The collected works of Billy the kid এর অংশবিশেষ

মাইকেল ওনদাজ্ Michael Ondaatje, মূলত কানাডার একজন শব্দকর্মী। ওঁর লেখাপত্র কারও কারও কাছে কবিতা মনে হতে পারে, কারও কাছে তা writings, আমার কাছেও। গুলি চালানো আর লেখা কোথাও গিয়ে একাত্ম হয়ে আসে মাইকেলের শব্দভেদী বাণে, অথবা রাতে মরুভূমির জড়ানো কন্ঠের লোকগাথা, যেসব পাখি তপ্ত বালির সমুদ্র পেরোতে গিয়ে পারেনি, ডুবে গেছে বালিতে, তাদের রাত্রিকালীন হাড় ও ফিসফাস। “The collected works of Billy the kid” এমনই রক্ত হিম করা একাকী কাব্য সন্ধান। আপনার বাসার মেঝে কি কাঠের? অথবা নিচটা ফাঁপা? তাহলে এই বইটি না পড়াই ভালো। অনিদ্রা রোগ হবে।।
সৃজনানুবাদ: ইন্দ্রজিৎ রায়

এক।।

এঞ্জেলা ডিকিনসন্ কে চেনো?
টাক্সানের মেয়ে, লম্বাআ
লম্বাআ ঠ্যাংগুলো
আশির দশকের নর্তকিদের
মত একটা হাবভাব-

সেই এঞ্জেলা, পাগুলো কামিয়ে, মসৃণ
করে ফেললো, আর কেবলই বলে
ওরে বিলি রে, পারবি না তুই, আমি
অনেকটাই লম্বা তোর থেকে।
কিন্তু আমরা হেঁটে চলে ঘুরলাম
কিছুদিন, বোতল কিনলাম
দুটো চারটে, এঞ্জেলা
কিছু বলতো না, বোতলগুলো
হাতে নিতো, আর দূর
থেকে ওর মসৃণ উরু, আমাকে
চোখে চোখে রাখতো।

একদিন, টাক্সানের সেই ঘরে
হাঁটুর ওপর টোকা দিতে দিতে
ডাকলো, এই যে, এদিকে, এদিকে-
তাকাতেই, মসৃণ প্রজাপতির
ফাঁদ, একটা আস্ত প্রজাপতির মত
হয়ে যাচ্ছি কখন, এঞ্জেলা,
বালিশে ঠেসান দিয়ে, কালো
চোখে তাকিয়ে। এই যে, এদিকে
এসো। এসো বলছি। পা
দিয়ে, প্রজাপতি ধরা এঞ্জেলা।।

দুই ।।

এই বূট্ পাহাড়ে, চারশোটার মত
কবর। ধরো সাত একড় জায়গা
সাকুল্যে। সদর ফাটক আছে বটে
তবে ওটা দিয়ে কেউ আসে
না তেমন, আগাছি বাদ দিলে।

শ তিনেক এখানে হিংস্রভাবে
মরেছে, দুইশো ধরো বন্দুকে, চাকু
ছুরি খেয়ে আরও পঞ্চাশ, আর
কিছু, যাদের রেলগাড়ির তলায়
ফেলে দেয়া হয়েছিলো। এই পদ্ধতি
খুবই জনপ্রিয় এদিকে।
শুঁড়িখানায় হাতাহাতিতে জনাদশেক, আর কিছু কাঁটাতারের
খোরাকি।

মাত্র দুজন মেয়েছেলের কবর আছে
এই বূট পাহাড়ে, দুজন, আত্মহত্যা
বলতে এরাই।।

তিন।।

ব্যবসা করবে বলে মার থেকে কিছু টাকা চেয়েছিলো এল্টি। পরে বচসার ফলে, মাকে ছররা বন্দুক দিয়ে আহত করে, পরে লজ্জা পেয়েছিলো এল্টি। তো যাক, মার টাকা দিয়ে দুটো কুকুর আর এক চিলতে জমি কিনে, একটা ফার্ম বানিয়ে তার ভেতরে ঢুকে পড়ে সে। কী যে তার ব্যবসা, তা ওর মা জানতেন না। এই শুরু হয়, যাকে বলে ইনব্রিডিং, ভাইবোন, কাকা ভাইঝি থেকে শুরু করে সমস্ত নিষিদ্ধ সম্পর্ক নিজের ফার্মে চাষ করে এল্টি। অথচ, জীবনে একটিও কুকুর সে বিক্রী করেনি। কিভাবে করবে? কারণ অসংযত, যথেচ্ছ রমণের ফলে, ওর কুকুরগুলো অদ্ভুত সব জীবে পরিণত হয়েছিলো। তাদের শরীরে হাড়মাংসের সামঞ্জস্য নাই, চোখগুলো বড় হতে হতে ফেটে যাবার অবস্থা, তারা সারাদিন থুম মেরে বসে থাকে, খাওয়া বা সঙ্গমের সুযোগ ছাড়া নড়ে না। কেউ জানতো না এল্টির এই খোদার ওপর খোদকারি, আর বিষ্যুতবার করে, শহরে আসতো এল্টি, দোকানবাজার করতো, তারপর বারে বসে খুব মদ খেতো আর গান গাইতো, তারপর ফিরে যেতো। ওর চল্লিশটি, উন্মাদ, রক্তপিপাসু কুকুরের কাছে।

লোকে জানলো যেদিন, এল্টিকে খেয়ে ফেললো ওরই সৃষ্ট রক্তলোলুপ, শ্লথ, কুকুরদের দল। শুধু ওর ডানহাতটা পড়েছিলো লালচে ধুলোতে, কব্জি থেকে, হাতে ধরা চাবুকটাকে কিছু করেনি কুকুরজাতীয় জীবগুলো। আর কিছুই অবশিষ্ট ছিলো না। হাতের মুঠোতে চাবুকটা কেমন কাত হয়ে পড়েছিলো, স্থবির ও হিংস্র জন্তুগুলোর মাঝখানে…