আমায় ভালোবাসবে?

কালো পদ্ম এনে দেবো….
সাত সমুদ্র,লাল-নীল নক্ষত্র খুঁজে।
আমায় ভালবাসবে?
তোমার শরীরের প্রতিটা অঙ্গ হবে…
নীলা স্পর্শে জীবাণু মুক্ত,পবিত্র।
আমায় ভালবাসবে?
তোমার বদ্ধ পৃথিবীতে মুক্তির কেল্লা ভাসাবো…
আমায় ভালবাসলে…..
তোমার হাতের মুঠোয় পৃথিবীর সব….
আদি অজানা সুখ-শান্তি-খুশি এনে দেব….
তোমার ওই লাজুক চোখে।
আমার ওই আলোকিত পল্লীর সবুজ কুঁড়েঘরে।
প্রতিদিন রজনীগন্ধার মালা-চন্দন পরাবো।
রম্ভা সাজাবো কলমির তোড়া-নোলক-মালা দিয়ে।
আমায় ভালবাসবে?

তোমার স্বপ্নিল চোখে….
বার্লিন-লন্ডন-কাবা-দামেস্ক এনে দেবো।
আমায় ভালবাসলে।
আমার চোখের আনন্দ বারিধারায়…..
তোমায় স্নান করাব গোধূলির তলে…..
তোমার ভালোবাসা আর আমার সেবায়…
প্রতিদিন নতুন রঙিন জীবন দেবো….
আমায় ভালবাসবে ?
প্রতিদিন না বলা প্রেমগুলো ছড়িয়ে দেব…..
তোমার হরিৎ ফুলেল শরীরে….
আমায় ভালোবাসবে?
তিলে তিলে কুড়িয়ে আনা অনেক স্বপ্ন,
নীরব সাধনার ইতিহাস তোমাকে শোনাবো!
তোমার অজস্র সফল স্বপ্ন এক এক করে….
সব পূর্ণ করে দেবো জিয়ন কাঠির ছোয়ায়।
আমার সফল বেদনার নৌকায় মাঝি সাজাবো…
আমায় ভালবাসলে।
আমায় ভালোবাসবে?
…………………………………………..

কেন বলতে পারেন

পৃথিবীতে সুখ,সখ-আহ্লাদ,আনন্দ…
সবাই ধনাঢ্যের দালাল…
সুখে মাথা নত করে গরীব দুঃখী কে ভর করে,
কেন বলতে পারেন?
পঙ্গপাল শিল্প,কারখানা,দশতলা খাইনা….
শুধু চাষি আর ফসল খায়,কেন বলতে পারেন?
সূর্য পঁয়তাল্লিশ ডিগ্রি এসি ঘরে ঢোকে না….
চালা ঘর ফুটো করে গরিবদের কে মারতে পারে!
কেন বলতে পারেন?
যাদের টাকা আছে তারা প্রেমে জয়ী….
নিঃস্ব কেন শূন্য জল ছুয়ে তাকিয়ে থাকে!
উৎপাদনের সুখ কে ভোগ করে বলতে পারেন?

বলতে পারেন এ পর্যন্ত যা হয়েছে,
সব পরীক্ষা গরিব ফাঁসানোর চক্রান্ত কেন…..
কারো আকাশ রঙিন,কারো বেরঙিন!
উচ্চ শিক্ষিত বেকারেরা সান্নিপাতিক জ্বরে ভুগছে…
কেন বলতে পারেন!
ভ্যান চালক প্রতিটা রোলিঙে….
পাঁচ ফোটা রক্ত ঝরায়..
সে কেন খেতে পায়না বলতে পারেন?
অন্ধ-বোবা-পঙ্গুরা অভুক্ত কেন বলতে পারেন!
বলতে পারেন তারা কেন অস্পৃশ্য….
ভয়ঙ্কর মহামারী পাঁচ তালায় যায়নি,
স্যানিটাইজার আছে বলে।
সাধারণ মানুষ,পরিযায়ী হেঁটে মারা যায়…
কেন বলতে পারেন
এক দেশে ভিন্ন আইন কেন হয় বলতে পারেন?
শুধু ভালো দেরই কদর কেন বলতে পারেন?

অভিজাত রা পেট ভাড়া নেই গরিবের!
গরিব রা কেন পারেনা বলতে পারেন?
পৃথিবীতে একচ্ছত্র মানবতার-সাম্যের জয়গান….
হয় না কেন বলতে পারেন!
কালোরা কেন রঙভেদে আজও অসহায়,
পড়ে পড়ে মার খায় সাদাদের পদতলে….
যুদ্ধে কেন সাধারণ বিশ্বাসীরা মারা যায়,
বলতে পারেন রাজা কেন বেঁচে যাই।
মানুষ শুধু গোলাপেরই কদর করে
পেয়ারা ফুল অযত্নে ঝরে যায় বলতে পারবেন…
কেন বলতে পারেন ফিটফাট শিশুরাই…
শপিংমলে-রেস্তোরাঁতে যেতে পারে,
ন্যাংটো রা যেতে পারে না…..
কেন বলতে পারেন?
পৃথিবীতে কেন এত হিংসা,কেন এত…
রাজনীতি,কেন এত লড়াই ,বলতে পারেন…
কোন প্রয়োজনে,কার প্রয়োজনে?
…………………………………………..

ওরা এসেছিল

চার শতাধিক তীক্ষ্ণ বেলোয়াড়ি বসন্ত ব্যথা….
নিশুতি রাতে এসেছিল স্বপ্ন ঘুমে ফিরে!
নব বছরের বেদনার বুড়ো ক্যালেন্ডারে।
জটিল পৃথিবী বার বার এসেছিল,
হরমোনের নালী রেখা ধরে।
ফিস ফিসিয়ে বলেছিল শীতার্ত প্রেম,আমি বড় একা।
ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন এসেছিল অজ্ঞাত আকি বুকি কেটে।
এসেছিল হামাগুড়ি দিয়ে মাতৃ রক্ত কালো কঙ্কালৌ ভয়…..
এসেছিল চন্দ্র-সূর্য ,লাল -নীল নিহারিকা উল্কি খন্ড।
মাঝ রাতের পথহারা খেয়ালী পাখি, অতীত প্রদীপ….
জোয়ার-ভাটা,পেটফোলা নদী,আমপান-ভূমিকম্প…
নিভু নিভু কান-বুকের কাছে জরা ব্যাধি…..
জীবনের রাগ-শতরঞ্জ।

আধ্যাত্বিক মানব ফুসফুস কোণ ঘেঁষে….
কেঁদেছিল মানব মানব করে।
স্বপ্ন ঘামে আঁতকে উঠে রোমাঞ্চিত আমি।
দেবদূত,বঞ্চিত নারী ,বঞ্চিত মানব হৃদয়….
পায়ের গোড়ালিতে কিলবিল,কেঁপেছিল মা মা রবে..
সহস্র অসহায় অবলা কীটের দল!
স্মরণীয় দিন-স্মরণীয় রাত… বাসরঘরের লাশ …
এসেছিল অবচেতন হৃদ ঘরে…
লুঠতরাজ এসেছিল কেড়ে নিতে নির্ভিক বোবা মন…
সুখ এসেছিল একফালি ঘোলা জল …..মায়া প্রপঞ্চময়।
এসেছিল সভ্যতার কালপুরুষ,আদি যন্ত্রণা ভিজে ভিজে।
হাঁটুর গোড়াই সপ্নবন্দি প্রেম-মনুষ্যত্ব ফুঁপিয়ে কেঁদেছিল…
এসেছিল মাতৃস্নেহ-পিতৃপ্রেম ,ফেলে আসা দিন!
মৃত্যু এসেছিল বাইনা দিতে নেচে তা ধিনা ধিন।

রীতিনীতি বিলাস যুদ্ধ এসেছিল,
হেসেছিল বিদ্ধস্ত নিরেট,বৃত্তাকার পঙ্গু জীবন…
হতাশ মরুজল-ব্যথিত পশুর দল,কেঁদেছিল বনস্পতি..
হাঁপাতে হাঁপাতে আমি তখন গুটিয়ে কেন্নো…
হা-ভাতে ভিখারীর কৈফিয়ত দিতে শরীর সমেত…
কেঁপে উঠেছিল জীবনের চতুষ্কোণ!
শুধু আসেনি সুস্থ স্বাধীন আরোগ্য জীবন!
ভগবান কেঁদেছিল সততার টুঁটি চেপে ধরে….
শান্তি আর না বলা কথারা ফেরেনি…
ধানের গোলারা,প্রতিষ্ঠার দেবতারা আসেনি,
আলোকিত জীবন একবারো..একবারো আসেনি!
শান্তি হীন নিষ্পলক চোখের পাঁজরে….
জীবন বারবার ঘুরেছিল দিগভ্রান্ত মৌমাছির মতো…
বিচ্ছিন্ন শরীরের মেঘঘেরা গাল বেয়ে…
কেঁদে কেটে হন্ন্যি হয়ে অবশেষে,
ধন লোভা পাপের কাছে পরাজয় শেষে…
নিরাশ মুখে দুর্বলের নিষ্পাপ হাড়ে মিশেছিল….
…………………………………………..

আমি সৈনিক
প্রাণ প্রতিম বন্ধু সাজ্জাদ মন্ডল (মিঠুন)ও তামাম দুনিয়ার সৈনিক ভাইদের স্মরণে।

তখন খনিকের রাত,ঘাসের মুলায়ম পাটিতে বসে…
পিষে গেল সাতজন আমি দাঁড়িয়ে সৈনিক।
আমার সন্তান একলা দাঁড়িয়ে জানালা ধরে।
আমি মাইনাসের থার্মোমিটারে কেঁপেছি।
নিউমোনিয়া কঠিন হাড়ে,আমি কুঁজো হয়ে গেছি…
ভেঙে গেছি তবু আমি পাহারায় আমি সৈনিক।
আমার চকিত চমক চারিদিকে মানবতার চিৎকার…
বাঁচা-অধিকারের চিৎকার আমি পথিক দৈনিক।
আমি ওদের আগলে রাখি….আমি সৈনিক!
আমার সম্মুখে নদী পাহাড় পর্বত মরু-গিরি বহুবিধ!
তবুও ঘুরে দাঁড়িয়েছি।
আমি ঘুমোলেও আমার চোখের পাপড়িতে মানচিত্র…
আমার শরীরকে শীতল করে দেয়।

আমি দেশের চোখে পতাকার চোখে চোখ রেখে…
দেখি আমার মা জননী,আমার স্বপ্ন কন্যা।
আমার হরিণ চোখে বধূর শত শতাব্দীর …
ব্যথা অনুভব চাহনি…আমি সৈনিক।
আমার মেরুদন্ডের দুই ভাঁজে চোদ্দোটা….
স্টেনগানের আঘাত তবু আমি মরিনি..আমি সৈনিক।
তিব্বত নেপাল অরুণাচল হিমাচল কাশ্মীর লাদাখ,
সিয়াচেন শিলিগুড়ি পাঞ্জাব করিমপুর নখের বারান্দায়…
ঘাসে মাথা রাখি নামাজে ,নিঃসঙ্গ জানাজায়।
দেশকে বুকে ধরে আগলে রেখেছি বরফে জমে…
আমার চিঠি আসেনি অনেক দিন !
নিরবে অতীত পাতার হৃদয় স্পর্শে…..
আমি যন্ত্রণার গাঙে বানভাসি…
আমার প্রতিটা অস্তিত্বের বৃন্তে….
আমার মায়ের ফোটা ফোটা রক্তের দাগ।
আমি বাড়ি যেতে পারিনি ফি বছর …আমি সৈনিক।

যখন বৃষ্টিতে ভিজেছি আহারে ছিলনা নিমন্ত্রণ।
তবুও দেহ রক্ত-জল-আগুন করে আমি বেঁচে আছি!
দরজায় নুপুর শূন্য দাঁড়িয়ে কতশত মা বোন,
নিখোঁজ রক্তাক্ত লাশ,বহু আপনজন…আমি সৈনিক।
আমার অনুভূতি আনন্দ উত্তেজনা…
পাহাড়ের খাদে লুকিয়ে রেখে আমি অনুভূতিহীন…
আমার প্রতিটা চুলের ছায়ায় আগলে রেখেছি আমার দেশ।
আমার প্রতিটি কদমের ঝংকারে ভালোবেসেছি…
প্রতিটা যন্ত্রণার ফোঁটায় চোখের প্রতিটা পলকে…
নিঃশ্বাসের প্রতিটা স্পন্দনে আমার দেশ !
আমি একজন সৈনিক।
যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ লড়ে যাব করি এই পণ।
কখনো কারগিলে,কখনো পাঞ্জাবে সাপের খোবলে।
কখনো কখনো যুদ্ধে কখনো মৃত্যুর কবলে…
আমি ঝাপটে ধরেছি আমার ভালোবাসার শক্ত দেওয়াল।

আমি সৈনিক, একশত ত্রিশ কোটি আমার স্বপ্ন চোখে।
রাত্রেআমি গুটি পায়ে পায়ে গ্রেনেড সামনে রেখে…
হাতে মৃত্যু রেখে হামাগুড়ি দিয়ে চলি।
আমার দেশ আমার জননী আমার সন্তান ….
আমি বেধেছি সন্তান পতাকার পাতায়।
আমার গোপন চিঠি মরুর খাদে,
পাহাড়ের পাদদেশে,মালভূমির টিলায়…
যত্ন করে খুজে রেখো …মুখে মুখে ছড়িয়ে দিও!
আমার শরীর ফুলে ঢেকে থাকে সর্বদাই…..
আমি সৈনিক, মা-বাবা-স্ত্রী-দেশের-দশের।
…………………………………………..

আলিয়ার প্রেম

জীবনের এক অবিশ্বাস্য ধাক্কায় মরচে ধরা পেরেক…
সেলিম তখন আশ্চর্য যন্ত্রনার আচট জমি !
দয়া মায়া মমতা প্রেমানুভূতি…..
ভালো লাগার লাখো লাখো দ্বার সব বন্ধ…..
কি জানি কী যে হারিয়েছে ,আনন্দের আকাশ শূন্য !
শরীর ঘুমিয়ে গেলে ঘুমের ভিতরে চোখের জল…
বিনিদ্র চোখের নৈঋত কোন বেয়ে ফোটা ফোটা…
অতীত অনুভূতির জল বালিশ ভিজিয়ে পেট ফোলা রুটি…..
হঠাৎ আলেয়া এসে প্রতিটা লোমকূপের..
স্পর্শ দিয়ে অভাগার আচট জীবন জমি…
সাতটি আসমানে সাজিয়ে তোলে।
প্রথম আসমানে সাজানো অনুভূতির রঙ ছিল…
সফেদ বিশ্বাস,অস্তগামী সূর্য আবার দেবে আলো…
দ্বিতীয় আসমানে শান্তির পায়রা ,পূর্ণ মনের সমস্ত অভাব।

তৃতীয় আসমান ভরসর দোকান ,সমস্ত যন্ত্রণা….
মুছে জীবন কে নতুন ফুলে সাজিয়ে দিলো !
চতুর্থ আসমানে এক আলোকবর্ষ বিশ্বাস
সুখেদুখে পাশে থাকার, ভালোবাসার।
পঞ্চম আসমানে চোখের জলে ভেসে আলিয়া….
শিখিয়ে ছিল বাঁচতে শেখার কংক্রিট আদর্শ।
ষষ্ঠ আসমানের ষড়াননে জীবনের প্রতি টা…
সফল ফোটায় দ্বৈতসত্তার প্রেমিক গোলাপ….
অগোছালো সেলিম তখন পূর্ণ এক বাগান।
ভালোবাসার সৌর পরিবারের সপ্তম আসমানে…
সাজিয়েছিল সম্মান-সাহসের পারিজাত ফুল।
প্রতিদিন পরিশ্রমের হাড় ফসফেট করে…..
আলিয়া অর্থ নয়,বিলাস নয় দুঃখ নয়……
খুঁজে ছিল বেদনা মুক্ত পৃথিবী গড়ার ইনজেকশন!

পরাস্ত সেলিম এখন হাসে হাতে হাত রেখে…
নীল ঝাঁ-চকচকে সোনালী জীবন উপহার….
সেলিম দ্যাখে মহাকাশের পুঞ্জ পুঞ্জ নক্ষত্র জীবন।
আর ভাবে ভিশন ঋণী বিনিদ্র এক তারার কাছে….
আলিয়া ঠোঁট ফুলিয়ে চোখের কোনে ভেজা সুখ…
তোর জন্য জীবনের জুতো সেলাই- চণ্ডীপাঠ সব ।
সেলিম আলিয়া একমুঠো ঘরের ছেলে মেয়ে….
সম্মান শ্রদ্ধা প্রেম ভালোবাসা অনুভূতির ট্রেনে চেপে,
হাত ধরে চলে যায় বহুদূর অজানায় নব প্রেমিক।
আলিয়া ছিল নিখুঁত মালি,অতীত অভুক্ত বেদনা…
শিখিয়েছিল অপর কে বাঁচানোর কোশল!
আচট জমির বুনন দিতে আলেয়া বহুদিন অভুক্ত,
বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে, চোখের জলের স্নানে…
সেলিমের সাতটা আসমান তরী সাজিয়েছিল!
আলিয়া অনেক পেয়েছে যা চেয়েছে তার থেকেও বেশি।

চোখের জল পড়তে না পড়তেই…
সেলিম চোখের জল মুছিয়ে বলে…
তোমার যত কষ্ট আছে ,আমার হৃদবাক্সে জমা দিও।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে গুটিপায়ে রাত নামে কোকিলের কুহুতানে।
আমার সুখ গুলো সব নিয়ে নাও দুঃখ দিয়ে দাও …
তুমি ভালো থাকলে আমি ভালো জ্বালিয়ে প্রেমের আলো…
আলেয়া হৃদযন্ত্রে লেখাছিলে সেলিম এর নাম….
উফ বললে আলিয়া অনুভূতির পাগল ঘামে…
আলিয়ার নীরবতায় সেলিমের অশ্রু সাগর ভেসে গেছে।
তারা ভালোবাসে হাত বেধে সরলরেখা ধরে চলেছে….
পরাস্ত প্রেমিকের ব্যর্থতার ছাল বল্কল নর্দমায় ভাসিয়ে…
নিষ্পাপ প্রেমিক বানিয়েছে চোখে চোখে ইশারায় কপাল ছুয়ে,
ওরা ভালোবাসে জোনাকীর ডানা মেলে তারাদের আধারে….
শহরের বাজারে দিঘির কিনারে শাশ্বত প্রেমের মাঝারে।
চোখে চোখে ইশারায় সংকটের বাজারেও…..
সেলিম-আলিয়া নিষ্পাপ ভালোবেসে যায়।
…………………………………………..

শিরোনাম-ইতি ও অনাদির প্রেম

রাস্তার মোড়ে যেখানে আকাশ নীলে ঢেকেছে…
যেখানে সবুজমাঠ আকাশকে ভালোবেসে বেধেছে নীড়।
সেখানে দেখা হয়েছিল পঁচিশ বছরের…
অনাদির সঙ্গে আঠারোর লাজুক ইতির ।
জমেছিল চোখালাপ ,হাত বাড়িয়ে ছিল ইতির প্রেম।
অনন্তর টানে অনাদির নাভিমূলেও জেগেছিল শাশ্বত প্রেম।
চোখে চোখে কত কথা,কত ব্যথা ,অনুভূতি…
চোখ গড়িয়ে হাসি কান্নার পদ্ম ক্ষুধা।
প্রতীক্ষার মরা নদীতে হঠাৎ বান আসত …
হাতে রেখে হাত, অমৃত কথা।
ইতি শতকোটি অশ্রু মুছিয়ে
আকাশের পেয়াদা হয়ে বলতো ঐ শোনো….
বলতো মন খারাপ করতে নেই,
তুমি আমার পূর্ণ আকাশ জানো।

তারপর যুগল প্রেম ক্ষনিকের আকাশ হয়ে চাতক মনে।
পাখির মতো আনন্দ ছড়িয়ে দিত কখনো নির্জন বনে …
কখনো বানভাসি গাঙে কখনো স্মৃতির আশমানে।
চুপিসারে গাছের কোটরে আলিঙ্গন কলমে…
লিখে দিত শতকোটি অনুভূতি চুম্বনের সে নামে..
সে মানে অনেক অনেক আকাশ,অনাদি মানে
ব্যবধানের মুক্তি…
সে মানে আমার জ্যান্ত পৃথিবী,আ দিগন্ত জীবন..ইতি।
অনাদি মানে বোবার আত্মবিশ্বাস,সে মানে অন্ধের লাঠি।
স্মৃতির কাঁথায় প্রতিটা বুননের নিষ্পাপ ফোঁড়ে …
অনুভূতির তিল তিল সুতো দিয়ে জুড়ে….
এঁকেছিল নকশী কাঁথার মাঠ নিখাদ পরিপাটি।
অনাদি অনর্গল বলে যেতো অনেক কথা মনে রেখে মন..
তোমারঐ কাঁথা থেকে হারিয়ে যাবে না তো নিখুঁত বুনন?

তখন তুমি অন্যের আকাশে জ্বলবে ইতি…
বলেছিল এ হয়না!একদিন দশদিন এক মাস ছ মাস।
ইতির বারোমাস ভালোবাসার আনন্দ আকাশ…
তিলে তিলে তিন বছর….মানে পূর্ণ ছত্রিশ মাস!
অনাদি একমুঠো ঘরেরছেলে ইতি ছিল অসমাপ্ত আকাশ
বৃষ্টি না চাইতেই অনাদির জীবনে সাফল্যের মেঘ ফেরে।
তিনটে বছর অনাদি দিনরাত এক করে…
পৃথিবী গুড়ো করে গড়েছিল আলাদিন ক্যারিয়ার।
অনাদির নদীতে আনন্দের মেঘ ,ইতির নার্স পাশ করার।
মাস তিনেকেই বিজ্ঞ পরিবারের অজান্তেই অনাদি তখন
ইতির ভালোবাসার অতিরিক্ত ,আতঙ্ক আঙুল।
অনাদি নাকি লম্পট-বেকার ঝরা গোলাপ ফুল।
অনেকটা থেমে অনাদি বলেছিল নীরব ইতিহাস ফেলে।
পর্বত আকাশ-জলকে বুকে নিতে পারে জীবন ফেলে…
কিন্তু পার্বত্য জল হিংস্র,সুযোগ খোজে নতুন গতি পেলে।

ভেঙে টুকরো হয়ে জীবনের উত্তাপ অভিমন্যু…
অনাদির বাষ্পীভূত জীবন তখন নরক যাত্রায় ইতি শূন্য।
অনাদির গরিব আকাশ এখনো মেঘলা-গুমোট বায়ুশূন্য।
বাপের স্বপ্ন পূরণ হয়নি ,বিশ্বাস বুকে এক ফালি।
ইতির লালখাম কাঁধে নিয়ে ক্লান্ত পায়ে স্মৃতি রাখে বামে.
ট্রিলিয়ন মিটার হেঁটে এক কিমি ফেরে বেদনার ঘামে…
ভালোবাসার অতীত নৈবেদ্য ডালি হাতে…
ক্লান্ত ভবিষ্যৎ ভালোবাসা ফেরি করে হাঁপাতে হাঁপাতে..
এসেছে অসমাপ্ত সাদাখাম চিতাতে ।
সাতাশ হাজার ঘন্টার প্রেমানুভূতি রক্ত জল পানি!
মুক্তো অধিক দামি ইতির লুকিয়ে রাখা বাণী….
চিতার আগুনে ভাসিয়ে দিয়ে অনাদির কঙ্কাল চোখে পানি।

গরিবের ভবিষ্যৎ লাল কপালে,আগুন সবকিছু গেলে..
এমনকি অতীত কাহিনী।
ভালোবাসা, বিশ্বাস, ভরসা সব নিশ্বাস অবিশ্বাস….
আসলে ইতির চাকরি তখন সম্মানের হাত ধরে নতুনের আশ্বাস।
অনাদির ভালোবাসা ধুঁকছে সুস্থহীন জ্বরে।
চিতার আগুন নিভে অমাবস্যার চরে ….
অনেক বৈশাখী অনেক আগুন অনেক ফাগুন…
অনেক বসন্ত চলে গেছে বহু দূরে
অনাদির রিমেম্ব্রেন বার্তা ভূবন মথীয়ে যেন হাসি ছড়ায়।
ওই তাকাও খেয়েছো অমন গোমরা কেন হাসো…
মখমলে চকচকে বাড়িতে ইতিকে অতীত হাসায়।
নিষ্পাপ অনাদির আকাশ ঘোলাটে নিরাশার অনন্ত সীমাহীন রাস্তায়……
…………………………………………..

প্রানের নজরুল

ঝিরিঝিরি বৃষ্টি নিশীথ রক্ত মরু-পথ পেরিয়ে…
জ্বলেছিলে হে সাগ্নিক বীর কাঁচা সোনার আংটি সাথে।
আজি কেমনে রই আমরা আলাদিন শূন্য হাতে….
ঘুচে গেছে সম্প্রীতির বীণ চোখে হিংসা জল।
হে কবি তব জন্ম স্মরণে অশ্রু জলে ভরে।
যেদিন তুমি কবিতার বৃন্ত ছিঁড়ে বিনিদ্র জেল ঘরে।
রুখে দাড়িয়ে ছিল ভারত তনয়…
নিদ্রাহীন শরীর ঘুম ভোরে।
শ্বেতাঙ্গর হিংস্র শ্বেত পতাকা মুছে ছিলে…
অগনিত বাহুবলে।

সেদিন ইনস্টিটিউট হলে লিখেছিলে…
হে কান্ডারী স্বদেশ প্রেমের হাতিয়ার।
তোমার সেই তেত্রিশ কোটি কৈফিয়ত দূর তেপান্তরে।
তবুও বেঁচে শোষকের দল, একটু রুপান্তরে!
হে কবি আজি অন্য স্মরণ দিনে কতশত,
কুলি মজুর দধীচির হাড় ক্ষয় কত!
হে অগ্নি, বাঁশি হাতে জিঞ্জির চক্রবাক দোলনচাঁপায়…
বাঁধনহারা জন্মক্ষুধা অনাথ হয়েছিল মাতোয়ারা।
হে নয়ন ভরা জলের প্রেমিক শাশ্বত নজরুল…
জাহেদার তুমি ধৈর্যের হাসি-কান্নার পারিজাত ফুল।

তোমার ঘোলাটে আকাশ লেটো-রুটির দোকানে কাজ।
তবুও সচল তুমি মাতৃমুক্তি পন ,মজ্জায় রণ সাজ।
মহা বিপদের দিনে হে মানব…
হে বহুভাষী বিদগ্ধ পন্ডিত তুমি এসো…
বিপদের দিনে সঞ্চিতা হাতে হুঁশিয়ারি দিতে।
ত্রিশ বছর অপলক গোলকে নিরব বেদনা ভরা।
তোমার বাংলায় আহ্বানের কড়া নাড়া!
বুঝিনি আমরা তাই পূজারিণী শূন্যে ছুড়েছে হাত…
তোমার অপেক্ষায় সারি সারি সম্মান ,পবিত্র প্রদীপহাতে।
তোমার মহিমা পৃথিবীতে ছিলআছে থাকবে চিরকাল।
অমর অক্ষয় হে চিরহরিৎ মৃত্যুঞ্জয়,হর্স বিষাদের..
তুমি….প্রানের নজরুল।
…………………………………………..

পৃথিবী বাঁচায়

কাল বেলার কেতন ঐ দূর নীলিমায় উড়ে।
অন্যায় অস্ত্র-বোমাঘাতে শত শত
কাঙ্গালের ঘর গেছে পুড়ে।
অস্ত্র-দাবানল ফেলে দাও সেন্ট হেলেনাই
হাসিমুখে একতার -মিলনের জয় নিশ্চয়।
আমাবস্যার কালো হাত করে দেবো বিদায়।
হিংসা ফেলে যদি হাতে হাত মেলায়

অনাথের মনোবেদনায় অনুতাপ যদি না পাই!
জেনে রেখো পৃথিবীর আর বেশি দিন নাই!
বিশ্ব জননী কেঁদে কেঁদে ব্যাকুল
বেড়ে গেছে বিভেদের হার।
আপন আপন কাটে
দরজায় দাঁড়িয়ে কচি শিশু তার!
হানাহানি যুদ্ধ-বারুদ চলে যাক আগুন চিতায়।
বিভেদ উড়িয়ে হাতে হাত রেখে,
সাম্যের গান গেয়ে পথে পথে পৃথিবী বাঁচায়!
…………………………………………..

হাসিবুর রহমান

দাদি বুড়ি বলেছিল ইতিহাস আগুন ,সত্য কথা কয়!
করোনা ভেদাভেদ, হানাহানি-শিশু মরা আর নয়।
বঞ্চিত উদার হাত করোনা সংকটেও বিপদে বাঁচায়।
মনিবের ক্ষেতে মজুর খেটে কর্মচারীদের জীবন শেষ,
মনিব আজ ওদের চেনেনা, চুপ কেন রয়।
হা -ভাতের খাদ্য কলস গেছে তেতালায় উড়ে …
তাইতো কঙ্কাল শিশু হাহাকার কোরে….
ভগবান খোঁজে মাটির রাস্তা খুঁড়ে!

যারা শরীর ,রক্ত ,হাড়,মাটি করে রচে গেল ইতিহাস।
সবাই জায়গা পেয়েছে ,ওরাই কেবল বাকি ইতিহাস।
বাবুই এর বাসা ব্যঞ্জনে টলমল করে ।
গরিব চড়ুই খাবার ভেবে কেঁচো খেয়ে মরে!
মা কেঁদে কেঁদে ব্যাকুল হয়ে বলে নর্দমার পাঁক খা..
নয়তো আমার কলজে কেটে খা।
অভুক্ত শিশু-বুড়ো রাস্তার আঁতুড় চিবিয়ে খায়…
গরিবের খাবার, টাকা, রসদ সামগ্রী,আজ বন্দিদশায়!

বদলাবে এ ইতিহাস নতুন পাতায়, যদি বেঁচে যায়।
আমাবস্যার পেট চিরে প্রভাত ফেরী শেষে…
দেখিয়ে দেবো ইতিহাস,বাতাস কত নির্মম হয়…
…………………………………………..

একফালি স্বপ্ন

এক লক্ষ ত্রিশ হাজার মিনিট
সূর্যের তপ্ত আলপথ বেয়ে ফ্যাশন দেশের
আদিম কুলি-মজুর
জীবনের টানটান কামনায়…
জুতো ছেঁড়ে হাজার হাজার মাইল।
ধোঁয়াশার স্বপ্নবন্দী চাল-ডাল ।
বউয়ের কাপড় ,ছেলেদের খেলনা,বাপের তসবি,
কাকার মালা হাতে শ্রমিকের পথচলা।
স্বপ্ন তরী ভরাডুবি তামিল কলকাতা মুম্বাই
আমেরিকা ফ্রান্স বিশ্বের আ ঘাটায়।

কাঙাল সূর্যের তেজ ক্ষুধার্ত মস্তিষ্ক ছিঁড়ে খায়!
হাঁটি হাঁটি পথে,অমাবস্যার বাঁকে ……
কখন যেন প্রদীপের আলো নিভে যায়।
যন্ত্রনার জিয়নকাঠি চৌরাস্তার মোড়ে,
ক্ষুধার্ত বুক চিরে রক্ত জল চায়….
ঘর তখন চেনা চৌহদ্দি থেকে অনেক দূর,
প্রায় এক আকাশ তো হবেই…..
চোখে মুখে এক আলোকবর্ষ লোমহর্ষক সমুদ্র ক্ষুধা।
পিঁপড়ের মতো মানুষ হাঁটছে আবিল চাঁদের রেখায়।

আনন্দের হুইসেল ট্রেন পিষে দেয়…
তিন মাসাধিক নিরণ্ণ শিশু কঙ্কাল!
ক্ষুধার পাতা ক্লান্ত- বিষন্ন-বিবর্ণ …
স্বপ্ন চমক ভেঙে খান খান।
স্বপ্নের মেঘ ধরে হাঁটছে নৃতাত্ত্বিক অশরীরি মাথা!
হিজিবিজি প্রলাপ চোখের পাতায়, পায়ের শিরায়।
জুন তাপ চুপসে দিয়েছে পোয়াতি মায়ের স্তন….
স্বপ্ন বাক কাঁধে পা ফোলা শিশু..
মৃত্যুক্ষুধায় জল মরীচিকা।
গরিব তো পৃথিবীর ন্যাংটা সন্তান, তাই দয়াহীন।
রাতের কুবের জোনাকিরা এ-সির বারান্দায়।
পথ ভুলো বস্তির জীবন্ত লাশ না ফেরার পাতায়।

চাতক কেঁদেছে অভিমানে….
বৃষ্টি ঝরিয়েও পায়নি পিপাসার জল!
ঘরবন্দী পরিজন ফোনে কাঁদে ঘরকে চল।
খিদের জ্বর মাপতে থার্মোমিটার বিকল!
পেটের কম্পনে ভীত সিসমোগ্রাফ হাঁপিয়ে. ;
রাজপ্রাসাদে বন্দী, নির্বাক দর্শক!
শীতল স্থানীয় বায়ু মেরুতে বন্দি…..
উষ্ণ বায়ু আজ দীনের মাথায়।

অভিনেতা বুঝে গেছে ক্ষমতার কারসাজি….
তাই চোখে জল ,বুকে বিশ্বাস নিয়ে….
রোদে হেঁটে মৃত্যুর বেরঙিন ম্যাপ এঁকে যাই!
সমাজ গড়তে যাদের তিলে তিলে….
শত শত আধপেটা কোল খালি, সার বন্দী লাশ।
তাদেরই সিঁথির সিঁদুর গেল মুছে ,
হাড় হলো কালি ,বেদনা দেয় শান্তির বাতাস!
পৃথিবী সুযোগ পেয়েছে আজ,
হতভাগা হয়েছে পাঁঠাবলী…
স্বপ্ন দেখেছিলো তারা,সামান্য-একটু একফালি!
…………………………………………..

কলমের চেতনা

আমার উৎপত্তি হাজার হাজার বছর আগে।
ওয়াটারম্যান-পার্কার-শেফার্ড-পাইলট….
খাগের কলম থেকে কখনো ঝরনা কলম হয়ে।
লাল হয়ে আমি বাতিল করেছি জামিন!
ছারখার করেছি নিষ্পাপ কে জেলে দিয়ে!
বঞ্চিত করে ক্রীতদাস দের করেছি চালান।
সত্যের কাঠ গড়াই মিথ্যা বলেছি আমি
সত্য যে যুধিষ্ঠির সে কথা আমি জানি।ঘুষ-চুরি-ডাকাতি-মানহানি- রাহাজানি।
নিরবে নিভৃতে সয়ে গেছি,
ফেলেছি চোখের পানি

আমি শূন্য ডানে-বাঁয়ে রেখে
ভেঙেছি বিশ্বকে বারবার।
আমি পকেট থেকে চক্রান্ত করেছি
গরীবকে ভাসা বার।
আমি ভাসিয়েছি,
গ্যালিলি-কোপার্নিকাস-নিউটন কে
আমি ফাঁসিয়েছি সাদ্দাম-লাদেন-ক্ষুদিরাম কে।
ডিভোর্স হাতে কেঁদে ফিরেছে
কতশত লাইলি মজনু।
আমি তো নীরবে কেঁদেছি,
কেঁপেছে আমার তনু।

অজ্ঞ লোকের কাছে আমি কলম মাত্র…..
বিজ্ঞের কাছে আমি অস্ত্র।
আমার তো আসেনি ঘুম অনেকদিন হলো।
আমি ব্যথিত,চাঁদ তো জ্বলে না দিনে…
সূর্য তো দেয়নি আলো রাত্রে কোনোদিন।
আমাকে দিয়ে সব করিয়েছ,আমার সম্মান ফেলে।
আমার চেতনা কেঁদে ফেরে,
আকাশে বাতাসে সপ্ত আসমানে…
…………………………………………..

আমার ভারতবর্ষ

আমি বেড়েছি মিলনের দেশে….
আমি খুঁজেছি পুরো দেশ চারণের বেশে।
আমি জন্মেছি ভারতবর্ষ কে ভালোবেসে।
আমি এসেছি ভরত রাজার থেকে,
আমি যে এসেছি কালামের কলম থেকে।
আমি এসেছি ঝড় বাদলের মেঘনা থেকে;
আমি যে এসেছি পামির মালভূমি থেকে।
আমি চিনেছি আমারে মণিপুর মেঘালয় দেরাদুনে।
আমার সৈনিক পাহারা দেয়
লাদাখ,সিয়াচেন,কাশ্মীরের আসমানে।

আমার ভারত মানে ভাস্কোডাগামার কোজিকট।
আমার ভারতে মিশে গেছে
শেরশাহের গ্র্যান্ড ট্যাংক রাজপথ।
আমার ভারতে আছে নেতাজী গান্ধীজী জিন্না…
আমার ভারত আছে সূর্যসেন ভগৎ সিং মান্না।
আমার ভারত বর্ষ মানে শহিদুল্লাহ, আকবর বীর।
আমার ভারত মানে নজরুলের চক্রবাক, জিঞ্জির।
আমার ভারত মানে টেকচাঁদ ,জমিদার দর্পণ।
আমার ভারত মানে
বাবর-হুমায়ুন-গুলবদন।

আমার ভারত দেখতে এসেছে মেগাস্থিনিস, জ্ঞানী অলবিরুনি।
আমার ভারতবর্ষ মানে
বরিশাল- ঢাকা-নৌয়াখালি জানি।
আমার ভারত আছে কোল ভীল হুন।
আমার ভারত মানে
হাজারো নদীর রক্তে একরঙা খুন।
আমার ভারত মানে গুজরাট মারাঠা পাঞ্জাবি।
আমার ভারত কে শক্তি দিয়েছে মুক্ত পৃথিবী।
আমার ভারত শুধু নয় বিহার তেলেঙ্গানা।
আ-সমুদ্র হিমাচল অবাধ আনাগোনা।
আমি তো দেখেছি আমাকে পন্ডিচেরী-লাক্ষা দ্বীপে,
আমি যে দেখেছি আমাকে আমেদাবাদের ম্যাপে।

ভারত মানে নয় মন্দির-মসজিদ-গির্জা ভাঙ্গা!
ভারতবর্ষ মানে স্বাধীনতা আনতে বহু রক্তে রাঙা!
আমার ভারত মানে সম্প্রীতির বিশাল আকাশ।
পবিত্র ভূমিতে জন্মেছে দাতা কর্ণ,সত্য যুধিষ্ঠির।
সত্যের বাণী দিয়ে গেছে গৌতম বুদ্ধ-শুদ্ধ মহাবীর।
আমার ভারত মানে নানক,খাজা,আলাওলের বাস ।
আমার ভারতে এলে দেখতে পাবে।
এক ই মাঠে অনেক গরুতে খায় ঘাস।

লড়াকু নেতা মানে তিতুমীর – শহিদ ক্ষুদিরাম।
আমার ভারতবর্ষ মানে,
হিংসা ভেঙে দিয়েছে মসজিদের আজান।
আমার ভারত মানে বেঁচে আছে ধর্মরাজের মন্দির।
আমার ভারত মানে ঈদের পায়েসে তপন!
আমার ভারতে কালি পুজোতে মুসলিম খোকন।
আমার ভারতে নাচে…
বিহুই, চিরাওয়া, লাভা, ঝুমুরের তান।
ভারতের গর্ব সল্লু,আমির,কিং খান।
ঋষি -শশী-ভারত নাট্যম।

শতশত মুসাফির জিজ্ঞাসে আমাকে….
তুমি এসেছ কোন মৌচাক থেকে।
আমি যে এসেছি নবাবের আমবাগানের থেকে,
আমি যে এসেছি চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার থেকে।
আমার ভারতে খ্যালে জাহির, পাঠানের গুগলি।
আমার ভারত মানে শতরানে হাত উচিয়ে…আজহার ,শচীন,কোহলি।
আমার ভারতবর্ষ মানে মানবো না পুঁজিবাদী শাসন!
আমার ভারত মানে জাহাঙ্গীর, ভেঙ্কট রমন।

আমার ভারতে পেয়েছে ঠাঁই মনের মতো প্রান।
যেখানে রবি-দুখু -ভূপেন- ইকবাল এক সুরে গায় গান।
আমার ভারত মানে লাল -বাল-পাল!
আমার ভারতে বিনয় -বাদল – দীনেশ
বুনেছে স্বাধীনতার জাল….
আমার ভারত মানে মুম্বাই ,তামিল ,বেঙ্গালুরু।
আমার ভারতবর্ষ মানে সিধু আম্বেদ নেহেরু।
করোনা থামাতে রাম -রহিম খিল কুলুপে কী মানান। ডাক্তার-নার্স সেবা দিয়ে মানুষ বাঁচিয়ে….
রেখেছে দেশের মান
আমার ভারত একশত চল্লিশ কোটির বেড়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী হয়নি তো কোনো হেরফের….
…………………………………………..

মেঘের ফেরেশতা

আজানু লম্বিত মেঘের শরীর
মেঘনার ঈশান ঘেষে
ধূসর চুল ছড়িয়েছে চিতার কাঠে।
কবির বিবর্ণ আকাশ তখন
মখমলে সালাতের পাটিতে নত শিরে।

উঠেছে সিংহাসন সমেত দশাঙুল।
হায়েনা বৃষ্টি অশ্রু!বেগবতী নদী চিরে…
ধেয়ে যায় সাগর সঙ্গমে।
মিলিয়ে দিয়ে সহস্র বেদিনীর প্রেমালাপ….
কে যেন দু হাতের বারান্দায়-
আদেশ দূত হয়ে এসেছে ফিরে।

প্রার্থনার হাত চোখ তুলে মেলেছে ডানা…
বিশ্বের বন্দরে বন্দরে।
পৃথিবী কে ফুলের মতন নিস্পাপ শিশু করে–
মৃত বারিধির বর্তমান ঝর্না হয়ে…
মানব পাপ গুহা পুড়িয়ে দাও
সূর্যের আগুন জিহ্বায়।

বেদনা-বাসনা-চাওয়া-পাওয়া কুড়িয়ে..
পুণ্যের গোলাপজাম বিশ্বে ছড়িয়ে দাও।
উষার আলো হতে গোধূলির….
আদি-বর্তমান সভ্যতার কালো চিহ্ন।
পাখির ঠোঁটের ডগায় জ্যোৎস্না এনে
ভেঙে দাও ভেদাভেদ….
ভীত-পৃথিবীর নর জঞ্জাল।

রোগ-নির্ধন-জরার হে মালিক,
নির্মল শান্তি বৃষ্টিতে..
বিশের বাষ্পে আছে যত বিষ;
রক্ত বিষ সব ধুয়ে দাও…
তোমার রহমতের বর্ণমালায়:
আমরা নির্গুণ কানাগলি।

মোনাজাত শেষে গুটি গুটি পায়ে…
মেঘের ফেরেশতা মেঘে হেঁটে চলে যায় ;
হাতের মুঠো হতে অসীম অনন্ত-
থেকে অনন্তের টানে…
ছড়িয়ে সফলতার বীজ ধান!
আপন মনে, মানব লোচনে…
…………………………………………..

ধ্বংসের শেষে

পৃথিবীর ধ্বংসের অনেক দিন পর
বসুধার আগুন নীল নক্ষত্রে।
বঞ্চিত আত্মা- পিড়িতের দেবতারা এসেছে
গোলক ধাঁধাঁর পৃথিবীতে।
গোবর আর গোলাপজল ছড়াতে।
রজনীগন্ধার বর্ষন ,চন্দন ;
আবিল পৃথিবীর দুর্গন্ধ মুছে দিতে।
পিড়িতের দেবতারা নয়নচুলি দিয়ে
চিত্রশিল্পীর বুনানো বেদনা তুলে নিচ্ছে।
তুলতে ব্যস্ত অগনিত শিশুদের হাড়।

উদ্ভ্রান্ত আত্মারা তুলছে
শ্রমিকদের ঘাম মাখা খুলি।
অভুক্ত কোটি কোটি কঙ্কাল
মসনদের খাটুলিতে।
চাঁদ ঘুমিয়েছে নক্ষত্রের অনেক বছর আগে।
সূর্যের অবসরের অনেক দিন হলো।
বঞ্চিতের দেবতারা আলতো হাতে
মুঠো মুঠো ব্যাথিত কঙ্কাল তুলছে!
কাফন সমাপ্তির সহস্রাধিক শতাব্দী অন্তে।
মাথার ঘাম ঝরিয়ে দেবতারা
কালো কঙ্কাল প্রায়!কঙ্কাল কুড়োতে কুড়োতে!
…………………………………………..

প্রার্থনা

এসো হে আর্য- অনার্য- ইসলাম।
এসো কোল- ভিল-সাওতাল ।
এসো হে মুসলিম, হিন্দু খ্রিস্টান, ডাচ।
এসো হে মানবতা, নৈতিকতা সম্প্রীতি।
এসো হে আদিম ভার্তৃপ্রেম।
এসো কোরান, বাইবেল, গীতা,
এসো তউরত, জেন্দ আবেস্তা।

এসো হে আজান,
এসো হে মঙ্গল ধ্বনি,
এসো হে কাপালিক
এসো হে মানব,
পশুপাখি, সরিসৃপ।
এসো হিংসা, এসো এসো পাপ ।
এসো দস্যু, এসো কৃপন হিংসা
উজান সমুদ্রে ভাসিয়ে ।

এসো করোনা,
এসো আদিম রোগ ব্যধি।
হে মহান,হে মঙ্গল,
হে বিপদের মালিক।
আমরা জানু পেতে
শূন্যে ছুড়েছি হাত।
আমরা ভীত, আতঙ্কিত
বেমালুম জীর্ণ কালীদহে।
আমাদের এক করে ধর্মে বর্নে,
ফুটপাত -রাজ পথে
এক করে দাও।

মুছে দাও দাঙ্গা, হিংসা।
ছড়িয়ে দাও নিখিল বিশ্বে
সুস্থতা,মানবতার চিরকুট।
অট্টালিকার মাঝারে,
ফুটপাতের কিনারে।
এসো হে মঙ্গল,
এসো হে করোনার প্রভু
শান্তির বাতাস হয়ে
পৃথিবীর আকাশে বাতাসে।
অনেক অনেক কেঁদেছি।
ফিরিয়ে দিওনা আর।
এসো আলোয় আলোকিত
অহিংসার সূর্য হয়ে।
আলো নিয়ে ,ভালো নিয়ে এসো
এসো হে মঙ্গল।
…………………………………………..

মুচির বেদনা

স্বর্গ গত শ্রদ্ধাস্পদ দামু দাস (ভরতপুর)। প্রান প্রিয় কাকা তেঁতুল দাস ও মানিক দা(পলাশী)। সর্বোপরি বিশ্বের প্রতি টা মানব দরদী মুচি ভাইদের স্মরণে।

কাকও তখন দাঁতে কাঠি দেয়নি।
মানিক-তেতুল-দামু মুচি;
বাক্সহাতে পলাশীর কাঠাল তলায়
জুতো সারতে বসে।
খুরপি- পিনচার-ভর্মা -লৌয়ি-
কাচি বুরুশ -সুতুরি আরো কত কী হাতে।
দিন এনে পান্তা খায়,সূর্য উদিত হয়ে অস্ত যায়
মুচিদের জীবন রেখায়।
সভ্যতার আদিম নোংরা-জুতো।
শরীরের মগজে বাসা বাধে ভয়ানক ক্যান্সার।

খুরপি হাতে দামু দাস সুর তোলে-
“দীন দয়াআলরে একি তোরখেলা।
ভর্মাতে পা দেয় আমির-দুলাল।
ছেঁড়া জুতো নিখুঁত পালিশ করে।
গ্রিষ্ম- বর্ষা-শীত,বসন্তের প্রেম ফেলে
জুতোর রোগ সারায়
পৃথিবীর কোনায় কোনায়।

সারাদিন ভর্মাতে জুতো রেখে হাতুড়ি চালায়।
পিনচারের খোচা দিয়ে
নতুন সুপতলা লাগায়।
বেলা চলে যায় আপন বাঁসায়।
পেটের ছুঁচো মুচির মেদিনী কাঁপায়।
ক্লান্ত শরীর সামান্য আরাম চাই।
অত কেন -নাউ দু টাকা
সামান্য জুতো সারাতে কি
পকেট করবো ফাকা।
প্রতিবেশি দোকানি দ্যাখো টাকার হাঙা দেয়।
মুচি কে দিতে চোখ ট্যাটাই।

বৃদ্ধ দামু আসে
ভালোবেসে হাটগোবিন্দ পুর।
জুতো সারতে পাড়ার মোড়ে বসে
ঝড়-বাজ-বৃষ্টি ,মাথায় আগুন রেখে
বাড়ি যেতে রাত হয়ে যায়।
তিন বছরের ছেলে কাঁদে খিদের
জ্বালায়।
রাত ঘনিয়ে আসে।
কত কথা মনে পড়ে স্মৃতির বারান্দায়।
নাঃ পরিবার নয়।

মুচির বেদনা চোখ বেয়ে
জল-স্থল-আকাশ ভাসাই।
ক্লান্ত পিনচার
মমতার আলতো ছোয়ায়,
মুচির চোখ এঁটে দেয়।
প্রতিদিন রাত্রি গভীর হলে
মুচির দেবতারা আসে।
ক্লান্ত শরীর ফুলে সাজিয়ে!
নিভন্ত শরীরে নতুন
আলাদিনের প্রদীপ জ্বালিয়ে,
শক্তি দিয়ে চলে যায়।

আবার সকালে ঠকঠক, টুংটাং।
দামু-তেতুল আর মানিক দা
জুতো সেরে রঙ চটা পৃথিবীকে
রঙের বাহারে সাজায়।
পৃথিবীর স্বাধীনতার
আজ অনেক বছর হলো!
নবাবের স্বাধীন বাগানে
মুচি আজো পরাধীন -বেরঙিন!
…………………………………………..

মহাদেব হালদার
“সবার প্রিয় ,প্রয়াত প্রান প্রতিম ঠাকুর দা মহাদেব হালদারের ( বড় চাঁদঘর) স্মৃতির উদ্দেশ্যে।”

চৈরেবতী চ।

শোলার বান্ডিল বাকে বাঁধে।
খ্যাপলা, লগি খারুই হাতে
মহাদেব খুব ভৌরে ঝমঝম শব্দে
মানুষ -পশুপাখি জাগিয়ে,বাড়ি ছেড়ে
ভোমরার বিলে যায় জমাদারের মাছ ধরতে।
শোলার ভেলা সাজিয়ে,
মাল কোঁচা মেরে লগি পুঁতে
জাল হাতে জলে নামে।
লোগি তোলে চলে যায় মাঝ দরিয়ায়।

লগি পোঁতে, বাগিয়ে খ্যাপলা ফেলে।
ছোটো বড় মাঝারি মাছ
জালে কানামাছি খ্যালে।
গরিবের হেট হওয়া মুখ
গগনে আনন তোলে।
একটু সুখেই চোখে আসে জল ভরে।

ঝুঁঝকি মাথায় বাসি পেটে।
অনাহার পরিবারের দায়ভার
কাধে নিয়ে বৃদ্ধ মহাদেব,
জলের গভীরে লগি পুঁতে।
পুব মুখে জাল ফ্যালে।
বৈশাখের দানব মেঘ তাল
খেজুর আম কাঁঠালের গন্ধ উড়িয়ে
সূর্যের আলো নিভিয়ে দিয়ে
ভোমরার কালো জলে
কালো ছায়া ফ্যালে।
মহাদেব মনের সুখে
ভাটিয়ালী সুর তোলে-
“আমায় ডুবাইলি রে আমায় ভাসাইলি রেএএ।
অকুল দরিয়ায় বুঝি কুল নাআইই রে”!

হঠাৎ চোখ ম্যালে পশ্চিমে।
কালো মেঘ-উন্মত্ত বৈশাখী ঘোড়া ছুটিয়ে;
ধেয়ে আসে প্রকৃতির কোলে।
কেঁপে কেঁপে ঝড় ওঠে বাজ পড়ে।
ঝমঝম বৃষ্টি ভৌমরা ভাসায়।
ক্লান্ত চাষিরা দ্রুত ঘরে ফিরে যায়।
মাছরাঙা মাছ নিয়ে চলে যায় অজানাই।
মহাদেব ভয়ে তল্পি- তল্পা গোটায়।
ঝড়ে পড়ে যায় শোলার তলায়।
আশার আলো নিভে যায় খনিকের মরিচিকা হয়ে।
জীবনের বাজি রেখে
মৃত্যুর কড়া নাড়ে মহাদেব হালদার।
শীতল বাতাসেও শরীর ঘামে।
ভয় উৎকন্ঠা ফুসফুস কাপিয়ে তোলে।

অনেক অনেক জীবনের মুখে
অন্ন তুলে দিতে হবে।
তলিয়ে যায় জলের গভীরে
তবুও
খারুই – জাল ধরে থাকে শক্ত হাতে।
কোনো এক অজানা টান সাহস জোগায়।
স্বপ্ন নিশ্বাস ফেলে যায় ভেলার তলায়।
বিশ্বের খালে বিলে শত শত
ধূলো মাখা মহাদেব মাছ ধরে যায়।
যুগে যুগে কাদা মেখে লগি ঠ্যালে।
জাল ফেলে মাছ ধরে বসুধা বাচায়।
…………………………………………..

লাল থান

নারী পরিয়ে দিয়েছে
সধবা পুরুষদের বৈধব্যের লাল থান।
সুস্থ শরীরে মিশিয়ে দিয়েছে
বিষাক্ত যন্ত্রনার কালো গ্রেনেড।
ইরান-তেহেরান ইংল্যান্ড
পেরু-চিলি-নরওয়ে পেরিয়ে
ভারতের রাজপথে।
তিরিশের কর্তব্য ধুকতে ধুকতে
কাকের পেটের মতো খসখসে।
বেরঙিন পেট ফুলে ঝরে গেছে।

ছলনার তরবারি ছিঁড়ে দিয়েছে
পুরুষ অস্তিত্বের সুক্ষ নেফ্রন।
বাস্তব – পথ ভুলে চলে গেছে
ঘোড়ার খুরের মতো বার্মায়,
দিশাহীন পাগলের দেশে।
প্রেমের বেইমানি
ভরসার বোতামখুলে উড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বাস
আকাশে- বাতাসে আগুনে-নেপচুনে।
যন্ত্রনার জলীয় বাষ্প সজারু হয়ে
উসকে দিয়েছে মৃত্যুর ক্যেরিয়ার।
চড়ুই বেঁধেছে বাসা দোতলায়,
আড়ি দিয়ে কুল গাছ কে।
মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পারেনি ফেরাতে,
নিউটনকে পৃথিবীর পথে ।

নারী- ধর্ষণ করতে করতে কক মুরগির মতোই
নিস্তেজ করে দিয়েছে অব্যক্ত পুরুষ হৃদয়,।
ফুজিয়ামার লাভাতে, নৈরাশ্যের ছায়াতে।
স্বপ্ন নিয়ে এসেছে স্বপ্নেরই দেশে,ঐ বারান্দার নীচে ।
পরনে লাল থান ,
হিজিবিজি কাগজ হাতে।
কাগজ খুজতে খুজতে তিরিশ
হারিয়েছে কাগজের ভাজে।
সমাজ কে ছুড়ে দিয়েছে,
নির্বাক, নিস্তব্ধ বিবেক।
…………………………………………..

ব্যর্থ নাবিক

আমি বাংলার নবাব,
শুনতে পাচ্ছেন আপনারা।
আমি ভালো নেই মোটেই।
নিশুতি রাতে প্রত্যহ ঘোড়া ছুটিয়ে
রক্তবর্ণ পোশাক পরে
আমি পলাশীতে আসি।
পলাশী আমার স্বপ্নপূরী।
যেথায় পলাশে পলাশে
বাতাসের ঘ্রাণ লেগে দূরে বহুদূরে
শান্তির আতর মাখে , নীল পরি লাল পরি
চোখে ঠোটে।

আমি লাঠি ঘুরিয়ে, শীতে কেঁপে কেঁপে,
বর্ষায় ভিজেও বাগান আগলায়।
ওখানে একটা সৌধ বানিয়ো।
মুসাফির শূন্য হাতে ব্যর্থ হয়ে,
চোখে মুখে গ্লানি নিয়ে
নিরাশ মুখে ফিরে যায়।
তখন পাতায় পাতায় ডালে ডালে
পাখির ডানায় অনাদি বিরহ
ভুবন কাঁপিয়ে বিষাদ ছড়ায়।

জানো সত্যি বলতে কী
হীরে- জহরত ,মনি -মুক্তা
সোনা-দানা কিছুই চাই না।
মালিকে বলে দিয়ো
মীর মদনের কবরে য্যানো
প্রতি দিন জল দিয়ে লাখো লাখো
শাশ্বত মদন তৈরি করে।
যুদ্ধে পানি পানি করে
হাপিয়ে উঠেছিল বেচারা।
তোমরা এখনও ঘুমোচ্ছো?
আমি সত্যি বলছি ,হারতে আমি চাইনি।
ভারতের সূর্য নিভে যাক
এও আমি চাই নি।

আজ তিনশো টা বছর আমি ঘুমাতে পারিনি
এক বুক ব্যথা নিয়ে।
আমি রোজ সকালে আম তলায়
ঘাসের বিছানা পেতে নীরবে কাঁদি।
তোমরা তো গরু দিয়ে
ঘাস গুলো খাইয়ে দাও তাই।
আমাবস্যার রাতে যখন
প্রসব বেদনায় মা হাহাকার কোরে
বাতাসে বেদনা ছড়ায়,
তখন আমি নদীর ধারে বসি।
যাদের রক্তে নদীর জল লাল হয়েছিল
তাদের সাথে যন্ত্রনার মুনাফা ভাগ করি।
জুতো পরে হাঁটলে ওদের বুকে ব্যথা লাগে ।

ভাগিরথী যখনই তুমুল ঢেউ তুলে
শহিদের রক্ত ছড়িয়ে দ্যায় তামাম দুনিয়ায়।
যন্ত্রনার বানী শোনায় পৃথিবীকে।
তখন আমি একগাল হাঁসি।
আমি বেঁচে আছি ঐ জলের ভিতরে।
যুবকের স্বপ্নে আমি জেগে আছি।
মাঝী মাল্লার গান হয়ে বেঁচেআছি।
আর হ্যাঁ পলাশীতে
একটা ফুলের বাগান করে দিয়ো।
যেথায় হিন্দু মুসলিমডাচ-ওলন্দাজ
মিশে গ্যাছে সূর্যেরো ওপারে।
লাল গোলাপে শহিদের রক্ত দেখে
আমি শান্তিপাবো,ভীষণশান্তিপাবো ।
বিপন্ন মানবতার আমি,পাল ছেঁড়া নৌকার
আমি ব্যর্থ নাবিক।
…………………………………………..

চুউপ! দেখছেন না নাটক হচ্ছে

নাটক শুরু হয়েছে।
দুস্থ গ্রাম ,পঞ্চাশের আকাল।
বাটি হাতে নিরন্ন,
ভুখা মানুষের মিছিল।
ঘরে ঘরে অভাব।
এক ছিলিম বিষ খওয়ার
ঔষুধ নেই।

ঘরে ঘরে জীবন্ত লাশ।
কালো বাজারি দের ঘুম নেই।
গাঁয়ের চাকরি জীবি,
নাড়ি টেপা ডাক্তার
তিন টাকার ঔষুধ
তিনশো টাকায় ব্যাচে।
তিনটে লাশে মাছি বসেছে।
চারিদিকে মানুষ, জন্তুর হইচই।
চুউপ,
দেখছেন না নাটক হচ্ছে।

নাটক হচ্ছে পাড়ার মোড়ে।
গ্রামের কেলুম চাচা খাটতে খাটতে
শরীর পানি করে ধান এনেছে।
জমিদার- জোতদার ছড়ি ঘুরিয়ে
কেলুমের রুজি নিয়ে যাচ্ছে ঘরে।
উচ্চ শিক্ষিত বেকার দের
ধরে ধরে অপমান করছে,
ঘুষ দিয়ে চাকরি পাওয়া লোকটা।
মধ্যবিত্তের কান দিয়ে
তেঁতো ধোঁয়া বেরোচ্ছে
সংসার সমুদ্রে ডুব দিয়ে।

তখনকার ইউরোপ,
নাটক হচ্ছে।
সাহারার কালো ক্রিতদাসদের
নাকে দড়ি দিয়ে হিঁচড়ে টানছে।
সুদানের ছবি-
অভুক্ত লাখো লাখো মানুষের
দুশো ছটা হাড়
ভয় দ্যাখাচ্ছে!

নাটক নাটকীয়তার চুড়ান্তে ,
তামাম দুনিয়া এখন বাটি হাতে
খৈ দৈ খেলে প্রান ভিক্ষা চাইছে।
1914-1939 এর সেই ইউরোপ
এখন ক্রেনে করে লাশ তুলছে।
ইতালি-স্পেনর্জার্মানী-আমেরিকা
করোনা ঝড়ে নৌকায় দুলছে।
প্রকৃতি তুলেছে ঝড় প্রতিশোধের।
হিরোশিমার জাপান এখন
নিরাপদ কোয়ারেন্টিনে।
আমরা বঞ্চিত দর্শক।
হব স্বার্থক নতুন কোনো
অভিনয়ে সুযোগ পেলে।