জীবাণু বোমার অট্টহাসি

ও মানুষ, ও আমেরিকা ও শয়তান
জীবাণু বোমাকি সাদ্দাম হোসেনের পকেটে পেয়েছিস
ইরাকের অস্ত্রাগারে কিম্বা তারিক আজিজের হাম্মাম খানায়?
না তোরা কোথাও পাসনি সে বোমা
তোরাই বলোছিস ভুল হয়ে গেছে
সাদ্দামের ফাসির পর কি চানক্য উপহাস!

বোমা তো তোরাই বানাস,
তোরাই মারনাস্ত্র তৈরি করে বাজারে বাজারে
কখনও কখনও কালো বাজারে বিক্রি করিস
যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় ভালো বানিজ্য করিস।

মাথা মোটা মোচলমান,গরুখোর,পেজ
খোর মাথা গরম ম্লেচ্ছরা তা বোঝে না
তারা পায়রবী করে পশ্চিমের।
যারা বোঝে তারা সংখ্যালঘু
তারা অসহায়
তারা নাবিক ছাড়া নৌকার হতচ্ছাড়া বনি আদম।
তারা প্রভুর বিতানে ফরিয়াদ করে
তারা রোনাজারি করে!

এবার সত্যি সত্যি খাঁচার কপাট খুলে
লোকালয়ে চলে আসে জীবাণু বোমা
অদৃশ্য করোনা ভাইরাস কামড়ে কামড়ে শেষ করে দিচ্ছে মানব জীবন!

যে মিথ্যা কারণে,অপবাদে ফাঁসি হয়েছিল
মহান সাদ্দাম হোসেনের
সেই
ফাঁসি বুমেরাং হয়ে
মানুষের গলায় দারুণ ফেঁসে যাচ্ছে
ফাঁসি কাষ্ঠে ঝুলে থাকার কষ্টের মত শ্বাসরুদ্ধ
বেদনার মৃত্যুর রুমাল নিয়ে লক্ষ লক্ষ
মানুষেরা সাদ্দাম অথবা ওমর মোখতার হয়ে যাচ্ছে।
…………………………………………..

আমার সুখের জীবন

আমার সুখের জীবন দুঃখে ভরে গেল
ঝড়ো হাওয়ায় হল এলোমেলো।
সুখের জন্য পেতেছিলাম ঘর
আমায় সেই ঘর ই শেষে পর
আমার দুঃখ জীবনভর।
কে যে আমার আপন ওরে কে যে আমার পর
বুঝাতে বুঝতে জীবন গেল
জীবন আমার পর।
আমি কোথায় গেলে সুখ পাব রে
কোথায় আমার ঘর।

ঘরের ভেতর ঘর খুজতে
আপন জনরে খুজতে খুজতে আপন হল পর।
এই জগতের ভেতর বাহির মনেরও অন্তর
আমি দরবেশী হাল মনে নিরন্তর।
যাকে আমি আপন ভাবি
যার হাতে দেই সোনার চাবি
সে ই বুঝে হায় পর।
আমার সর্বাঙ্গ জ্বলে রে ভাই জ্বলে যে অন্তর।
কোথায় আমার ঘর বাড়ি আর কোথায় ঠিকানা
আমি জন্ম সুখি জন্ম দুখি, লোকে কয় কানা।
…………………………………………..

লক ডাউনের ছড়া

লক ডাউনের লকারে সব কিছু আজ লকড,
হাত বাড়িয়ে ধরলে পরে খাবে ভীষণ শকড।
ধরা যাবে না ছোঁয়া যাবেনা করা যাবেনা টাচ
এমন কঠিন ধরা খাইছে টক হবেনা মাচ।
হায়রে স্বাধীন মানুষ গুলো আজকে খাঁচা বন্দি
পাখির সাথে করা যাবেনা আর কখনও সন্দি।
পাখিরা আজ মুক্ত স্বাধীন পাখির ডানা খোলা
মানুষ গুলো প্রতিবন্ধী মানুষ গুলো নুলা।
হায়রে মানুষ স্বাধীন মানুষ বলা যাবেনা কথা
মানুষ গুলোর মুখ শেলানো কঠিন নীরবতা।
মানুষ মানুষ স্বাধীন মানুষ হস্ত পদ বন্ধ
স্বাধ আল্লাদ সব খুইয়েছে পায়না কিছুর গন্ধ।
মাথার ভেতর জট বেঁধেছে কিছুই মাথায় খেলেনা
ছোট্ট সূক্ষ্ম পোকার থেকে বাঁচার পথটা মেলেনা।
হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস বন্ধ বড়াই,আড়াই দাড়াই
জ্ঞান গরিমা গোল্লায় গেছে দু’পায়ে তা কর রে মাড়াই।
…………………………………………..

মা গো মা

মা গো মা ও মা মা
তোমার সাথে নাই কারো তুলনা।
মা গো মা ও মা মা
তুমি আরশের ছায়া
তুমি নবির প্রিয় মায়া।
মা গো তোমার চরণ তলে
আমার সুখ বেহেশত জ্বলে।
মা গো মা ও মা মা
তুমি তোমার তুলনা।
মা গো তোমার চরণ তলে
দাও গো আমার ঠাই
মা গো এই জগতে তোমার তূল্য
আর যে কেহ নাই।
মা গো মা ও মা মা
তোমার এক ফোঁটা দুধের মূল্য
এই জীবনে দিব কেমনে মা
তুমিযে অমিয় তুমিযে অমূল্য।

মা গো তুমি খোদার সেরা দান
মা গো তুমি জীবন অফুরান।
মা গো তোমার সেবা করে
যেতে চাই গো পরপারে
তুমি এস আমার ঘরে,
আমার মনটা কেমন করে।
মা গো মা ও মা মা
তুমি তোমার তুলনা।
…………………………………………..

জায়নামাজ থেকে বলছি

আর কার কাছেই বা বলব যা বলার
তা কেবল তোমাকেই বলব
আর কোন অভিভাবক নেই
আর কোন স্রষ্টা নেই
শেষ ভরশার পারানিও নেই
কেবল তুমিই প্রভু
কেবল তুমিই করুণা নিধি
তোমাকেই শুনতে হবে
তোমাকেই মানতে হবে।

আমরা সকলে অবাধ্য নই
আমরা বিরুদ্ধচারী নই
আমরা শ্বিকার কারী।
আমরা সকলে তোমারই সৃষ্টি
তাই তোমাকেই শুনতে হবে
তোমাকেই মানতে হবে।
এই জায়নামাজে বসেই বলছি
এই মসজিদের নগরে বসেই বলছি
তোমার ঘরের অসিলায়
তোমার নবির অসিলায়
আমাদের ক্ষৃমা কর
এই অভিশাপ
এই দুর্ভিক্ষ থেকে ক্ষুধার যন্ত্রণা থেকে
আমাদের রেহাই দাও গো তুমি।
করোনা গজব থেকে
হঠাৎ মরন থেকে আমাদের রক্ষা কর।
নুহ৷ নবির জাহাজ থেকে বলছি
জায়নামাজে বসেই বলছি
তোমার পাপিষ্ঠ বান্দার কারণে আমাদের
শান্তি দিওনা
এই ঘর এই মসজিদ এই শহর নগর
যেভাবে সুরক্ষা দিচ্ছ
আমাদের সেভাবেই রক্ষা কর
আমাদের হেফাজত কর
তোমার বন্ধুর অসিলায়
তোমার বন্ধুর পবিত্র মায়ায় হে প্রভু
হে মালিক হে খালিক তোমার সৃষ্টি
আজ হেফাজত কর,
তোমার মায়ার চাদর সকল সৃষ্টির ওপরে টাঙিয়ে দাও
করুণার বৃষ্টিতে ভিজিয়ে দাও
সবুজে সবুজে সবুজাভ গম্বুজের ঘ্রাণে ভরিয়ে দাও
এ জ্বরাতুরা মায়াবী পৃথিবী।
…………………………………………..

একজন মাওলানার মৃত্যু

মিতু ভাবী তুমি আজ একা হয়ে গেলে
বড় একা হয়ে গেলে।
শুধু কি তুমিই একা হলে?
আমি কোন সাহাবীকে দেখিনি, কেবল তাঁর মধ্যে
কোন এক সাহাবীর প্রতিরুপ দেখেছি
টি,এস,সির পরিচিতি সভায়, ডাকসু নির্বাচনে
সেই তাকে অবাক বিস্ময়ে মুগ্ধ মনে দেখেছি
তাঁকে আরও নিবিড় ভাবে দেখেছিলাম
রসায়নের শ্রেণি কক্ষে তুখোড় বক্তৃতা দিতে।

তিনি চাটিগার লোক
তিনি ঢা,বি,র অমূল্য ছাত্র ছিলেন
তিনি অধ্যাত্ম শিক্ষক ছিলেন অনেক অনেকের।
এমন নিরীহ, জ্ঞানী, নির্মোহ মানুষ এমন সরল নিরহংকার দরবেশ জন খুব কমই দেখেছি।
একজন সাহাবীর চরিত্র ধারণ করতে দেখেছি তাঁকে।
না তার কোনও পরিচয় মূখ্য নয়,
তিনি একজন মহামানবের নিগুঢ় সাধক ছিলেন।
তাঁকে তখন ভালোবাসতে দেখেছি অনেক অনেক কে
যারা তার বিপরীত স্রোতে ছিল তারাও প্রেমিক ছিল।
রাজনীতি বড় কঠিন নির্মম
মানুষকে দূরে ঠেলে দেয়!
প্রভুকি তাঁকে সুদূরে রেখেছেন?
এক সর্বনাশা সমুদ্র উচ্ছ্বাসে জলোচ্ছ্বাসে ভেসেগিয়েছিল তাঁর পিতামাতা আরও অনেক জন
তিনি বাক রূঢ় হয়ে যান
তিনি নিভৃতে প্রভুর সন্দর্শনে মুগ্ধ হয়ে থাকেন
তিনি সত্যিসত্যি চলে গেলেন সিয়াম সাধনার রেশমি চাদরে তিনি আবৃত হলেন।
মিতু ভাবী আপনি অপেক্ষা করুন, ধৈর্যের সিড়ি তে
মা আয়েশার মমতা মেখে দাড়িয়ে থাকুন
প্রভুর বিতান থেকে শীঘ্রই পুষ্পেের সুঘ্রাণ পাবেন।
ভাবী আপনি কি একাই নিঃসঙ্গ?
…………………………………………..

ঐশীর চোখ মুখ থেকে

ঐশী তুমি কি আমার মা আমার বোন,
তোমার কন্ঠের আল্লাহু আল্লহু হামদ
আমাকে উতলা পাগল করে দেয় আল্লাহ প্রেমে
তোমার কন্ঠে ওমন দরদ মাখা সুর কে ঢেলে দিয়েছে?
আহা আমার জন্মের পর এমন কোকিলা কন্ঠস্বর
শুনিনি কখনও।
তোমার হামদ শুনে মেঘের পালক গলে বৃষ্টি ঝরে
পাহাড়ের ঝর্ণা ছোটে
পাখিরা উতাল সুরে গান গায়
ফুল ফোটে ভ্রমরেরা গুনগুন গায়
ফেরেশ্তারা আকাশে র খিলান গলিয়ে রেশমি পালক
ছড়িয়ে দেয় ভুবনে

ও জোছনা ওসোনার মেয়ে
তোমার সুরেলা গান স্রষ্টার আসনে দোলা দেয়
প্রভুর আরশ থেকে ঝরে পড়ে স্বর্ণজ্যোতি
ঝরে পড়ে হিরে জহরত
জান্নতের কানন কমল থেকে উড়ে আসে হুর
পৃথিবীতে শুরু করে আনন্দ গোছল
পুষ্প পাপড়ি মঞ্জুরী ঘ্রাণ মাতোয়ারা করে নিখিল ভুবন
ও মেয়ে ও ঐশী তোমার কন্ঠে কে দিল ওই ঐশী মাধুর্য
কে দিল ওমন প্রাণ মাতানো সুরের লহরি!
ঔশী সোনা বোন প্রিয় নবির রুমাল ওড়ে কি
তোমার নেকাবে,
তোমার কন্ঠে নিশ্চয় ভর করেছে প্রিয়নবির
আল্লাহু আল্লহু কন্ঠ স্বর জিকিরের কুহুতান।

ও মেয়ে আমাকে তুই জন্মান্ধ পাগল করে দে
আমাকে প্রভুর প্রেমে করে দে দিল দেওয়ানা
জিগরী জিকিরে করে দে ফানা ফিল্লাহ
…………………………………………..

জোছনার কাছে যাব

আমি জোছনার কাছে যাব
জোছনা আমার বোন
চন্দ্র বোনে সাপ,হাসনাহেনার গন্ধে
সোলেমান নবীর জ্বীনেরা কাননে আনন্দে ঘোরাঘুরি করে,
ও জোছনা তোকে আমি অমাবস্যা রাত পেরিয়ে নিতে এসছি,তুই এখনি উত্তরা কপাট খুলে চলে আয়।
নবির জ্বীনেরা বিলকিসের কাছে যাবে।
কত রাত তোকে দেখিনা
তোর স্বর্ণমুখ, তোর চোখ তোর মায়াবী ইশারা
ভাই ডাক শুনিনা কত কাল!

আমাদের আকাশে জমেছে কালো মেঘ
কালো কার্বন কনারা শামিয়ানা টাঙিয়ে রেখেছে
তোর উজ্জ্বল চন্দ্রালো মুখ মায়াহরিণের চোখ
আমাকে পাগল করেনা এখন।
তোর হৃদয় হরণ করা নাত বিহগের কলতান
আমাকে এখনও দেওয়ানা করে
বল,তোকে কি করে উদ্ধার করি?

তুই কেবল আমারই বোন,সহোদরা বোন
জোছনা তুই তো পৃথিবীর বোন
তোকে ছাড়া গমনাগমন, কাল গননার পল
কি করে হিসেব হবে?
আমদের করোনার গ্রাস, রাহুগ্রহ চলে যাবে
শেষ নবি আবারও আঙুলের ইশারা দেবেন
আবার আবাদ হবে ফসলের মাঠে কৃষাণের হাসি ঝরবে
হে চাঁদ জোছনা বোন আমার ঘুমের মশারী এক্ষুনি
খুলে ফেল,
ওই তো তিনি আসছেন
সুরাইয়া তারকার সাথে তুমি হেসে ওঠ বোন।
…………………………………………..

নিঃসঙ্গ পৃথিবী পৃষ্ঠে

আমি নিঃসঙ্গ পৃথিবী পৃষ্ঠে দাঁড়িয়ে রয়েছি, ভীষণ একা কেউ কোথাও নেই, নেই পশু পাখি
আকাশের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে থেকে
দেখি কোনো এক সুদুরের গোলক থেকে
আলোকের বৃষ্টি ভরিয়ে দিচ্ছে এ আধার পৃথিবী
আমি পৃথিবীর স্রষ্টাকে বলছি
আমিএই গোলকের প্রভুকে বলছি
তুমি আলোয় আলোয় ভরে দাও এ জগৎ।

আঁধারের প্রভুকেও বলছি
আমাকে দাও হে সুন্দর আলোকের অবগাহন
তোমার সৃষ্টিকে দেখার এ চোখ দিয়েছ যেমন
তোমাকে বোঝার হৃদয় দাও হে আমাকে
আলোকে আলোকে ভরে দাও এ আঁধার জগৎ
এ কেমন নিঃসঙ্গ পৃথিবী, এমন জগৎ এমন গোলক
এর আগে দেখিনি কখনো
আমি কি প্রথম মানুষ, আমিকি প্রথম আদম!
কোথায় আমার শান্তি নিকেতন,
কোথায় আমার সেই সুবর্ণ সুন্দর আলোকালয়
অলকার সুবাসিত সেই সোনা স্বর্ণালয়?
কোথায় সেই সবুজ, সবুজাভ স্বর্ণের মিনার
এই গোলক পৃষ্ঠের ওপর দাড়িয়ে
কি এক বিরহের কি এক বেদনার লহনায়
কি এক শুন্যতার মৌন মোহনে আবিষ্ট
কি এক একাকী একাকিত্বের মোহন মায়ায়
কি এক না পাওয়ার, কি এক হারানো যন্ত্রণার
বৈকুণ্ঠ চুড়ায় একাকি নৈঃশব্দের বেলাভুমে
দাড়িয়ে রয়েছি
আমাকে আলোক দাও
আমাকে সবুজ খামার দাও
দাও ফুল ফুল ফসলের নদী নালা জগতের
মুগ্ধ বাতায়ন,
একাকী দোসর দাও
কথার ঝর্ণা ধারা দাও।
…………………………………………..

দুঃস্বপ্নের কালোরাত

দুঃস্বপ্নের কালোরাত খেয়ে ফেলছে
চাঁদের শরীর, জোছনার দুধ
হাড়িভাঙা অন্ধকার, ঘুটঘুটে কালোসাপ ফনা তুলে
তেড়ে আসে বেহুলার ঘরে
কোথায় সকাল ঝকঝকে সূর্যের আলো
কোথায় সবজি সবুজ, আনাজের কোলাহল
কোথায় বেহালা সুর,গাঙুড়ের জল
লখীন্দরের লাশ ভাসে কালীদহ স্রোতে
জীবনের ভাসানের গান করুন কোকিলা যেন

ও জীবন ও জোছনা দোহাই তোমার
তোমাকে শোনাব দাউদের গান
তুমি তীরে এস তিমির হননে তুমি সুর তোল অর্ফিয়ুস
বাজাও বাঁশীটা জীবনের বীন
সাতসমুদ্র পেরিয়ে গভীর জঙ্গলে রাজার মহলায়
এসে পৌঁছে গেছি
তুমি চোখ খোল,তিতির পাখির মত তোমার চোখের
কিংখাব নাড়াও,
তুমি উঠে বস,রাত্রিরা পালাবে
তুমি এস রাজার কুমার
তুমি এস বনি আমিন,কুপের অন্ধকার থেকে
এসেছেন ইউসুফ,
তোমার জামার ঘ্রানে অন্ধ ইয়াকুব দৃষ্টি ফিরে পাবেন

ক্লিষ্ট গাভীরা আর পারবেনা খেতে পরিপুষ্ট গাভীদের
ইউসুফ পেয়েছেন সিংহাসন,খাদ্যের গুদাম।
হে চাঁদ রাতের জোছনা তুমি জুলেখার হাসি দাও।
…………………………………………..

আকাশের অজগর

সুন্দর বনের অজগরের মতন
আকাশেও রয়েছে অনেক অনেক অজগর,ভীষণ ভয়াল হা করা ভয়ংকর কৃষ্ণ অজগর

একবার এক বাঘ তাড়া করছিল এক অসহায়
বনি আদমকে, নির্ঘাত খেয়ে ফেলবে তাকে
কিন্তু বিধাতার নির্দেশ বাঘকে আপাদমস্তক
গিলে খেল অকগর
মানুষটি সেজদায় পড়ে গোল প্রভুর বিতানে।

এস্টেরয়েড বেল্টেও ঘুরছে বাঘ, সুন্দর বনের
রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিতাবাঘ, মেছোবাঘ,
বাগডাসা, গন্ডার বনবিড়াল,
হিমালয় পর্বত, আল্পস পর্বত, জাবালে নূর,
কিম্বা চিম্বুক পাহাড়, বাটালী পাহাড়,
বড় বড় পাথরের চাই, ছোট ছোট শীলা খন্ড,
পাথর,নুড়ি, বালুর ঢিবির মতন অসংখ্য ক্ষুদ্র কনা

ওদের কেউ বা কক্ষচ্যূত হয়ে ধেয়ে আসে বাঘের মত

ওরা কেউ হিংস্র থাবায় পৃথিবী ছিড়ে কুড়ে খেতে চায়

সেদিন একটি পাথরের চাই হিমালয় পাহাড়ের মত
বিক্ষিপ্ত বিক্ষুব্ধ বাঘের মতন তেড়ে এসেছিল পৃথিবীর
সবুজ শ্যামল হাতছানি পেয়ে

বিধাতা ফিরিয়ে দিলেন পরম প্রেমে আমাদের
তাড়া করা বাঘের মুখ থেকে বাঁচালেন।

তেড়ে আসা পাহাড় আকাশ অজগর মুখে চলে গেল
কালো অজগর কৃষ্ণ গহ্বর নিমিষে গিলে খেল

ঘাতকের হাত থেকে বাঁচালেন তিনি।
আমরা বুঝিনা,বুঝতে চাই না কেউ কেউ।
…………………………………………..

পৃথিবীতে দোজখ

পৃথিবীতে আমি দোজখের শাস্তি ভোগ করছি
প্রতি মূহুর্তেই আমার দোজখ
শান্তি নেই স্বস্তি নেই প্রতি পলেপলে দোজখের ভাপ লাগে চোখে মুখে নাকে
ঘরে ঢুকলেই দোজখ, দোজখের হরেক রকম শাস্তি শুরু হয়ে যায়,
হে প্রভু আমাকে কে ঢুকালো এমন নির্মম নির্দয় হৃদয়হীন জাহান্নামে।

আমি ইচ্ছে করে ক্রয় করিনি দোজখ
শান্তি নিকেতন স্বপ্নে আমি বিভোর ছিলাম
পাখি দখলে মনে হত হরিয়াল
মনে হত বক,শ্যামা,ঘুঘু,টিয়া
আমার একটা হলেই হল
কিন্তু সব পাখি যে পাখি নয়,
বাজ পাখি, ঈগলের সূক্ষ থাবার কথা ভুলেই ছিলাম
আমার কোন বিশেষ পছন্দ ছিলনা
এই ভুলের মাসুল দিচ্ছি।

প্রভু আমার কি ফয়সালা তা তুমিই জান
আমি তোমার ওপর পরিপূর্ণ আস্হাশীল
কোথায় আমার পুস্পল জান্নাত?
কোথায় আমার শান্তিনিকেতন ?
আমি এখন বিধ্বস্ত
আমাকে পুড়িয়ে মারছে জাহান্নাম
আমাকে পিতা ইব্রাহিমের মত বাচিয়ে তোল
আমাকে সুরক্ষা দাও
আমাকে ফুল ফোটাতে দাও
সবুজ পুস্পের ঘ্রাণে মুখরিত করতে দাও
জাহান্নামে বসেই তাহলে জান্নাতের নহর বানাতে দাও।
…………………………………………..

পায়ের দাগ রেখে যায়

তোমরা যখন এস নীরবে অথবা
সাড়ম্বরে, পদচিহ্ন রেখে যাও
কখনও লোকালয়ে,কখনও বন বাদাড়ে
কখনও কোন এলাকা, শহর নগর কিম্বা
কোন কোন কবিলায়
তোমরা স্বাক্ষর রেখে গেছ।
যারা বোঝার তারা তা কমই বোঝে
না বোঝার ভান করে
কেউ বা মাথা ঘামায় না নীরবে
সকলেই চলে যেতে চায় পাশ কেটে।

কতোনা শক্তির অধিকারী ছিলো
আদ আর সামুদের জাতি
কঠিন পর্বত কেটে কেটে গড়েছিল সুরম্য নগর
তারা ছিল অহংকারী একরোখা অবাধ্য জাতি।
শক্তিশালী এক বায়ুর প্রচন্ড ঝড়ো হাওয়ায়
অদৃশ্য বস্তুর থাবায় মুহূর্তে নিশ্চিহ্ন হল।

লুত নগগীর ধ্বংস যজ্ঞ, মৃত সাগরের স্মৃতি নিয়ে যেগে আছে এখনও,
পম্পেই নগরে অগ্নুৎ্পাতের সয়লাব এখনও রয়েছে
সমকামী, নগ্ন সভ্যতার ধ্বংস লীলা এখনও গায়ে কাটা দেয়,
অথচ মানুষ কুকুরের মত কেমন নগ্নতায় আসক্ত থাকে।

মানুষ শোনেনা কিছু,
এখন সারা পৃথিবী জুড়ে শুরু হয়েছে অদৃশ্য জীবাণুর
মরন কামড়,যেন পেয়েছে আবার আদ ইরেমের
ঘাড় ত্যাড়া জনপদ, শক্তির উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের
অবাধ্য রঙিন ফানুস, মানুষ তুই কত আর বোমা বানাবি!কোথায় তোর অহংকার
সারা পৃথিবী মৃতের নীরব নগর!
…………………………………………..

কোথায় ত্রাণ, পরিত্রাণের সাধনা

কোথায় ত্রাণ, কোথায় খাবার
কোথায় খিচুড়ি, জাউভাত,ভাপওঠা গরম ভাতের থালা
আলুভর্তা, সরিষা তেলের ঘ্রাণ
পেটের ভেতর জ্বলছে দগ দগে আগুন
এ আগুন জ্বলছে ভীষণ।
খাবারের শেষ ক্ষুধ কুড়ো ফুরিয়ে গিয়েছে
কোথায় খাদ্য গুদাম, জমাকরা চাল ডাল
কোথায় পুঁজির পাহাড়, কোথায় বাঁচার শেষ সম্বল
আমরা ভীষণ ক্ষুধাক্লিশ্ট,সাগরের ঢেউয়ের মত
আজগর ক্ষুধা, সুনামির মত ভয়ংকর ক্ষুধা
আমাদের রাক্ষসের মত আগ্রাসী করে ফেলছে
আমরাা এক্ষুনি চারপাশে ছড়িয়ে পড়ব
সর্বগ্রাসী ক্ষুধায় সবকিছু খাব
ঘর খাব বাড়ি খাব চেয়ার টেবিল খাব
চেয়ারের হাতল চৌপায়া কুড়মুড়িয়ে খাব
খাব সর্বোচ্চ দালান, জমিদার বাড়ি,
অবৈধ পুঁজির চুড়া,
কর্পোরেট টাওয়ার
আকাশ চুম্বি দালান খাব
রেলগাড়ী বাস ট্রাক সেতু কালভার্ট, উড়াল সেতুর
হরিয়াল পাখি খাব।

এক্ষুনি ত্রাণের খাবার দে বলছি
নইলে সবকিছু গিলে খাব
চিবিয়ে চিবিয়ে খাব আমাদের পাওনার যা কিছু আছে।

কোথায় খাবার, কোথায় ত্রাণ সামগ্রী
পরিত্রাণের রাজ সড়ক কোথায়?
হে মানুষ হে ক্ষুধার্ত আর্ত পীড়িত জনতা
তোমরা বেরিয়ে পড়
খাবারের খোঁজে
জীবনের খোঁজে দলবদ্ধ ভাবে সীসা ঢালা প্রাচীরের মত
জীবন সংগ্রামে এস মুক্তির সড়কে।
জালিমের প্রাসাদে আগুন লাগিয়ে দাও
চোর ডাকাতের ঘরে আগুন লাগিয়ে দাও
তোমার ক্ষুধার বহ্নিশিখায় জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দাও
নিরীশ্বর এ পৃথিবী।
ক্ষুধার আগুনে জ্বলে পুড়ে পরম প্রভুর প্রেমে জ্বল।
নিরীশ্বর ভোগবাদীদের এবার হটিয়ে দাও।
ত্রাণের সামগ্রী মুক্তির পথ তোমার হাতেই আছে
তুমি একবার শুধু জ্বলে ওঠো
…………………………………………..

কুমারী কন্যার ঘ্রাণ

কোন এক কুমারী কন্যার কি এক অসুখে ধরেছে
কামারশালার হাপরের মত তার শ্বাস ওঠা নামা করছে
সে কেমন বাকিয়ে যাচ্ছে
যেন এক সাগরের ঢেউ
বিপুল গর্জনে ঝাপটে সাপটে পড়ছে মধ্যাহ্নদুপুরে
সৈকতে সৈকতে ভিজে ভালোবাসা নাকি এক
অজানা অসুখে নাবলা বেদনা বিলাশে কোকিয়ে কোকিয়ে উঠছে!
কিছুই যাচ্ছেনা বোঝা

না তার কাছে যাওয়া যাবেনা
যতই সুন্দরী ভুবন মোহিনী হোক
তাঁকে আজ কিছুতেই ছোঁয়া যাবেনা
স্পর্শের কোমল আঙুল ছোঁয়ানো যাবেনা
হোক সে জুলেখা, মমতাজ,ক্লিওপেট্রা কিম্বা নেফারতিতি,
তাঁকে আজ কিছুতেই ছোঁয়া যাবেনা
তার চুল তার নোখ, তার নাক, কর্ন লতিকা পুস্পের
কোরক কিছুই স্পর্শ করা যাবেনা
হয়ত সে সর্প কুমারী
তাকে স্পর্শ করলে দংশন করবে
তার ঠোঁটে, তার নাসারন্ধ্রে করোনার
প্রেম, করোনার শান্তি নিকেতন।
ফিরে এস লোলুপ যুবক

তার চুলে তার ফুলে এখনও বসেনি কোন বদ জ্বীন
শয়তান তার কুন্তল কুসুমে, ফু দেয়নি
সুলেমান নবির জ্বীন এখনও রানি বিলকিসের
সিংহাসনে হাত দেয়নি।
তুমি ফিরে এস।
…………………………………………..

নিরাময় হও হে পৃথিবী

পৃথিবীর মানুষ কেবল রোগগ্রস্হ
আর সব ঠিক আছে
ঠিক আছে বৃক্ষ লতা
ঠিক আছে ফুল পাখি, নদী নালা খাল বিল
ঠিক আছে জীব জন্তু
পুকুরের মাছ,ফসলের ক্ষেত
ঠিক আছে সাগরের ঢেউ লোনাজল
ঠিক আছে আকাশের নীল
ঠিক আছে চাঁদ সূর্য তারকার ঝিকিমিকি
ঠিক আছে বায়ুস্তর
উদজান, অম্লজান, ওজনের স্তর
কার্বনচক্রের খেলাও ঠিক আছে।

শুধু আজ ঠিক নেই মানুষের মন
মানুষের শরীর আজ রোগের খাবার
করোনার কামড়ে মানুষ ঘরবন্দী
ভয়ের সারস
মানুষের মাথা আজ বাঘের মুখের মধ্যে
মানুষেরা মানুষের শত্রু ভীষণ

মানুষ মানুষ দেখে বাঘ দেখে যেন
মানুষের মুখ আজ বাঘের মতন
একে ওপরকে দেখে পালায় ঘরে
একাকী নির্জনে মরে পড়ে থাকে
স্ত্রী পুত্র ভাই বোন যেন চেনেনা কাউকে তেমন দূরের
বাঁশি দিয়ে চলে যায় দূরে।

মানুষেরা গৃহবন্দী আর সব স্বাধীন স্বাধীন।
মানুষের পাপ আজ মানুষকে ভোগায়
মানুষ খুবতো জ্ঞানী বড় বিজ্ঞানী অথচ
সে আজ বড় নির্বোধ
নিজেরা নিজেকে ধ্বংস করতে তৈরি করেছে কতনা
মারনাস্ত্র,পারমানবিক বোমা,হাইড্রোজেন বোমা
আরও কত কি ভয়ের সমরাস্ত্র।
আজ তারা সামান্য জীবানু কীটের কাছে পরাস্ত
আরোগ্যের পথ তারা পায়না খুঁজে
আরোগ্য ঔষধ তারা পারেনি বনাতে।
এতদিন বিভোর ছিল পরস্পর হত্যায ঞ্জে।

এখন ভুলের মাসুল গোন
এখন আরোগ্য সাধনা কর।
হে মানুষ তোমরা আজ নির্জন বাদাড়ে
হে মানুষ তোমরা আজ করোনা আক্রান্ত
হে মানুষ তোমরা আজ কঠিন কীড়ায় পক্ষাঘাত গ্রস্ত।

হে মানুষ তোমরা হয়ত অনেকেই নবি আইয়ুব -এর মত
তোমাদের স্ত্রীরা রহিমা বিবির মত তোমাদের সেবায়
আবার ফিরে আসুক
তোমাদের সেবিকা বৃন্দ আবার পুষ্প হোক
তোমাদের চিকিৎসক বৃন্দ আবার আসুক ফিরে
নিরাময় হও হে পৃথিবী
তোমার প্রভুর নির্দেশে আবার পৃথিবীকে নিরাময় কর।
শেখ নবির উম্মত বৃন্দ আবার সবুজ গম্বুজের ঘ্রাণ
মেখে দিক পৃথিবীর অসহায় পল্লীতে শহরে নগরে
প্রতি ইঞ্চি জমিনের পারতে।
হে পৃথিবী আমরা এখন আরোগ্যের কালাম জপছি
হে পৃথিবী আমরা এখন আরোগ্যের ঔষধ পেয়েছি,।
তুমি নিরাময় হও,
তুমি অনুগত হও
তুমি কুসুমকুমারী হও।
…………………………………………..

আমার জামার সুরাত হাল

ফুফুর মেয়েটা সদর দরোজা দিয়ে
ঘরের ভেতর ঢুকে গেল
খলবল করে উঠল আকাশের একশত টি চাঁদ
জোছনায় ভিজে গেল ঘর দোর উঠোন আঙিনা
সমগ্র পৃথিবী
আমি জোছনার সাথে কথা বললাম
য ভাবে পৃথিবী কথা বলে।
আমাদের কথা বার্তা শুনেফেলেছেন
আমার মমতাময়ী মা

মা আমাকে ঈষৎ রাগের স্বরে বল্লেন অত কি কথা
আমি শরমে লাল মরিচ হয়ে গেলাম।
মাকে বোঝালাম বেশি কিছু বলিনি মা
সে তো আমার খালা তো বোন নয়
তাছাড়া মেয়েরা সাপের মতন।
মা শুধু বল্লেন কোথায় যাস না যাস তা আমি
কি করে বুঝবো
তোর জামার কি যে হালাত
জামাটা ছিঁড়ে এনেছিস?

আমি ভাবলাম আমার মা তো মাটির মানুষ
নীরবে নিঃশব্দে তার দিবস রজনী চলে যায়
অথচ এমন রেগেছেন কেন!

সাহস সন্ঞ্চয় করে বললাম, মা আমি তোমার
বেয়াড়া বে লেহাজ ছেলে নই
তোমার নিষেধের কপাট খোলার সাহস নেই
আর তাছাড়া আমি এমন শয়তান নই।

মা আমার জামাটা পরখ করুন,
এই বলে আমার সব কটা জামর ভাজ খুলে খুলে দেখালাম,
জামা গুলো ধবধবে সাদা পরিস্কার, পাকছাপ
একেবারে পাপহীন
টোটা ফাটা নেই, ছেঁড়া খোড়া নেই
সামনে পেছনে ছেঁড়া নেই,
মা কোন জোলেখা আমার জামার কোনা স্পর্শ করেনি

মা আমিতো নবি ইউসুফ নই
আমিতো চাঁদের মতও নই নিস্পাপ নবিদের
মতন হওয়া আমার জণ্যও অসম্ভব।
আমি কখনও কখনও ইউনুসের সুন্নাত ছুয়ে ফেলি

পরিত্রাণের সালাতে নিমগ্ন থাকি
হাওয়ার হাওয়ায় এই বনি আদম কি করবে বলুন!
…………………………………………..

স্বপ্নের ভেতরে সাপ

এখন করোনাক্রান্ত সিয়াম
সিয়ামের রাত্রে নারকেল বীথি বনে দেখি সাপ
আমার শত্রু থাকার কথা নয়
আমার পড়শীরা কি সাপ?
আমার পাপেরা কি সাপ?
আমার শিয়রে জানিনা পেচানো কার অভিশাপ
আমিতো ভাঙি নি কারও ঘর
আমি কি দিয়েছি কারও হৃদয়ে আঘাত?
আমি কি করেছি পাপ?
আমি তো বড় কোন গোনাহ করিনি
কবিরা গোনাহ কি করেছি তেমন
আমার কিছুই পড়ে না মনে
মনের অজান্তে কিম্বা লোভের কারণে
কোন অদেখার দেখা কে দেখেছি?
হে প্রভু আমাকে সাপবৃন্দ তাড়া করে নি
নারকেল ডগার মত ঝুলন্ত সাপ দেখে
সে রাস্তা মাড়াতে চাই নি
সাপ হতে পারে পাপ
আমি তো নিষ্পাপ নই
নবিরা কেবল পবিত্র, নিষ্পাপ
একমাত্র নবি রাসূলেরা কোন পাপ কোন সাপ
দেখেন নি, সাপেরা তাদের স্পর্শ করতে পারেনা

সাওর গিরি গোহাতে আবু বকরকে প্রেম স্পর্শ করেছিল, সাপে কেটেছিল
আরকোনদিন তাকে সাপ স্পর্শ করতে পারেনি
আরকোন দিন তাকে রাসূলের প্রেমের পরীক্ষা দিতে হয়নি

হে প্রভু তবে কি আমি রাসূলের প্রেমের স্বপ্নের ছোঁয়া
পেতে পারি!
এখন তো জ্বাজ্জল্যমান সাপের অভাব নেই।
না আমি এখনও প্রেমিক হতে পারি নি
আমাকে পাপের সাপবৃন্দ ভয় দেখাচ্ছে।
ক্ষমা কর প্রভু আমি তো সামান্য কবি
কবিরা মাঝে মধ্যে ভুলের পুকুরে ভিজে যেতে পারে
আমাকে ক্ষমা কর হে দয়ালু প্রেমের প্রভু।
তোমার এদূর্বল কবিকে মার্জনা কর
সিয়ামের আলোকে পবিত্র কর।
…………………………………………..

এলিসা গ্রানাটো : একজন মানবতাবাদী যোদ্ধা

এলিসা গ্রানাটো,স্বেত সুন্দরী অপ্সরি
মানবতাবাদী বোন আমার, অসীম সাহসী যোদ্ধা
জীবন বাজী রাখার এক সংগ্রামী বিজ্ঞানী
তুৃমি অবিশ্বাস্য মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে করোনা ভ্যাকসিন
শরীরে ঢুকালে
তুমি মারা যেতে পারো
তারপরেও কি এক অদ্ভুত ভালোবাসায়
কি এক মানব প্রেমে
তুমি অচল পর্বত মত
এক মহাযোদ্ধা বীরের মত মৃতুকে স্পর্শ করলে
যেন অমরতা পেয়ে যাবে মহামনবতা!

মৃত্যুহীন জীবনের নিরাময় পৃথিবীটা গড়ে দেবে
সুবর্ণ পৃথিবী এনে দেবে
মাতৃপ্রেম,পৃত্তিপ্রেম,ভ্রাতৃপ্রেম এনে দেবে
এনে দেবে অপত্যস্নেহের মাখন
এনে দেবে প্রিয়তম মানুষের অকৃপণ ভালোবাসা
এনে দেবে একগুচ্ছ গোলাপের সুদৃশ্য বাগান

এনে দেবে ভেঙে যাওয়া আঙুলের স্পর্শ
এনে দেবে সালাতের কাতার
এনে দেবে কোলাকুলি ঈদের জামাত
এনে দেবে গীর্জার প্রার্থনা, সমবেত ভালো বাসা
এনে দেবে মন্দির প্যাগোডা পৃথিবীর যত সব ইবাদত খানা
এলিসা তুমি মরলেও মাতা মেরী
এলিসা তুমি সীতা সাবিত্রী
এলিসা তুমি হয়ত রাবেয়া বছরী।
পৃথিবীর ইতিহাসে তুমি অমর হয়ে থাকবে
তুমি মরলে শহীদ
বাঁচলে গাজি
তুমি অবিনশ্বর ঈশ্বরের আশীর্বাদ
তুমি মহামানবতাবাদী।
…………………………………………..

সুরাইয়া তুমি উদিত হও

সুরাইয়া তোমাকে এখন খুব দরকার
সুরাইয়া তুমি উদিত হলে রাহুগ্রাস চলেযাবে
তুমি হাসি দিলেই বাগানে ফুল ফুটবে
সবুজ সুম্দরে ভরে যাবে জ্বরগ্রস্ত এ পৃথিবী
বন্ধ কলকারখানা খুলে যাবে।
হরতাল বন্ধ হবে
নিষেধাজ্ঞা চলে যাবে
গাড়ি ঘোড়া চলবে
আবার জমবে মেলা হাট খোলা বট তলা কল কাকলিতে ভরে যাবে

হে প্রিয়তম সুনন্দা সুরাইয়া তুমি ভোরের আকাশে উদিত হও,আবার স্মিত হাস্যে ভোরিয়ে তোল এ আনন্দ
নিকেতন,তুমি হাসো
আমি কথা দিলাম এতেকাফে যাবো
সিয়ামের শেষ দশকে তুমি আসবে
ফেরেশতার পাখায় তোমার মায়াবী জোছনা
ভিজিয়ে দেবে করোনা কৃষ্ণ পৃথিবী।
সুরাইয়া তুমি আসলেই নীরব ঘাতক নিশ্চিত পালাবে

সালমান ফারসির উত্তর প্রজন্ম এ কথা ধুলির আস্তর থেকে উদ্ধার করে বলছেন
প্রিয়তম নবি তার উম্মতের মুছিবত মুক্তির
এ অনন্য সুন্দর দলিল
প্রভু প্রিয় সৃষ্টির ধ্বংসের রাক্ষস থেকে বাঁচাতে
সুরাইয়া হে নক্ষত্র তোমাকে পাঠাবেন

সুরাইয়া প্রিয়তম তুমি উদিত হও তোমার ঠোঁটের
পবিত্র ছোঁয়ায়,তোমার গামা রোশনির তাজাল্লিতে
পুড়ে ভস্ম হয়ে যাবে এই অদৃশ্য ঘাতক।
তুমি পরম প্রভুর বিতান থেকে শেফার সৌরভ নিয়ে এস।
…………………………………………..

করোনা: কোভিড-১৯ এর সাক্ষাৎকার

হে করোনা সম্রাট!, অদৃশ্য জীবাণু বোমা
আপনার জন্মবৃত্তান্ত বলবেন কি?
:আমার জন্মের কথা অনেক গোপন
আপনাকে বলা মুশকিল।
কোন এক লেখক আমার জন্ম নিয়ে সেই বিশ আগেই
বিজ্ঞান কল্প কাহিনি লিখেছে
কিন্তু আমার জন্ম ভুমির কথা বলেন নি।
গুগলে গেলেই পেয়ে যাবে।

কিন্তু এসব কি ঠিক?
:দেখুন আমার জন্ম কোথায়, সেটা বড় নয়।
আমি অনেক ক্ষমতাবান।
তা তো বুঝলাম, কিন্তু লোকে বলছে আপনার জন্ম
ল্যাবরোটরিতে?
:হা হতে পারে, অবার না ও হতে পারে।
বেশ রহস্য জনক মনে হচ্ছে!
:কেউ বলে আমেরিকার পরীক্ষাগারে,
কেউ বলে চায়নার উহানের ল্যাবে
কেউ বলে লক্ষ বছর বরফের নীচে ছিলাম
পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায়
বরফ গলে বেরিয়ে পড়েছি
কেউ বলে আল্লাহর গজবে আমার সৃষ্টি।
এখন তোমরাই বল আমার জন্মের কথা
আমার উত্তর এর মধ্যে পাবে।

যে ভাবেই তোমার জন্ম হোক
কিন্তু জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালো।
তুমি আমাদের হত্যা করছ কেন?
:এটাই আমার কাজ
আমি ভালো মন্দ বুঝিনা
বাঘের কাজ মনুষ্য রক্ত পান করা
তারা তো বহাল তবিয়তে আছে।
তোমরা কৌশলে চল।
এটা তোমাদের কর্মফল।
তোমাদের হাতের কামাই।

কি ভাবে হাতের কামাই আমাকে বুঝিয়ে বল।
:শোন,তোমরা যদি আমাকে জীবাণু বোমা বানিয়ে
পৃথিবী দখল দিতে চাও,
নিজেরা বেঁচে অন্যকে মারতে চাও
তার বাজার, শিল্পকারখানা ব্যাংক বীমা দখলে নিতে চাও,তাহলে সেটা তো তোমাদের কারো না কারোর
কারসাজি, এখানে আমার দোষ কোথায়!
ল্যব এক্সিডেন্ট হলে আমার কি করার আছে?
বরফের পাহাড় গলিয়ে বের হয়েছি সে তো
তোমাদের জন্য।
তোমরা প্রভুর বয়ান বুঝতে পারনি কেন?
তিনিতো ওজনের ভারসাম্য
অর্থাৎ আকাশের বায়ুস্তরের ওজন কমবেশি করতে
নিষেধ করেছেন, আর রাহমান ভালো করে পড়।
ওজন স্তর ক্ষয়ের কারণে তাপমাত্রা বেড়ে গেছে
আমি বরফের সমুদ্র থেকে পালিয়ে এসেছি
এটাতো তোমার কুকর্ম তোমাদের হাতের কামাই।

অতিরিক্ত পাপ করেছ তোমরা
তোমরা যুগ যুগের বেশি অসহায় মানুষকে হত্যা করছ
নারীদের ধর্ষণ করছ,শিশু বৃদ্ধ যুবকদের গুলি করে নির্মমভাবে খুন করছ
দীপান্তর দিচ্ছ,বন্দী করে রাখছ কারাগারে
মিথ্যা অপবাদে ফাঁসী দিচ্ছ।
মানুষকে দাসের মতন ব্যবহার করছ
হ্যাচারীর মাছের মত ক্লোন মানব সৃষ্টির পায়তারা করছ
তাই হয়ত সরাসরি খোদাই গজব হয়ে এসেছি
এটাও তোমাদের হাতের কামাই।
বস্তুত মহামারী, দুর্যোগ, দুর্ভোগ সব মানুষের সৃষ্টি
শয়তান মানুষের হাতের কামাই।

মনুষ্য সৃষ্ট হোক বা খোদাই সৃষ্ট হোক না
এসব মনুষ্য হাতের কামাই।

তা হলে পরিত্রাণ কি ভাবে হবে।
:অপেক্ষা কর সকলে ধ্বংস হবে না
মাহদী তো আসবেন,
তার কাফেলায় কালো পতাকাবাহীরা থাকবে
তাই তোমরা অনেকেই মরতে মরতে বেঁচে যাবে
আবার সোনালী সকাল, সবুজ পতাকার আবাহন হবে।