
এই খুশিতে দুংখ করে গরীব মানুষ জানি
সবাই মিলে একটু করে, বাড়ি দু হাত খানি ।

আমি হাসি তুমি হাস, পূর্ণ জীবন করে
গরীব দুখী হাসুক সবাই এই আমাদের ঘরে।

আমাদের এই নদী
আমাদের এই নদীটারে, ঘিরে রাখে আধাঁরে।
নেমে এলে সন্ধ্যা, তরী পড়ে বান্ধা।।
আকাঁ বাকাঁ এই তীরে, মায়া লতা রয় ঘিরে।
শেয়ালের রা উঁকি মারে, আমি সদাই খুজিঁ তারে। ।

আলো জ্বালে কাহারা? মাছ ধরে জেলেরা।
চুপচাপ কাশবন, ঘুমে থাকে আনমন।
রুপে তার বাহারে, মনে হয় চিনারে।।
……………………………………………

তারা

জানিস কি মা ঐ আকাশের তারা
বলল আমায় ওরে পাগল পাড়াঁ,
দিস নেরে তুই চমক রাঙা
সংগ্রামের ঐ সত্যাধারা।

জানিস কি মা কেমনতর, বিদ্রোহী এক সুরে,
ঐ দেখ মা কাঁদে কারা?এই আমাদের ঘরে।

অন্ন চাই, বস্ত্র চাই, চাইতো বাঁচার অধিকার,
না খেয়ে আমরা মরি, শোষক করে সাবাড়।

জানিস কি মা ইচ্ছে করে, ধরে সকল গোঁসাই
তারার দেশে হাটু গেড়ে, একটা সালিশ বসাই।

এরাও কি মা পথ হারা? ঐ আকাশের তারা,
রাত্রি এলে দেখ কেমন, বিস্ময়ে দেয় নাড়া।
আকাশ ভরা তারার মেলা,তবুও ধূসর মানব ছবি,
তাইতো মাগো ইচ্ছে জাগেঁ, হতেম যদি কবি।
……………………………………………

বই

সবার চেয়ে ভালো বাসি আমার আপন বই
বই যে আমার এমন আপন সবার কাছে কই ।
সময় পেলে সদা আমি বই পড়ি যে বই
উপর তলার মানুষ হতে আপন হল বই।
বই ছাড়া কেউ এ দুনিয়ায় পায়না আপন সুখ
বিপদ-আপদ সর্ব বেলায় উজ্জ্বল করে মুখ।
বইতো আমার মনের মানুষ আবিষ্কারের নেশা
বই পড়িলে পাবে মুক্তি হয়ে গেলেও দিশা।
জ্ঞানী হবার এটাই চিবি জগৎ জোড়া মানি
বই পড়লে হবে তুমি বন্ধু মানব জ্ঞানী।
বিশ্বদেশের সকল মনিব আপন ওদের বই
যুদ্ধ ক্ষেত্রে বইয়ের প্রথা ঘটেছে হইরই।
পড়ার শেষে নিভির বেশে ক্লান্তি যখন আসে
চোখ বুলাই তার ছবির উপর রেখে তাহা পাশে।
মানুষ নামের বন্ধু হলে করে না না ভঙি
কেউ হবে না পৃথিবীতে বই এর মত সঙ্গি।।
……………………………………………

মা

মাগো মোর আখিঁপাত জনম জনম
সূচনার আবাস্তল তোর বুকে ঘর;
আহা শান্তি! আহা ক্লান্তি! কী যে মনোহর
জড়ায়ে আচঁল প্রান সুধা মনোরম।

দেখালে পৃথিবী অমৃত ছায়া পরম
কোথা যাই! কোথা পাই! এমন লহর;
তোমা বিনে কাটে না যে একটি প্রহর,
পাব কিরে ফিরে তোর মত সুধারাম।

পেছনে ফেলি শত আখিঁতে মোর ঘিরে
কালের প্রহরে তুমি কভু নাক রবে,
মাতৃস্নেহে স্নাত্ব আমি, তুমি রবে ফিরে ।
একটু পরশে মাগো এসেছিলে ভবে
দুআ মোর আরতি স্বর্ণ আরশ ভরে,
বেহশত তব হয় মম তোমাতে হবে।
……………………………………………

শঙ্ক নদীর বিয়ে

শঙ্ক নদীর বিয়ে হবে, জোছনা ভাসা দুপুর রাতে
তোমাকে যে আসতে হবে, শঙ্ক কনের বর সাজাঁতে।।

আউলা বিবি বাউলা গানে, তারে-নাইরে না
নাচনে বুড়ি নাচবে – গাইবে, তা ধিন তা।

নদীর ঘাটে হঠাৎ জলে,চাদঁ হাসিবে ফোঁকলা দাঁতে
তোমাকে ও যে আসতে হবে,শঙ্ক কনের পান সাজাঁতে।।

শঙ্ক নদী ঢেউয়ে-ঢেউয়ে,আকাশ যাবে চুমু খেয়ে।
তাই না দেখে তোমার মনে,ভাব হবে যে আমার সনে।

ঝিনুক বলে সময় হলে,মুক্তা দেব প্রেমকাঁটা তে,
তোমাকে যে আসতে হবে, আমায় তুমি বর সাজাঁতে।
……………………………………………

চুপ

আজকে দাদা বলতে হবে ধর্ষনে কি মজা?
বন্যপ্রাণীর পুচছ নাড়া ভাবছ বড্ড সোজা।
মগের মুল্লোক রাজ আসনে দেখ কারা বসা?
এক থাপরে ভর্তা কর কামড়ে দিলে মশা।
অবাক চোখে একলা দাদা সময় নিল খানিক
জানিস না এ কথা টা সংবিধান কী মানিস?

মুচকি হেসে দাঁত খেলিয়ে “তোর কথা ভাইল”
বলতে পারিস কে দিয়েছে চুত মারানি গাইল?
প্রশ্ন শুনে আত্মা আমার লজ্জায় দিল ডুব
লাল দালানে ঢুকিয়ে দেবে এজন্যই তো চুপ।

পাশের বাড়ির বড় দাদা তার সাথে শাহজাদা
সাধ্য আছে কার? বলতে তোমায় হারামজাদা।
চুপসে গেলি হাদা
বললে হেসে দাদা।
টনক খেয়ে একটু থেমে দাদা দিল দড়ি
ঝুলগে গাছে! রোজ খেয়েছি মিথ্যা বলার বড়ি।
মরদ তোদের জেনে গেছি –
তাইত আজ তোদের মেরে আমরা বেচেঁ আছি।
……………………………………………

হিমু

আমিতো হিমু নই, পৃথিবীর ক্যানভাসে
কে ডাকে চুপি চুপি, দরজার ও পাশে।

সারারাত নির্ঘুমে, বসে ভাবি আনমনে
আঁধারে চুপি চুপি, কে তুমি ওখানে।
ঘুমতো আসেনা, তাহারও নিঃশ্বাসে
কে ডাকে চুপি চুপি, দরজার ও পাশে।।

মনে পড়ে কবেকার, কচিমুখ কবিতার
কতদিন দেখিনা,সেই স্মৃতি পাড়াঁ গাঁ র।
দরজাটা খোলে দেখি, দু একটা জোনাকি
ফিরে ফিরে আসে।
কে ডাকে চুপি চুপি, দরজার ও পাশে।।

আমিতো হিমু নই, পৃথিবীর ক্যানভাসে
কে ডাকে চুপি চুপি, দরজার ওপাশে।
……………………………………………

বন্ধু

জোনাকি সন্ধ্যা সাথী
বন্ধু তুমি
সন্ধ্যা বুঝ কি?
ভালবাসা চড়ে যাবে-
দাও যদি একমুঠো জোনাকি। ।

চাদঁ এসেছে ধরায়
বন্ধু তুমি
চাদঁ বুঝ কি?
তারা হয়ে রবে-
দাও যদি একটা প্রেমের পালকী।

জোছনা এসেছে ধরায়
বন্ধু তুমি
জোছনা বুঝ কি?
স্নান করে যাবে-
দাও যদি কিছু তারকাদের ঝিকিমিকি।।
……………………………………………

ইসলামের সৈনিক

আমি তো পারিনা, কোন কিছু লিখতে
ভালো লাগে তোমাদের, মুখ চেয়ে থাকতে।

তোমাদের মুখ দিয়ে, হাদিসের ফুল ফোটে
তোমাদের দেখলেই, মনে পড়ে খোদাকে।।

তোমাদের ভয় কেন, সত্য পথে চলতে?
ভয় নেই তোমাদের, আল্ কুরআন থাকতে।

তোমাদের সালাম জানায়, কিশোর অনিক
তোমরা যে ভাই, ইসলামের সৈনিক।।
(Amanullah Raihan কে উৎসর্গ )
……………………………………………

আমার আছে জীবনানন্দ

আমার আছে জীবনানন্দ, তোমার আছে কি?
হতে পারি গীতাঞ্জলী, তুমি পার কি?
আমি বাঁচি বিরহে, তুমি বাঁচো কি?

আমার আছে নীলাকাশ, নীলে নীলে ছড়াছড়ি
আমার আছে বিরহ ঘুড়ি, আকাশে উড়াতে পারি
আমি পারি কাঁদতে, তুমি পার কি?

আমার আছে ফেরারী রাত
জোছনায় জোনাক জোনাক।
আমার আছে জানালা, এ হৃদয় উজালা।
হতে পারি রাত পাখি, তুমি পার কি?
……………………………………………

মাগো তারা

কত দূরে আমায় ছেড়ে, দুখিনী মা থাকে
লোকে বলে মাগো নাকি, তারা হয়ে গেছে।

কতই তারা উঠে, চাঁদের উঠোন জুড়ে
কোন তারাটি আমার মা, আমার দু চোখ জুড়ে।
না পেলে তাই সেই তারাটি, বুকে ভীষন লাগে।

ওই কি আমার মাগো তারা, ঝলমলিয়ে জাগে
যে তারাটি চোখে ভাসে, সব তারাদের আগে।
না পেলে তাই সেই তারাটি, বুকে ভীষন লাগে।।
……………………………………………

টেক্সটাইল ছড়া

ক.
হোম নয় ডোর নয়, নয় ভাই উইনড্রো
ভাল করে চেয়ে দেখ নাম তার হাইড্রো।

টাইপ বুঝে ফেব্রিক্স, করে শুধু হাইড্রো
দেখতে চাও যদি এসো ভাই কালতো।

ফিনিশিং এ সূচনা, নয় ভাই ফালতু
হাইড্রো চালায় ভাই, অপারেটর আলতু।
খ.
যা ছাড়া ফিনিশিং, ফ্রেব্রিক্স এ লাল কার্ড
সেই ভাই মহামানব, নাম দাদা স্ট্যান্ডার্ড।
মাপ বুঝে ফ্রেব্রিক্স, পারে সে চালাতে
ঠিক রেখে উইডথ ও জিএসএম, পারে সে শুকাতে।
কত যুগ ধরে চলে, কেউ নাহি জানে
সেই কথা জানে ভাই, অপারেটর মতিনে।।