স্বজন

এই শহরে এক স্বজনই জানে
কতটা উজাড় করে দিই বুকের সাহস– অনুগামী অনুভব
কতটা সজাগ চুমু ঢেলে দিই– মৌনতার আবেগে
এক সমুদ্র থেকে আরেক সমুদ্দুর
কাকে উৎসর্গ করে বলি– নিপা আপা পৌঁছে দিও ফুলগুলো

এই শহরে এক স্বজনই জানে
কেন ছিঁড়তে থাকি এক যাযাবরের জানাজার কাফন
কেন পোড়াতে থাকি প্রায়শ্চিত্তের অবশেষ
কার জন্য দগ্ধ রাতের শোভায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি ।

এই শহরে এক স্বজনই জানে–
কবে আমি পোষ্ট অফিসের নামে
লিখে দিয়েছি নীল আকাশ গোলাপি আকাশ
কবে আমি ল্যাম্প পোস্টের নীচে- অপেক্ষায় ভিজেছি সারারাত
কবে আমি বিরহের অর্গানে- করুণ কসম খেয়ে বলেছি
প্রিয় স্বজনেসু- তুমি আমার
তুমি আমার
তুমি আমার।
……………………………………………

যে হৃদয়

যে হৃদয় একটি ভালবাসার জন্য অনিবার্য
সে হৃদয় দখল করে নিক অনেক দিনের কাঙ্ক্ষিত প্রেম
খুঁজে নিক শূন্যতার ভিড়ে প্রিয়জনকে
চুষে খাক সমস্ত রোমাঞ্চ-

যে হৃদয় একটি ভালবাসার জন্য অনিবার্য
সে হৃদয় ভেঙ্গে দিক হিমাগারের মৌন, নির্বাক মৌনতা
ভেঙ্গে দিক অসহিষ্ণূ প্রতিক্ষারত রাত
ধমনীতে আনুক শিল্পিত প্রেম–

যে হৃদয় একটি ভালবাসার জন্য অনিবার্য
সে হৃদয় মুখোশ খুলে দিক ইচ্ছায় অনিচ্ছায়…
ঢেলে সাজাক এক বাটি দুঃস্বপ্নের স্বর্গ-

যে হৃদয় একটি ভালবাসার জন্য অনিবার্য
সে হৃদয় বাড়িয়ে দিক অকাতরে উৎসর্গে উষ্ণ দুটি হাত
পরিচর্যা করুক ভালবাসার ‘নিবিড় প্রয়জনতম’-
……………………………………………

অনিদ্রার কাঁটা

ইয়ে… মানে, ইয়ে…
ইয়ের একটা পত্র না পেলে
এলো পাথারি ভাঙতে থাকি
এন.জি.ও প্রীতির মত ছোট ছোট ভালবাসা
রাগে অভিমানে পুষ্টিহীন পথকলিদের
নাবিস্ক হাসিতে দেই ঘৃণিত লানত,
উদোম বগলে হা– পিত্যেশ জ্বালায়
কাঁসার বাটি বাঁজাতে বাঁজাতে চলে যাই
মার্কারি আলোয়… শেষ রাতের ওভার ব্রিজে…

ইয়ে… মানে, ইয়ে…
ইয়ের হাতে একগুচ্ছ ফুল না পেলে
ইচ্ছে করে ঘুড়ির সুতো কেটে রাখি
শখের লাগানো ভিন দেশী গাছ উপরে ফেলি
মধ্যরাতকে একফোঁটা ‘অশ্রুজল’
প্রেজেনট করবো বলে—
বালিশ ভর্তি ঘুমে অ্যালার্ম দিয়ে রাখি,
শীতের পূর্ণিমায় লোকাল ট্রেনের ষ্টেশনে
পাথর ছুড়ে ছুড়ে ঢিমে তালে হাটতে থাকি,
সেফটিপিনে আটকে থাকে ভালোবাসার সার্টিফিকেট–

ইয়ে… মানে, ইয়ে…
ইয়ের হাসিতে ‘ওয়েলকাম’ না শুনলে
বাদরের মত মত ঝুলতে থাকি কার্নিশে,
পরস্পরের ল্যামিনাতেদ ছবি গুলি
এক এক করে ছিঁড়তে থাকি,
অমীমাংসিত ঢেউয়ে ফেরারি হয়ে ডুবতে থাকি ক্রমাগত-
বেনারশি রংধনু, রেশমি তাঁরার মিছিল
বরাদ্ধ করি আগুন চাঁপা সুখে–
যথারীতি রিহারসেল দিয়ে অ্যানাউন্স করি
দর্শক বৃন্দ ! সবিনয় বলছি–
স্যানাপ নেওয়া আকাশের ঐ বিজলীটা আমার ছিল
উড়ন্ত ঐ সোনালী রোদের চিঠিটা আমার ছিল
আর এখন, এই গায়েবী জানাজায়
ঐ সাদা বৃষ্টিটাও আ মা র…
……………………………………………

কষ্ট পেলেই

এ হৃদয়ে কষ্ট পেলেই ছুতে যাবো আমি
তুমার কাছেই…
হরিণী দুচোখ মেলে
যদি চেয়ে দেখো একবার লাবন্যের শোভনে
ছল ছল করে অশ্রু ঝরাবো ভালবাসার উপমা দেখে
ঐন্দ্রজালিক গানে পরমাত্মীয় হবো…

এ হৃদয়ে কষ্ট পেলেই ছুতে যাবো আমি
তুমার কাছেই…
ঘৃণায় থুথু দিবে
অমেয় প্রেমিকের মত তা আতর বানিয়ে রাখবো
দগ্ধ ঘাসে ভালবাসার তাজমহল বানাতে না পারলেও…

এ হৃদয়ে কষ্ট পেলেই ছুতে যাবো আমি
তুমার কাছেই…
শুধু একবার স্পর্শ দিবে আমায় বিরতিহীন অনুভূতিতে
সুখ সজ্জিত শয়ন হয়ে থাকবো আনন্তকাল…
……………………………………………

তোমার ইচ্ছাতেই

তোমার ইচ্ছেতেই হাত ধরেছি – টেনেছি কাছে
তোমার ইচ্ছেতেই বাংলো বাড়ির
ভাল লাগা দিন কাটছে…
তোমার ইচ্ছেতেই নিল হ্যারিকেন
জ্বালিয়ে রাখি রাতের রোমাঞ্চে…
তোমার ইচ্ছেতেই যত্ত সব উঁকি ঝুঁকি
স্পর্শের টানাটানি…
তোমার ইচ্ছেতেই নিল আকাশ নিল জল
রকমারি মুক্ত দেখা…
তোমার ইচ্ছেতেই সমুদ্রের কাছে বসা
ঝর্ণা জলে গাঁ এলানো…
তোমার ইচ্ছেতেই অস্রুপাত, হাসি
আনন্দের ধারাবাহিকতা…
তোমার ইচ্ছেতেই ভালোবাসার ভেতর ভালোবাসা
কষ্টের ভেতর কষ্ট পুষি…
তোমার ইচ্ছেতেই রঙিন স্বপ্নে
রঙের ঢালাঢালি…
তোমার ইচ্ছেতেই কখনো চিত হয়ে শুয়ে থাকা
তোমার কোলেই…
তোমার ইচ্ছেতেই
অসংখ্যবার চিৎকার করে বলা
বড্ড ভীষণ ভালোবাসি…
বড্ড ভীষণ…
……………………………………………

নৈঋতে তাণ্ডব

আমাদের নিরন্তর একমুঠো প্রেম নিংড়ানো ‘অপূর্ব বন্ধন’
কখনো কাপুরুষতায় পিছুটান হলে…
ঘৃণিত একেকটি পাথর হবে বিশ্বজোড়া স্মৃতি সৌধ,
বাক্স ভর্তি সিডাক্সিন- নার্স–সিস্টার্সরা
এক এক করে গিলে গিলে এইচ.ডি চ্যানালের
স্টার ক্রেজ যুগল প্রেমিকাদের শিখাবে সুইসাইড,
ধর্ম বিদ্ধেষী সেনাবাহিনীরা
শৃগাল দাঁত ফুঁটাবে কুমারিস্তনে…,
বুদ্ধিজীবীদের মধ্যাহ্ন ভোজে থাকবে অভিশপ্ত পোকা মাকড়
ভেনিজয়েলা-রাসিয়া-আমেরিকায়
ক্লোনিং হবে ভূত প্রেত্নির পিরীতি,
নিছক ভালোবাসার নামে আলিঙ্গনের শহরে
বেশ্যা বৃত্তির ক্ষুধা বেড়ে পৃথিবীর হবে অন্তিম দশা…

আমাদের নিরন্তর একমুঠো প্রেম নিংড়ানো ‘অপূর্ব বন্ধন’
কখনো কাপুরুষতায় পিছুটান হলে…
সাত হাজার যাত্রীসহ জাহাজ ডোবে যাবে
ভারত মহাসাগরের অথৈ জলে–
জাতিসংঘের সমগ্র দেশ সম্মিলিতভাবে
ভাড়া দিবে জারজ মেয়ে…
কয়েক জোড়া জুতো বগল দাবা করে
ঘোটকরা ভুলে যাবে বিয়ে ব্যাবসা…
বি.বি.বি.সি.র রাজনীতির খবর শ্রোতাদের
প্রাণ দিতে হবে দাসত্তের কারাগারে …
কবিরা গ্রাস করবে আগুনের দুর্ভাগ্যের ছাই
কল্যাণমুখী একজনও বলবে না
‘’গড ব্লেস আওয়ার ওয়ার্ড“
‘’গড ব্লেস আওয়ার ওয়ার্ড“…
……………………………………………

কাঠগড়ায়

ইউর ওনার-
“যাহা বলিব সত্য বলিব
সত্য বলিব বৈকি মিথ্যা বলিব না“
ইউর ওনার-
আসামীর কাঠগড়ায় আসামি হলে- হবো
ফাঁশির রজ্জুতেও কার্পণ্য নেই আমার
তবুও বলবো ইউর ওনার-
বড্ড ভীষণ ভালোবেসে ফেলেছি তাকে
বড্ড ভীষণ…
ঠিক সূর্য যেমন পৃথিবীকে, বাতাস সমুদ্রকে-

বিশ্বাস না হলে এক্ষূনি অনুমতি দিন ইউর ওনার-
এক মুহূর্তের মধ্যেই কল্পিত পুলসেরাতের উপর থেকে
এক ঝটকায় স্বর্গীয় আকাশটা পেরে এনে দিবো তাকে
ত্রিসীমানায় এনে দেবো অতলান্ত প্রেম
ক্রমাগত মার্চপাসট করতে করতে চলে আসবে
অপ্সরীর উত্তেজিত হাতের তুড়িতে…
শুভ্র সুন্দর কফিনে আটকে রাখবো মৃত্যুর ধ্রুব
রপ্তানি করে দেবো নাইট শিফটের স্রমিকের কাছে

মনবেদনার ভূভাগ–হতাশার ব্যাকটেরিয়া

ইউর ওনার-
বড্ড ভীষণ ভালোবেসে ফেলেছি তাকে
বড্ড ভীষণ…
সত্যি না হলে এক্ষূনি অনুমতি দিন ইউর ওনার-
গ্রীন হাউস এফেক্টে বদলে দেবো নিষ্প্রাণ সাহারা
দিনদুপুরেই পল্টনে ডিনামাইটের বিষাক্ত গন্ধে ফাটাবো
একাকিত্তের অভিশাপ…
স্কারট ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে ছুঁড়ে নির্ভয়ে
কামরাঙা ঠোঁটে আনবো তরল নিঃশ্বাস,

ইউর ওনার-
বড্ড ভীষণ ভালোবেসে ফেলেছি তাকে
বড্ড ভীষণ…
ভালোবাসা যদি অপরাধ হয় ইউর ওনার
তাহলে তাই হোক- ফাঁশির রজ্জুতে
ঝোলানো হোক আয়ুষ্কাল
মাথা পেতে নেবো,
নতজানু হয়ে নিরুপায় হয়ে নিরন্তর সয়ে…
……………………………………………

অবজ্ঞায় আমি

যার সাথে কথা বলি- মনে হয়
ইহকাল পরকাল ব্যর্থতায় আছি
আহাজারি- হরিবোল –ধ্যানীঋষি…
বর্ধিত অভিশাপে আছি…
সূর্যের চিতায় অজ্ঞাত বসবাস আমার…
যার সাথেই পথ হাটি– মনে হয়
দিনের আহার বাসি পচা পন্তা খাই
শুন্য থালায় উপোষ যাই
জলতেষ্টায় সুরমা ধুলো
আলখেল্লায় ভিক্ষোপজীবী
গামছা গলায় ন্মস্তে নমঃ নমঃ…

যার সাথেই আনন্দ করি- মনে হয়
পানি পাত্রে মিশিয়ে দেয় খানিকটা বিষ
অন্ধকারে ডাকতে থাকে
আপদ মস্তক গিলতে থাকে
মনটা আমার মন থাকে না
ছ্যাবলামিতে চলতে থাকে মন্ত্রপাঠ উলুধনি…

যার সাথেই সম্পর্ক চাই-মনে হয়
জল্লাদের মত উৎ পেতে
আমার শ্রাদ্ধ খেতে আসে,
মুদ্রা দোষে পুড়তে থাকে
ঘর মাঠ ভিতর অন্তর-
নন্দিত পেখম ছিঁড়ে ফেলে নিষ্ঠুরতায়
পোয়াতি ক্যাকটাসের মত দাড়িয়ে থাকে,
প্রবঞ্চনায় কাঁদতে থাকে
আমার ভা–লো–বা–সা…
……………………………………………

অপেক্ষা

বাড়িয়ে দিয়েছি হাত
স্বপ্নের রঙিন ভালোবাসার প্লাটফর্মে
যদি কেউ এসে দাড়ায়
অথবা মিহিন ফুলের পাপড়ি ছিটায়-

ছুঁয়েছি ইলাষ্ট্রেড ভাবনা
নিদ্রা অব্যহিত স্নায়ূকোষের অনুভবে
যদি কেউ বাঁজায় নূপুর দুপায় ঘুঙুর
অথবা শরীর পাতানো সমুদ্র বালিতে নাচায় দুপুর-

সাজিয়েছি অঙ্গদখানি নন্দনসমেত
ম্যজিক্যাল আকর্ষণে অপগত যৌবনে-
যদি কেউ সাজায় বিপুল ভালোবাসায় স্বপ্ন কুঁড়ি
অথবা উড়ায় ঝরা পাতায় সুতোহীন ঘুড়ি–
……………………………………………

অনন্য উষ্ণতা

তোমাকে ভালবাসলেই …
আমাকে দেবদাস কিংবা পার্বতী হতে হবে
নিষ্ক্রিয় বেহালায় বাঁজাতে হবে সুকরুন সুর
মুহূর্তের মধ্যেই ভুলে যেতে হবে
স্বপ্নপরীর রাজা রানী
এমন তো কথা নেই…

তোমাকে ভালবাসলেই …
ধারাবাহিকতায় হাতের মুঠোয় ভোরে দিতে হবে
সুখের মুদ্রা – একরত্তি প্রেমাত্মা –পূর্ণিমা মিশ্রিত পত্র
এমন তো কথা নেই…
তোমাকে ভালবাসলেই…
তৃষিত শ্বাসে করবির ছায়ায়
ভালোবাসা নামক একটা অসুখ
শুইয়্যে রাখতে হবে সর্বক্ষণ
সকাল -দুপুর-সন্ধ্যা বেলায় বলতে হবে
তুমি সুন্দর তুমি অপূর্ব
এমন তো কথা নেই…
তোমাকে ভালবাসলেই…
কৌতূহলে ঘণ্টা ধরে দেখতে হবে
থিয়েটার কিংবা ম্যাটিনী শো
দু’ ব্যাডের একটাতে অল্প সল্প
যত্ন বিলাস আনতে হবে
এমন তো কথা নেই…
তোমাকে ভালবাসলেই …
রাবনের চিতা জ্বেলে জ্বেলে
পোড়াতে হবে অসমাপ্ত আদ্র চুমো
বিশাল আতঙ্কে কষ্টের কাঁটা
গিলে খেতে হবে এক নিঃশ্বাসেই
এমন তো কথা নেই…

আমি চাই মৌনতাহীন স্বর্গীয় প্রেম
ভালোবাসার তড়তড় ঢেউয়ে
কিংবদন্তীর অনন্য উষ্ণতা…